ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:
ব্রেকিং নিউজ

৩ জানুয়ারি ২০২২, ১৬:০১

সহিংস নয়, হোক প্রত্যাশার নির্বাচন

23514_10322.jpg
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের দাবিই হলো- জননিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার সমূহ নিশ্চিত করা। স্বাধীনতা উত্তর সময়ে নানা পট পরিবর্তন হলেও তা নিশ্চিত করতে পারেনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল ও শাসকগণ। দেশে নানা ধর্ম ও বর্ণের মানুষের মেলবন্ধন থাকলেও  স্বার্থ উদ্ধারে তা সময়ে সময়ে করা হয়েছে অস্থির। ফলশ্রুতিতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সম্মুখীন হতে হয়েছে সমালোচনা ও অঘোষিত শর্তারোপের শিকার। এতে দেশের আপামর জনতা চুকিয়েছে মূল্য।
 
বিদ্যমান নির্বাচন ব্যবস্থা, ক্ষমতাসীন সরকারের নীতি এই সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে এ পর্যন্ত এগারোটি জাতীয় নির্বাচন হয়েছে। প্রতিটি নির্বাচনের আগে ও পরে রাজনৈতক সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন অসংখ্য বনি আদম। তবে নিহতদের বেশিরভাগই সাধারণ পর্যায়ের মানুষ। যাদের কল্যাণে এ নির্বাচনের আয়োজন তারাই যদি প্রাণ হারান, তাহলে সেই প্রতিনিধি নির্বাচনের আয়োজনের অর্থ কি? এরকম নির্বাচন পদ্ধতি, যেখানে মানুষের  সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারছে না, তা নিয়ে কি কার্যকর ও অর্থবহ পদক্ষেপ দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে সর্বাধিক গুরুত্ব দাবি করে না?
 
১৯৯৬ সালের আগে দেশের জাতীয় নির্বাচনগুলো ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে হয়ে আসছিল। কিন্তু, নির্বাচনকালীন সরকারের প্রতি নির্বাচনের ফল নিয়ে শঙ্কা ও বিশ্বাসহীনতার ফলে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর দাবির প্রেক্ষিতে কেয়ারটেকার বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির প্রচলন হয়। এই প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামী সহ নানা রাজনৈতিক দল যুগপৎ আন্দোলন করে। ফলশ্রুতিতে ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। এরপর একই ধরণের সরকারের অধীনে ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। কিন্তু, ২০০৬ সালে আওয়ামী লীগ তৎকালীন কেয়ারটেকার সরকাররের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে নির্বাচন বয়কট করে আন্দোলনে যায়। এতে অসংখ্য হতাহতের ঘটনাও ঘটে। এতে রাজনীতিতে নেমে আসে আরো বেশি অস্থিরতা।  ছায়া সামরিক শাসনের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও শঙ্কায় কেটে যায় প্রায় দু’বছর, হয় রাজনীতির মেরুকরণ।
 
সবশেষে একই সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০০৯ সালের নির্বাচনে আবারো ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। এরপর থেকে দলীয় সরকারের অধীনে শুরু হয় নির্বাচন। কাজী রকিব উদ্দিন কমিশনের অধীনে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন  ও  কে এম নুরুল হুদা কমিশনের অধীনে ২০১৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ক্ষমতায় অধিষ্ঠি থাকে আওয়ামী লীগ। তবে এসব নির্বাচন সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে দেশীয় আন্তর্জাতিকভাবে আছে নানা বিতর্ক ও সমালোচনা। যা দেশের গণমাধ্যম ও প্রতিটি নাগরিকই প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে অনিয়মগুলোর কথা স্বীকার করে।
 
সবশেষ আগামী দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজপথ ও রাজনীতির মাঠ বেশ সরব হয়েছে বিগত কিছু দিন ধরে। এতে বিরোধী দলগুলো ও ক্ষমতাসীন দল কাজ শুরু করে  দিয়েছে। সহিংসতার ঘটনাও সামনে এসেছে।

অন্যদিকে  জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতি  নিবন্ধিত কিছু রাজনৈতিক দলের সাথে মতবিনিময় শুরু করেছেন। এরই মধ্যে বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সহ কয়েকটি দল এই সংলাপকে অর্থহীন ও সরকারকে প্রতারণার সুযোগ করে দেয়ার কথা বলে বয়কট করেছে। ফলে রাজনীতির  আকাশে আবারো কালো ছায়া নেমে আসার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। যেখানে বলির পাঠা হবেন দেশের নিপীড়িত অনেক মানুষ।

এমতাবস্থায় সকল পক্ষকে সহানুভূতিশীল হওয়া ও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে উদারতা দেখানোর সময় এসেছে। আর তা যদি না হয় তাহলে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের মতো কিংবা নির্বাচনকালীন বিভিন্ন সময়ে অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতার অভিজ্ঞতার মুখোমুখী হতে হবে। যা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের সাথে সাংঘর্ষিক হবে। পরিস্থিতির আগাম বিবেচনায় সংকট এড়াতে সকল পক্ষকে বিশেষ করে রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে রাষ্ট্রপতির উদ্যোগ যাতে প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সেই প্রক্রিয়া ও পদক্ষেপ নিবেন বলে সকল মহল প্রত্যাশা করে। আগামীর নির্বাচন হোক অহিংস, হোক প্রত্যাশার।