ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

৭ অক্টোবর ২০২১, ০৭:১০

অসাম্প্রদায়িক ভারতের স্বপ্ন

21035_MMM.jpg
জাতীয় কংগ্রেসের উপর্যুপরি ব্যর্থতার মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের উপর্যুপরি সাফল্য মোদি বিরোধীদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে গত এপ্রিলে বিধানসভা নির্বাচনে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীনদের ভরাডুবি নতুন  আশাবাদের সৃষ্টি করেছে। আর সম্প্রতি   ভবানীপুরের উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিধ্বস বিজয়ের পর আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল কংগ্রেস গোটা ভারতকে ‘মোদিমুক্ত’ করার ডাক দিয়ে বসেছে। রাজ্যে ক্ষমতাসীন দলটি বলেছে, ধর্মনিরপেক্ষ নেত্রী হিসেবে ভারতে মমতার বিকল্প নেই। তাই তাঁর নেতৃত্বেই দেশজুড়ে মোদিবিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। গড়তে হবে মোদিমুক্ত এক নতুন ভারত; যেখানে সাম্প্রদায়িকতা থাকবে না। আর এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা।

মূখ্যমন্ত্রীত্ব টিকিয়ে রাখার উপনির্বাচনে রেকর্ড ভোটে জয় পেয়েছেন মমতা। এই নির্বাচনে হেরে গেলে মমতাকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হতো। গত ৩ অক্টোবর উপনির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, তৃণমূল নেত্রী মমতা পেয়েছেন ৮৫ হাজারের কিছু বেশি (৭১ শতাংশ) ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দী ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল পেয়েছেন সাড়ে ২৬ হাজার (২২ শতাংশ)। অর্থাৎ প্রিয়াঙ্কাকে ৫৮ হাজার ৮৩৫ ভোটে হারিয়েছেন মমতা। যা কেন্দ্রের ক্ষমতাসীনদের জন্য মোটেই স্বস্তিদায়ক হয়নি।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার এবারের নির্বাচনে মমতা পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম আসনে প্রতিদ্বন্দীতা করেছিলেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দী ছিলেন তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দুর কাছে ১ হাজার ৯৫৬ ভোটে পরাজিত হন মমতা। নন্দীগ্রামে মমতা হেরে গেলেও সংবিধান মেনে তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করে। সাংবিধানিক বিধি হলো, ছয় মাসের মধ্যে মমতাকে রাজ্যের যেকোনো একটি বিধানসভা আসন থেকে জিতে আসতে হবে। সে অনুযায়ী, ভবানীপুর আসনে উপনির্বাচনে জিতে মমতা তাঁর মুখ্যমন্ত্রীর পদ টিকিয়ে রাখলেন।

গত এপ্রিলে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে ভবানীপুর আসনে লড়েন অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। তিনি তৃণমূল প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের কাছে ২৮ হাজার ৭১৯ ভোটের ব্যবধানে হারেন। মমতাকে ভবানীপুর আসন থেকে জেতানোর লক্ষ্যে সেখানকার নির্বাচিত তৃণমূল নেতা শোভনদেব পদত্যাগ করেন। এতে ভবানীপুর আসনটি শূন্য হয়। সেই আসনের উপনির্বাচনে লড়েন মমতা। এই আসনে এবার জিতে ‘হ্যাটট্রিক’ জয়ের রেকর্ড গড়লেন মমতা।

ভবানীপুর ছাড়াও সেদিন মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর ও শামসেরগঞ্জ আসনের উপনির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়। উভয় আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী জিতেছেন। ভবানীপুরে বড় ব্যবধানে জয়ের পর মমতা বলেছেন, নন্দীগ্রামে চক্রান্ত্রের জবাব দিল ভবানীপুর। ভবানীপুর এবার দিল্লি যাওয়ার পথ প্রশস্ত করেছে।  মমতা বলেন, ‘আমাকে ভবানীপুরের সবাই ভোট দিয়েছেন। সবার ভোটেই আমি জিতেছি। এবার আমাদের লক্ষ্য হবে এক অসাম্প্রদায়িক ভারত গড়া। সেই আন্দোলনে সবাইকে শরিক হতে হবে। এবার উৎসব নয়, আমাদের দাঁড়াতে হবে বন্যার্তদের পাশে। করোনা প্রতিরোধে লড়াই করতে হবে।’ তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বেশ তাৎপর্যপূর্ণই করছেন।  আর বিজেপি বিরোধীরা যে এতে আশান্বিত হয়েছেন একে কোন সন্দেহ নেই।

সাম্প্রতিক উপনির্বাচনের ফলাফল তৃণমূল কংগ্রেস যে অধিক আত্মবিশ^াসী ওঠে উঠেছে তা নেতাদের বক্তব্য থেকে বেশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ফল ঘোষণার পর কলকাতা পৌর করপোরেশনের প্রশাসক ও রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেছেন, ভবানীপুরের বিজয় মুখ্যমন্ত্রী মমতার দিল্লি যাওয়ার পথ প্রশস্ত করবে। একই সঙ্গে মোদিকে হটানো, তথা মোদিমুক্ত ভারত ও ভারতে ধর্মনিরপেক্ষ একটি সরকার গঠনের জন্য মমতাকে শক্তি জোগাবে।

তার ভাষায়, ‘এবার আমাদের লক্ষ্য হবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কেন্দ্র থেকে মোদিকে হটিয়ে একটি ধর্মনিরপেক্ষ সরকার গঠনের আন্দোলন জোরদার করা। ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ মানুষ এবার মোদিমুক্ত দেশ গড়ার জন্য মমতার আন্দোলনে শামিল হবেন।’

পশ্চিমবঙ্গ সহ বিভিন্ন রাজ্যে হতাশাব্যঞ্জক নির্বাচনী ফলাফল ক্ষমতাসীন বিজেপিকে বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কা দিয়েছে। আর সে ঢেউ আগামী লোকসভা নির্বাচনে লাগতে পারে বলে রাজনৈতিক বোদ্ধারা মনে করছেন। আর তৃণমূল তো দিল্লি দখল করে অসাম্প্রতিক ভারত গড়ার স্বপ্নে বিভোর। কিন্তু তাদের সে স্বপ্ন কতটা বাস্তবসম্মত হবে তা দেখার জন্য আগামী লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।