ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

১০ অক্টোবর ২০২১, ০৬:১০

অর্থনীতিতে টিকার প্রভাব

21102_V.jpg
চলমান করোনা মহামারী কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসলেও বৈশি^ক টিকাদান প্রক্রিয়া এখনো স্বস্তিদায়ক হয়নি। বিশ^ স্বাস্থ্যসংস্থা এ বিষয়ে বিশ^বাসীকে যে আশার বাণী শুনিয়েছিল তাও এখন পর্যন্ত বাস্তবতা পায়নি। ফলে বিশ^ পড়তে  যাচ্ছে অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টিকাদানে ধীরগতির কারণে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে বিশ্ব অর্থনীতি।
তারা  মনে করছেন, ২০২২ সালের জুনের মধ্যে যেসব দেশ ৬০ শতাংশ মানুষকে টিকা দিতে পারবে না, চার বছরে সেসব দেশের সম্মিলিত অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ১৯ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা (১৯.৭৮ ট্রিলিয়ন)। এ অর্থ ফ্রান্সের এক বছরের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির সমান। অর্থনৈতিক এ ক্ষতির দুই তৃতীয়াংশ হবে বিশ্বের উদীয়মান দেশগুলোর।
দ্য ইকোনমিস্টের ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশি সংখ্যক মানুষকে করোনার টিকা দিতে না পারার কারণে সারা বিশ্বের আর্থিক যে ক্ষতি হবে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এশিয়া মহাদেশ। সম্মিলিত ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। তবে জিডিপির বিবেচনায় হিসাব করলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে সাব-সাহারা আফ্রিকা অঞ্চলের।
করোনা সংক্রমণ শুরুর পর খুবই দ্রæততম সময়ের মধ্যে উদ্ভাবিত হয়েছে টিকা। মহামারির এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই টিকাদান শুরু করে উন্নত দেশগুলো। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে উচ্চ আয়ের দেশগুলোর প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ টিকার আওতায় চলে এসেছে। কিন্তু সব দেশে টিকাদানের গতি এক নয়। এ কারণেই টিকাদানে পিছিয়ে থাকা দেশগুলো অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়বে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এদিকে, আওয়ার ওয়ার্ল্ড ইন ডেটার তথ্যানুসারে, নিম্ন আয়ের দেশগুলোর মাত্র ২ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ অন্তত এক ডোজ টিকা পেয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে যেখানে ৯৪ শতাংশ অন্তত এক ডোজ টিকা পেয়েছেন, সেখানে তানজানিয়ায় টিকা পেয়েছেন মাত্র শূন্য দশমিক ৯১ শতাংশ মানুষ। নাইজেরিয়ায় টিকা পেয়েছেন ২ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ ও ইথিওপিয়ায় টিকা পেয়েছেন ২ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ।
এমতাবস্থায় চলমান প্রক্রিয়ায় ধনী ও গরিব দেশগুলোর মধ্যে টিকা প্রাপ্তির সমতা আসার আপাত কোন সম্ভবনা দেখা যাচ্ছে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে গঠিত কোভ্যাক্সের মাধ্যমে গরীব দেশগুলো টিকা পাবে এমন আশা সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু সেই আশাও তারা পূরণ করতে পারেনি। এই কোভ্যাক্স থেকে উন্নত দেশগুলোর এ বছর ১৯০ কোটি ডোজ টিকা পাওয়ার কথা। এখন পর্যন্ত কোভ্যাক্স থেকে বিশ্বের সব দেশকে যে টিকা সরবরাহ করা হয়েছে, তা দিয়ে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর মাত্র ১৫ শতাংশ মানুষকে টিকা দেওয়া যাবে। যুক্তরাজ্য ও কানাডার মতো উন্নত দেশও কোভ্যাক্সের কাছ থেকে টিকা নিচ্ছে। গত জুন মাসে যুক্তরাজ্য কোভ্যাক্সের কাছ থেকে ৫ লাখ ৩৯ হাজার ডোজ টিকা নিয়েছে। সেই মাসে আফ্রিকা অর্ধেকের মতো কোভ্যাক্সের টিকা পেয়েছে। এতে কোভ্যাক্স আরও চাপের মুখে পড়েছে।
ধনী দেশগুলোও বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে। ২০২২ সালের মধ্যভাগের মধ্যে যুক্তরাজ্য যে ১০ কোটি ডোজ টিকা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল, তার মাত্র ১০ শতাংশ এখন পর্যন্ত দিয়েছে। এই বাস্তবতায় গরীব দেশগুলোর টিকা পাওয়ার আশা আরও কমে যাচ্ছে। কারণ, উন্নত দেশগুলোর এখন শিশুদের টিকা দেওয়া শুরু করেছে। কিন্তু দ্ররিদ্র রাষ্ট্রগুলোতে প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকাই এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টিকে ধনী দেশগুলোর অনৈতিক কৌশল ও মূর্খতা বলে সম্প্রতি উষ্মা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অন্তোনিও গুতেরেস। যা খুবই বাস্তবসম্মত।
অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, টিকা প্রাপ্তির অসমতার জন্যই বিশ^ বড় ধরনের অর্থনৈতিক ঝুঁকির মধ্যে পড়তে যাচ্ছে। বিশেষ করে তৃতীয় বিশে^র দেশগুলো। এমতাবস্থায় ধনী দেশগুলো যদি উদার দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে নিয়ে এগিয়ে না আসে তাহলে বিশ^ শুধু অর্থনৈতিক ঝুঁকিতেই পড়বে না বরং বিশ^স্বাস্থ্যও অনিরাপদ হয়ে পড়বে।