ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:
ব্রেকিং নিউজ

১২ জানুয়ারি ২০২২, ১৭:০১

নতুন বিধি-নিষেধ স্বার্থান্বেষী, না রাজনৈতিক?

23863_5555555.JPG
বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের নতুন ধরণ ‘ওমিক্রন’ দ্রুতবেগে ছড়িয়ে পড়েছে। মাত্রাতিরিক্ত আক্রান্তের সাথে সাথে প্রাণহানিও ঘটছে। এতে শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে সকল সেক্টরে। করোনাভাইরাসের টিকা মানুষের মৃত্যুঝুঁকি কমালেও শতভাগ নিরাপদ করতে পারছে না। বুষ্টার ডোজও চলমান আছে ষাটোর্ধদের। এমতাবস্থায় বিশ্বের অনেক রাষ্ট্র আবারো আংশিক কিংবা পুরোপুরি লকডাউনের দিকে অগ্রসর হয়েছে ও হচ্ছে। বাংলাদেশেও আগামী ১৩ জানুয়ারি থেকে ১১ দফা বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

কোনো কোনো দেশ আবার বিধি-নিষেধ আরোপ করে নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তবে পরিকল্পিত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিলে অনেকাংশে সংক্রমণ কমানো যায়, সেটা প্রমাণিত। আর যদি তা অপরিকল্পিত হয়, তা জনভোগান্তি ছাড়া আর কিছুই হবে না।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, গত কয়েকদিনে সংক্রমণের হার ৭ শতাংশ বেড়েছে। যা সত্যিকার অর্থে উদ্বেগের। তবে সম্প্রতি সরকার বিধি-নিষেধ আরোপের মাধ্যমে তা হ্রাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে সরকারের সেই পদক্ষেপ নানা দিক থেকে সমালোচিত হচ্ছে। কেননা, হাট-বাজার, শপিংমল, অফিস-আদালত, চলমান আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গন, রেস্তোরা পুরোপুরি খোলা রেখে শুধু রাজনৈতিক সমাবেশ, অনুষ্ঠানে সমাগম ও গণপরিবহনে আসনের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচলের নির্দেশ দিয়ে সংক্রমণ কতটুকু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে তা নিয়ে সমালোচনা ও সরকারের দোষারোপ চলছে।

তবে অনেক রাজনৈতিক দল দাবি করছেন, সরকার বিরোধীদের মাঠ থেকে সরিয়ে দিতে এই বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে। অন্যদিকে গণপরিবহনগুলো যাতে ভাড়া না বাড়ায় সেজন্য এরই মধ্যে যাত্রী কল্যাণ সমিতি বিবৃতি দিয়েছে।

বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত ‘মিট দ্যা রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআই-এর প্রেসিডেন্ট মো. জসিম উদ্দিন বলেছেন, দেশে লকডাউন দেয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি হয়নি। এখন লকডাউন দেয়া হলে অর্থনৈতিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্থ হবো। একদিকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি এমনকি বড় বড় অনেক ব্যবসায়ী বিগত লকডাউনের সময়ের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারেনি। তথাপি আবারো লকডাউন কিংবা সেরুপ কোনো পদক্ষেপ চরম ক্ষতির মধ্যে ফেলবে দেশের মানুষকে।

এছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থায়ও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দীর্ঘ মেয়াদে। কারণ বিগত সময়ের ঘাটতি এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি শিক্ষার্থীরা। সবেমাত্র এসএসসি পরীক্ষার ফলপ্রকাশ হয়েছে এবং এইচএসসির ফল প্রকাশের অপেক্ষায়। করোনাকালীন লকডাউনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনো সকল পরীক্ষা গ্রহণ ও সেশনজট কমাতে পারেনি। এমতাবস্থায় জাতীয় বৃহত্তর স্বার্থে সার্বজনীন পদক্ষেপ নেয়াই বাঞ্ছনীয়। আবার সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা করোনা ছড়ানোর জন্য বিএনপিকে দায়ী করে বক্তব্য দেন তাও কতটুকু সংগতিপূর্ণ তা ভেবে দেখা দরকার। কারণ সারাদেশে সরকার দলীয় কর্মসূচীও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে সমানতালে। তাই করোনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার প্রবণতার অভিযোগ খন্ডাতে সরকারকেও সতর্ক হতে হবে। যেকোনো মূহুর্তে মৃত্যু সকলকে ছুয়ে যাবে, তাই বলে সংক্রমণকে ছেলেখেলা বা উপহাসের স্তরে নেয়া উচিৎ নয়। সুরক্ষিত করা হোক স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও জননিরাপত্তা। একই সাথে ক্ষুদ্রস্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে বৃহত্তর স্বার্থকে লালন করায় সবাইকে উদ্যোগী হওয়া সময়ের দাবি।