ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

২৮ আগস্ট ২০২১, ০৬:০৮

ইসরাইলে সংখ্যালঘু হত্যা

20204_Is.jpg
সংখ্যালঘু আরব জনগোষ্ঠীর ওপর ইসরাইলী বর্বরতা ও নির্মম হত্যাকান্ড নতুন কিছু নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন জরিপের ফলাফলে সে তথ্যই উঠে এসেছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ২০২০ সালে ইসরাইলে সহিংসতার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছে ৯৭ জন সংখ্যালঘু আরব নাগরিক। যা দখলদার ইসরাইলী দূর্বৃত্তদের বর্বরতার দিকেই অঙ্গলী নির্দেশ করে।

ইসরাইলের জনসংখ্যার মাত্র প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ সংখ্যালঘু আরব জনগোষ্ঠী। কিন্তু কয়েক বছরে দেশটিতে হত্যার বেশিরভাগ ঘটনা ঘটেছে এই আরব জনগোষ্ঠীর মধ্যেই। অ্যাব্রহাম ইনিশিয়েটিভ গ্রুপ নামে একটি ইহুদি আরব সংগঠনের জরিপে এই পরিসংখ্যান উঠে এসেছে। যা রীতিমত বেদনাদায়ক। দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে সংগঠনটি। তাদের জরিপে দেখা যাচ্ছে, এ বছরেও ইতোমধ্যেই ৬০ জন ইসরাইলি আরব হওয়ার কথিত অপরাধে প্রাণ হারিয়েছেন।

ইসরাইলে আরব সম্প্রদায়ের যেসব মানুষ বাস করেন-তারা নিজেদেরকে ‘ইসরাইলের ফিলিস্তিনি নাগরিক’ হিসাবে পরিচয় দিতে বেশি পছন্দ করেন। তত্বগতভাবে ইসরাইল রাষ্ট্রে তাদের এবং দেশটির ইহুদি নাগরিকদের সমান অধিকার পাবার কথা। কিন্তু তারা নিয়মিতভাবেই বৈষম্যের অভিযোগ করে আসছেন। প্রতিনিয়ত তারা নানাবিধ অপরাধের ভিকটিম হচ্ছেন। ইসরাইলী  দূর্বৃত্তরা তাদের ওপর প্রতিনিয়তই মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা ঘটাচ্ছে। ’মাদার্স ফর লাইফ’ নামে একটি সংস্থার অধিকার কর্মী মাইসাম জালজুলি ভাষায়, এই পরিসংখ্যান স্তম্ভিত হওয়ার মত। আগে মনে করা হতো এধরনের অপরাধীরা নারী এবং শিশুদের গায়ে হাত দেয় না, কিন্তু এখন আর ওরা কাউকে ছাড় দিচ্ছে না। ফলে সংখ্যালঘু আবররা এখন রীতিমত নিরাপত্তাহীন ভূগছেন।

সংবাদপত্রের খবর অনুযায়ী, এ বছর যত হত্যার ঘটনা ঘটেছে, পুলিশ তার মধ্যে আরবদের হত্যার মাত্র ২৩ ভাগ ঘটনায় দায়সারা গোছের পদক্ষেপ নিয়েছে। সে তুলনায় ইহুদিদের হত্যার ৭১ ভাগ ঘটনা পুলিশ সমাধান করেছে।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত প্রায় এক দশক ধরে পুলিশ ইহুদি ইসরাইলি কুখ্যাত গুন্ডা আর অপরাধীদের বিরুদ্ধে বড়ধরনের দমন অভিযান চালিয়েছে। এরপর থেকেই সংগঠিত অপরাধ চক্রগুলোর কার্যকলাপ আরব অধ্যুষিত এলাকাগুলোয় বহু গুণ বেড়ে গেছে।

মূলত, এরা আরব এলাকায় তাদের নতুন ঘাঁটি গেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারী অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে গ্যাংগুলো এখন আরব এলাকাগুলোয় সুরক্ষার নামে গুন্ডামি, চাঁদাবাজি করছে, তারা সেখানে দারিদ্রের সুযোগ নিয়ে নানাধরনের মহাজনি কারবার এবং অর্থ লেনদেনের একচ্ছত্র আধিপত্য গড়ে তুলেছে, মানুষজনকে হুমকি দিচ্ছে এবং লোকদের ব্লাকমেইল করছে। বিষয়টি নিয়ে পুরোপুরি উদাসীন ইসরাইলে কর্তৃপক্ষ। ফলে আবর জনগোষ্ঠীর ওপর নির্মমতা ও নিষ্ঠুরতার ক্রমেই বাড়ছে। কিন্তু ইসরাইলি সরকার সংখ্যালঘুদের জানমাল রক্ষায় কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। আর সরকারের এই নির্লিপ্ততার সুযোগেই অপরাধীচক্র বেপরোয় হয়ে উঠেছে।

অবশ্য ইসরাইলের বর্তমান জোট সরকারে এই প্রথমবারের মত একটি ইসলামপন্থী আরব পার্টিকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। যা দৃশ্যত ইতিবাচক বলেই মনে হচ্ছে। এই সরকার সামগ্রিক সব বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। কিন্তু তারা সে প্রতিশ্রুতি কতখানী রক্ষা করে এবং অধিকৃত অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কতখানী উদ্যোগী হয় আর সংখ্যালঘুদের জানমাল রক্ষায় কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে- মূলত তাই এখন দেখার বিষয়। কারণ, ইসরাইলীদের অতীত রেকর্ড খুব একটা সুখকর নয়। তাই এই বিষয়ে খুব একটা আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই।