ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:
ব্রেকিং নিউজ

নিউজ ডেস্ক

১২ জানুয়ারি ২০২২, ১১:০১

তথ্য অধিকার আইনে পুলিশ তথ্য না দেওয়ায় তথ্য কমিশনের শুনানি

23841_3.jpg
সংগৃহীত
তথ্য অধিকার আইনে বাংলাদেশ পুলিশের থেকে তথ্য না পাওয়ায় মঙ্গলবার আবেদনকারী সাদ হাম্মাদির অভিযোগের শুনানি করে তথ্য কমিশন।

গত ৭ই জুন ২০২১ লেখক, গবেষক এবং মানবাধিকারকর্মী সাদ হাম্মাদি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের পর থেকে এই আইনে প্রতিবছর দায়ের করা মামলার সংখ্যা, অভিযুক্তদের সংখ্যা এবং গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের সংখ্যা এবং জানুয়ারি থেকে মে ২০২১ সালের মাসভিত্তিক সংখ্যা জানতে চান।

যেহেতু তথ্য অধিকার আইনের ধারা ৯ এর ১ এবং ২ এ প্রদত্ত সময়সীমা অর্থাৎ অনধিক ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা তথ্য প্রদান করতে ব্যর্থ হয়, সাদ হাম্মাদি গত ১৮ই জুলাই ২০২১ পুলিশ মহাপরিদর্শক বরাবর আপিল আবেদন করেন।

আইনে প্রদত্ত আপিল আবেদনের পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করার বিধান থাকলেও, কোনো জবাব না পাওয়ায় সাদ হাম্মাদি গত ১০ই আগস্ট ২০২১ তথ্য কমিশন বরাবর বাংলাদেশ পুলিশের থেকে সময়সীমার মধ্যে চাহিত তথ্য না পাবার কারণে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ একটি যুগোপযোগী, জনবান্ধব আইন, যা কর্তৃপক্ষকে তথ্যের মাধ্যমে জনগণের নিকট জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার সুযোগ করে দিয়েছে।

এই আইনের মূল উদ্দেশ্যে এবং প্রেক্ষাপটে বলা আছে যে, তথ্য প্রাপ্তির অধিকার চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

যেহেতু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে ব্যাপক যথার্থ এবং প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা এবং সমালচনা রয়েছে, একজন লেখক, গবেষক, মানবাধিকার কর্মী এবং সর্বপ্রথম বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমাকে এই আইনে যতটুকু অধিকার দেয়া হয়েছে আমি সেই অধিকার বলে তথ্য অধিকার আইনে একটি আবেদন করেছি। সেই আবেদনের তথ্য আমি পাইনি।”

শুনানিতে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার তাইফুল সিরাজ। তিনি বলেন, যেই তথ্যসমূহ জনাব সাদ হাম্মাদি জানতে চাচ্ছেন বা উনি যে তথ্যগুলো জানতে চাচ্ছেন এগুলো হচ্ছে- “হাইলি সেন্সিটিভ”।

তিনি প্রশ্ন করেন সাদ হাম্মাদি কেন শ্রীলঙ্কাতে বসে এই তথ্য জানতে চাইছেন এবং বলেন- উনার মধ্যে কি ম্যালাফাইড ইন্টেনশন আছে কিনা এটা আসলে তার কাছে পরিষ্কার না।

ব্যারিস্টার তাইফুল সিরাজ বলেন, সাদ হাম্মাদিকে এই ইনফরমেশনগুলো দেয়া হলে তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ এর ধারা ৭ এর চ-অনুযায়ী প্রচলিত আইনের প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত হইতে পারে অথবা অপরাধ বৃদ্ধি পাইতে পারে।

শুনানি শেষে প্রধান তথ্য কমিশনার মরতুজা আহমদ আগামী ২রা ফেব্রুয়ারি আদেশের দিন ধার্য করেন। তথ্য কমিশন থেকে শুনানি করেন প্রধান তথ্য কমিশনার মরতুজা আহমদ, তথ্য কমিশনার আবদুল মালেক এবং তথ্য কমিশনার সুরাইয়া বেগম।

উল্লেখ্য, সাদ হাম্মাদি একজন বাংলাদেশের নাগরিক, দক্ষিণ এশিয়ার মানবাধিকারকর্মী হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালনে তাঁর বর্তমান কর্মস্থল শ্রীলঙ্কায় অবস্থিত অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক অফিস।।