ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

৪ অক্টোবর ২০২১, ০৬:১০

দ্রব্যমূল্য

পিঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের অগ্নিমূল্য

20950_Piyaj.jpg
পিঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের অগ্নিমূল্য ভোক্তাদের বেশ ভোগাচ্ছে। এমনিতেই আমাদের  বাজার পরিস্থিতি সবসময়ই অস্থিতিশীল। কোন নিয়ম মেনে আমাদের দেশের দ্রব্যমূল্য নির্ধারিত হয় না বরং এক্ষেত্রে রয়েছে লাগামহীন স্বেচ্ছাচারিতা। বিশে^র আর কোন দেশেই এমন অনিশ্চিত বাজার পরিস্থিতি খুব একটা দেখা যায় না। মূলত আইনের দুর্বল প্রয়োগ, সরকারি সংস্থাগুলোর উদাসীনতা, অসাধু ব্যবসায়িদের লাগামহীন দৌড়াত্ম্য ও বাজার সিÐিকেটের কারণেই আমাদের দেশের বাজার পরিস্থিতিতে কোন শৃঙ্খলা নেই। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা স্থিতিশীল থাকলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য একেবারে অস্থিতিশীল। আর সে চোটই পড়েছে পিঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের ওপর।
মূলত,  মূল্যস্ফীতি এখন আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। করোনা ভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাবে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমলেও দ্রব্যমূল্য বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। সে ধারাবাহিকতায়   হঠাৎ করেই অশান্ত হয়ে উঠেছে নিত্যপণ্যের বাজার। বিশেষ  করে পেঁয়াজের বাজার এখন আকাশচুম্বী। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ৫-১০ টাকা। যা কোন বিবেচনায়ই গ্রহণযোগ্য নয়। রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবধরনের পেঁয়াজের দামই বেড়েছে উদ্বেগজনকভাবে। খুচরা বাজারে মান ভেদে এক কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬৫ টাকায়। এছাড়া দাম বেড়েছে কাঁচা মরিচের। বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের জন্য গুণতে হবে ১৮০-২০০ টাকা। যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কিন্তু সরকারি সংস্থাগুলো শুধুই নিরব দর্শক।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, খুচরা বাজারে আমদানি করা পেঁয়াজ মিলছে ৫০ থেকে ৫২ টাকায়। যদিও ব্যবসায়ীরা বলছেন চাহিদার তুলনায় যোগান কমছে। পাশাপাশি আকস্মিক এই মূল্যবৃদ্ধির জন্য ভারতীয় পেঁয়াজের দাম বাড়াকেও কেউ কেউ দায়ী করছেন। তবে এমন দাবিকে পুরোপুরি সত্য মনে করার কোন কারণ দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। মূলত, এজন্য বাজার সিÐিকেটকেই প্রধানত দায়ি করা হচ্ছে।
টিসিবির হিসেবে এক মাসের ব্যবধানে দেশি জাতের পেঁয়াজের দাম বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। বেড়েছে আমদানি করা পেঁয়াজের দামও। যদিও পাইকাররা বলছেন ভিন্নকথা। তাদের দাবি, বিভিন্ন বন্দর দিয়ে আমদানি অব্যাহত আছে। তবে আগের তুলনায় আমদানির হার বেশ কম বলেও স্বীকার করেন তারা। আগে নাসিক ও ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ আমদানি হলেও বর্তমানে শুধু ইন্দোর জাত আনা হচ্ছে। ফলে বাজারে কিছুটা হলেও কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আর এই সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছেন একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়িরা। ফলে পিঁয়াজের বাজার এখন বেশ অশান্ত।
শুধু পিঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের দামই নয় বরং আমদানি কম হওয়ার অজুহাতে বেড়েছে টমেটোর দামও। একই সাথে বেড়েছে শাক-সব্জীর দামও। শীতকালীন সবজি ফুলকপি ও বাধাকপি প্রতি পিসের দাম উঠেছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। পেঁপে ছাড়া অন্যান্য সবজি ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের জন্য গুণতে হবে ১৮০-২০০ টাকা। শিমের দাম ১২০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজিতে। এমন পরিস্থিতিতে বাজারে তদারকি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ক্রেতারা। তারপরও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পালন করছে নিরব দর্শকের ভূমিকা। ফলে মূল্য পরিস্থিতি কোন ভাবেই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে না।
মূলত, সরকারি সংস্থাগুলোর নিষ্ক্রিয়তা ও তদারকির অভাবেই পিঁয়াজ ও কাঁচা মরিচসহ নিত্যপণ্যের মূল্য এখন অস্থিতিশীল। ফলে প্রান্তিক পর্যায়ের ভোক্তারা পড়েছেন বড় ধরনের বেকায়দায়। এমতাবস্থায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো যদি বাজার নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় না হয়, তাহলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্দ্ধগতি রোধ করা যাবে না। বন্ধ হবে না অসাধু ব্যবসায়িদের দৌড়াত্ম্য!