ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

১৬ আগস্ট ২০২১, ০০:০৮

প্রকৃতি ও মহামারী

19949_NNN.jpg
প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংসই মহামারি সৃষ্টির মূল কারণ বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন। বিষয়টিকে যৌক্তিক বলেই মনে করা হচ্ছে। গবেষকরা বলছেন, বিশ্বনেতারা ভবিষ্যৎ মহামারি রোধে সাশ্রয়ী ও কার্যকরী কৌশলকে অবহেলা করে চলেছেন। বিশ্বনেতাদের পদক্ষেপের কোথাও প্রকৃতি রক্ষার বিষয়টিকে অন্তর্ভূকক্ত করা হচ্ছে না। ফলে আগামী দিনে নতুন নতুন মহামারীর প্রদূর্ভাবের সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। যা ভাবিয়ে তুলেছে আত্মসচেনতন মানুষকে।
দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গবেষকেরা বলছেন, বনাঞ্চল বিনষ্ট ও বন্য প্রাণী শিকারের ফলে প্রাণী ও তাদের বহন করা জীবাণু ক্রমাগতভাবে মানুষ ও গবাদিপশুর সংস্পর্শে চলে আসছে। নতুন সংক্রামক রোগের প্রায় ৭০ শতাংশ বিভিন্ন প্রাণী থেকে উৎপত্তি হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে কোভিড-১৯, সার্স, বার্ড ফ্লু, ইবোলা, এইচআইভি প্রভৃতি।
যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিভেনটিং প্যানডেমিকস অ্যাট দ্য সোর্সের (পিপিএস) গঠন করা আন্তর্জাতিক গবেষকদের নতুন একটি স্বতন্ত্র টাস্কফোর্স মহামারি মোকাবিলায় উৎস চিহ্নিত করতে কাজ করছে। সংস্থাটির বিজ্ঞানীরা বলছেন, মহামারির মূল কারণ প্রতিরোধের বিষয়গুলো বিশ্বনেতা ও কর্তৃপক্ষ খুব কমই উল্লেখ করে থাকে। পিপিএসের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলন (ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেম্বলি) ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার করোনা মহামারির প্রতিবেদনেও বিষয়টিকে উপেক্ষা করা হয়েছে। যা এখন বিশ^স্বাস্থ্যের জন্য হুমকী হয়ে দেখা দিয়েছে।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে যে, আগামী এক দশকে আরও মহামারি দেখা দিলে তা প্রতিরোধে বার্ষিক ব্যয় ২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নামিয়ে আনা সম্ভব। আর এজন্য প্রয়োজন যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ। বর্তমান করোনা মহামারিতে যে আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, এই ক্ষতি তার মাত্র ২ শতাংশ। ক্ষতি ঠেকাতে বনাঞ্চল রক্ষা, ঝুঁকিপূর্ণ বন্য প্রাণীর ব্যবসা বন্ধ, ফার্মের পশুপাখিকে সংক্রমণ থেকে উন্নত সুরক্ষা, বন্য প্রাণীর বাজার এলাকায় দ্রæত রোগ শনাক্তকরণের মতো পদক্ষেপ নেয়া দরকার।  অন্যথায় আগামী দিনে অতিমারী রোধ করা সম্ভব হবে না।
নতুন এই টাস্কফোর্সে বিশ্বের প্রায় সব অঞ্চল থেকেই বিজ্ঞানীদের রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এই টাস্কফোর্স গঠন করেছে। যৌক্তিক সময়ের মধ্যেই এই টাস্কফোর্স মহামারি রোধে কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
টাস্কফোর্সের নেতৃত্বে থাকা হার্ভার্ড সেন্টার ফর ক্লাইমেট, হেলথ অ্যান্ড দ্য গেøাবাল এনভায়রনমেন্টের গবেষক অ্যারন বার্নস্টেইন বলেছেন, ‘কোভিড-১৯ পুরো প্রকৃতি থেকে আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা দিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিশ্বনেতারা এতদবিষয়ে যথাযথ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি।’
অ্যারন বার্নস্টেইন আরও বলেছেন, ‘বর্তমানে বিশ্বনেতারা যেসব কথা বলেন, তার বেশির ভাগই স্বাস্থ্য খাতের প্রস্তুতি, রক্ষণাবেক্ষণ ও টিকাসংক্রান্ত। কিন্তু এগুলো হচ্ছে রোগ ছড়ানোর পর তা প্রতিরোধের উপায়। কিন্তু আমরা এটা শিখেছি যে মুক্তির পথ আরও সাশ্রয়ী হতে পারে। মহামারি উৎপত্তির পর তা ব্যবস্থাপনার চেয়ে মহামারি শুরুতেই প্রতিরোধের ব্যয় খুব সামান্য। এসব পদক্ষেপের অধিকাংশই আবার জলবায়ু ও জীববৈচিত্র সংকটের মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে কাজে লাগে।’
মূলত, মহামারীর প্রাবল্যের জন্য প্রকৃতি ধ্বংসকেই দায়ি করছেন গবেষকরা। তাই মহামারী মোকাবেলার চেয়ে আগাম প্রতিরোধ গড়ে তোলাকেই যৌক্তিক মনে করছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা। কারণ, চৎবাবহঃরড়হ রং নবঃঃবৎ ঃযধহ পঁৎব. আর প্রকৃতি রক্ষায় হবে এক্ষেত্রে কার্যকর পন্থা।