ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:০৯

মানবপাচারকারীদের  দৌড়াত্ম্য বন্ধ হোক

20496_MMM.jpg
দেশে মানবপাচারের ঘটনা নতুন। একটি পাচারকারী চক্র দীর্ঘদিন ধরেই এই অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে। নানা কৌশলে তারা বিশে^র বিভিন্ন মানবপাচার করে। সম্প্রতি ইরাকে মানব পাচারকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, ভালো বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে মানব পাচার করছে একটি চক্র। তারা নারীদের সেখানে নিয়ে বিক্রি করে দিচ্ছে। আর পুরুষদের আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায় করছে বলে গুরতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে সম্প্রতি ঢাকার মিরপুর ও উত্তরা থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।  সূত্র বলছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে লিটন মিয়া (৪৪) পাচারকারী চক্রের প্রধান। অপরজন তাঁর অন্যতম সহযোগী আজাদ রহমান খান (৬৫)। এই চক্র সাত বছরে ভ্রমণ ভিসায় দুই শতাধিক নারী-পুরুষকে ইরাকসহ আশপাশের দেশে পাচার করেছে বলে প্রাপ্ত তথ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
র‌্যাব সূত্র দাবি করেছে, কয়েকজন ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে এই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া লিটন মিয়া নিজেকে ইরাকে বড় হাসপাতালের চিকিৎসক বলে পরিচয় দিতেন। আর আজাদ একটি এজেন্সির আড়ালে মানব পাচার করছিলেন। দেশে-বিদেশে এই চক্রের ১৫২০ জন সক্রিয় সদস্য রয়েছে। মানব পাচারের অভিযোগে লিটন ইরাকে একাধিকবার এবং আজাদও দেশে কয়েকবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। জামিনে বের হয়ে আবারও তিনি একই কাজে লিপ্ত হন। মানব পাচারের অভিযোগে তাঁদের দুজনের বিরুদ্ধে ছয়-সাতটি করে মামলাও রয়েছে। এই চক্রের সদস্যরা রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম দেশের বেশ কয়েকটি এলাকায় সক্রিয় রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, চক্রটি ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ইরাকে নেওয়ার জন্য একেকজনের কাছ থেকে তিন-চার লাখ টাকা নিত। ইরাকে নেওয়ার পর পুরুষদের ‘সেফ হোমে’ আটকে রেখে আরও দু-তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করত, আর নারীদের সেখানে নেওয়ার পর বিক্রি করে দেওয়া হতো। যা খুবই হৃদয়বিদারক।
এ বিষয়ে এক ভুক্তভোগী নারীর বক্তব্য হচ্ছে, তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে মেডিকেল স্টাফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আজাদ রহমানের এজেন্সির মাধ্যমে তিনি বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তখন লিটন মিয়া ইরাক থেকে তাঁকে ফোন করে নিজেকে বড় চিকিৎসক পরিচয় দেন। তাঁকে ইরাকের একটি হাসপাতালে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসও দেয়া হয়। একপর্যায়ে লিটন নিজেকে অবিবাহিত দাবি করে বিয়ের প্রস্তাব দেন এই নারীকে। ২০১৯ সালের শুরুর দিকে লিটন দেশে এসে বিয়ে করেন এবং এই নারীকে ইরাকে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, লিটন একজন প্রতারক এবং পাচারের সঙ্গে জড়িত।
ওই নারী গণমাধ্যমেকে জানিয়েছেন জানান, তিনি যাওয়ার কিছুদিন পর একটি ‘সেফ হোমে’ গিয়ে প্রায় ৩৫ জন নারীকে দেখেছেন, যাঁদের বিক্রির জন্য আটকে রাখা হয়েছে। প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে এই নারী একপর্যায়ে লিটনের বাসা থেকে পালিয়ে যান। পরে অন্যদের সহায়তায় দেশে ফিরেছেন।
র‌্যাবের মুখপাত্র জানান, লিটন মিয়া দেশে সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করতেন। ২০১০ সালে চাকরিচ্যুত হন। ২০১৩ সালে তিনি ইরাকে যান। পরে তিনি আজাদের সহায়তায় ইরাকে মানব পাচারে যুক্ত হন। তিনি মূলত বিভিন্ন হাসপাতালের নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের প্রলোভনে ফেলতেন। লিটন মানব পাচারের অভিযোগে ইরাকে দুবার গ্রেপ্তার হন। এরপর নতুন করে গ্রেফতার এড়াতে দেশে ফিরে আসেন।
মূলত, বিচারহীনতা ও আইনের ভঙ্গুর প্রয়োগের কারণেই দেশে মানবপাচারের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। অভিযুক্তরা মাঝে মাঝে গ্রেপ্তার হলেও জামিনে ছাড়া পেয়ে তারা আবারও নতুন করে অপরাধ প্রবণতায় লিপ্ত হচ্ছে। এমতাবস্থায় মানবপাচারের মত ঘৃণীত অপরাধ বন্ধ করতে হলে আইনের কঠোরতম প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধীদের আইনের  আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। বিষয়টিকে গ্রেপ্তার ও জামিন খেলার মধ্যে আবদ্ধ রাখলে চলবে না বরং অপরাধের প্রতিবিধানের জন্য সম্ভব সব ধরনের কৌশলের প্রয়োগ করতে হবে। অন্যথায় পাচারকারী চক্রের দৌড়াত্ম্য বন্ধ করা যাবে না।