ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

১২ অক্টোবর ২০২১, ০৬:১০

প্রবাসী আয়ে ছন্দপতন

21151_444.jpg
রেমিটেন্স প্রবাহ
করোনা মহামারীর মধ্যেও রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ে চাঙ্গাভাব সৃষ্টি হয়েছিল। এমনকি আমরা এই খাত নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখতেও শুরু করেছিলাম। কিন্তু সে আশায় ইতোমধ্যেই গুড়েবালি পড়েছে। এমতাবস্থায় টানা চার মাস ধারাবাহিকভাবে প্রবাসী আয় কমেছে আশঙ্কাজনকভাবে। গত সেপ্টেম্বর মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবাসী আয় কমেছে ১৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ। আগামী দিনে তা আরও কমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রবাসী আয় এসেছে ১৭২ কোটি ৬২ লাখ ডলার। আর ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আয় এসেছিল ২১৫ কোটি ১০ লাখ ডলার। ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, মহামারি শুরুর পর বিমান যোগাযোগ বন্ধ হওয়ায় অবৈধ পথে আয় আসাও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সকল প্রবাসী আয় ব্যাংকিং চ্যানেলে আসতে শুরু করে। এতে প্রবাসী আয়ে নতুন নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। যা আমাদেরকে বেশ আশান্বিত করে। কিন্তু এখন যোগাযোগব্যবস্থা  প্রায় স্বাভাবিক হওয়ায় বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় আশা অনেকটাই কমে গেছে। সঙ্গত কারণে আয়ও কমতে শুরু করেছে ব্যাপকভাবে। আবার জনশক্তি রপ্তানির চিত্রও সুবিধাজনক নয়।
ফলে প্রবাসী আয়ে পড়েছে বড় ধরনের ভাটির টান। জানা গেছে, গত আগস্ট মাসে প্রবাসীরা ১৮১ কোটি ডলারের আয় পাঠিয়েছেন। আর গত বছরের আগস্টে এসেছিল ১৯৬ কোটি ডলারের প্রবাসী আয়। সেই হিসাবে আগের বছরের চেয়ে গত আগস্টে প্রবাসী আয় প্রায় ৮ শতাংশ কম। এ ছাড়া চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে প্রবাসী আয় কমেছে প্রায় সোয়া ৩ শতাংশ। জুলাইয়ে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ১৮৭ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের শেষ মাস জুনে ১৯৪ কোটি ডলার পাঠান প্রবাসীরা, যা দেশের সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকার মতো।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার মধ্যে সবার আয় কমলেও দেশে বৈধ পথে প্রবাসী আয় আসা বেড়েছিল, যার বড় একটি অংশ আগে মূলত অবৈধ পথে আসত। বিমান যোগাযোগ ও অবৈধ পথ বন্ধ থাকার ফলে সব আয় ব্যাংকিং চ্যানেলে এসেছে। এখন যোগাযোগ শুরু হওয়ায় বৈধ পথে প্রবাসী আয় আসা কমে গেছে। আগামী দিনে যা আরও কমে যেতে পারে। বর্তমানে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এলে অতিরিক্ত ২ শতাংশ প্রণোদনা দেয় সরকার। প্রথম দিকে এই প্রণোদনা রেমিট্যান্স আহরণে ইতিবাচক প্রভাব ফেললেও এখন সে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। প্রবাসীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বৈধ পন্থার চেয়ে অবৈধ মাধ্যমগুলোর ওপরই নির্ভরতা বাড়িয়েছে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সার্বিক রেমিট্যান্স আহরণের ওপর।
জানা গেছে, বিদায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে সব মিলিয়ে প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ২ হাজার ৪৭৮ কোটি ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ২ লাখ কোটি টাকার বেশি। এই আয় ২০১৯-২০ অর্থবছরের ১ হাজার ৮০৩ কোটি ডলারের চেয়ে ৩৬ শতাংশ বেশি। গত এক বছরে প্রবাসীরা যে পরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছেন, তা দিয়ে দেশে সাতটি পদ্মা সেতু বানানো সম্ভব। কিন্তু করোনাকালে প্রবাসী আয়ে যে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল তাতে এখন রীতিমত ভাটির টান পড়েছে। ফলে প্রবাসী আয়ের সুসময় ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।
সরকার বৈধ পথে প্রবাসী আয় প্রেরণকে উৎসাহিত করার জন্যই শতকরা ২% প্রণোদনা ঘোষণা করেছিল। প্রাথমিকভাবে তা কিছুটা ইতিবাচক প্রভাবও ফেলেছিল। তা বেশি দিন ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। প্রবাসীরা এখন তাদের অর্জিত অর্থ পাঠাতে অন্য মাধ্যমের ওপর নির্ভর করতে শুরু করেছেন।
এমতাবস্থায় জাতীয় স্বার্থে প্রবাসীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির আবশ্যকতা দেখা দিয়েছে। একই সাথে প্রবাসীরা যাতে অবৈধ পন্থার পরিবর্তে বৈধ পথে আয় প্রেরণ করতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন সে জন্য প্রণোদনা বৃদ্ধি সহ একটি প্রতিযোগিতার পরিবেশও সৃষ্টি করা দরকার। অন্যথায় রেমিট্যান্স প্রবাহে ছন্দ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না।