ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

মুহা. রুহুল আমিন

১২ আগস্ট ২০২১, ২১:০৮

হে যুবক তোমাকে বলছি!

19886_যুব-দিবস.jpg
ছবি- সংগৃহীত
আজ ১২ আগষ্ট ‘আন্তর্জাতিক যুব দিবস’। এ বছরে দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘বৈশ্বিক কর্মে যুবশক্তি’। বিশ্বের প্রায় প্রোতেকটি দেশে উদযাপিত হচ্ছে দিবসটি।
 
তারুণ্যের বিকাশ ও উন্নয়নে ১৯৯৮ সালে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের ‘ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স অব মিনিস্টার রেসপনসিবল ফর ইয়ুথ’ ১২ আগস্টকে ‘আন্তর্জাতিক যুব দিবস’ হিসেবে উদযাপনের প্রস্তাব করে। এর পরের বছর ১৭ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক যুব দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০০০ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিনটি পালন করা হচ্ছে।
 
দিবসটি উপলক্ষে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও ইউএনভি বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
 
দুঃখের বিষয় আজ যুবসমাজ পাশ্চাত্যের সভ্যতা-সংস্কৃতি কাছে জিম্মি হতে বসেছে। একদিকে মাদকাশক্তি একটি জটিল সামাজিক ব্যধিরূপে বিস্তার লাভ করেছে। অন্য দিকে বিজ্ঞানের আধুনিক আবিষ্কার মোবাইল গেম যুব সমাজকে কুরে কুরে খাচ্ছে। সমাজে এই দূরারোগ্য ব্যধি দিন দিন আরও তীব্র গতিতে বেড়ে যাচ্ছে। এই ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে যুব সমাজ তাদের জীবনকে বিপন্ন করে তুলছে। সর্বোপরি অপসংস্কৃতির দাবানলে আজকের যুব সমাজ দাউদাউ করে জ্বলছে।
 
আল্লাহ তাআলার ঘোষণাঃ
যে শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে, সে জেনে রাখুক, শয়তান অশ্লীল ও মন্দ কর্মের আদেশ দেয় (প্রলুব্ধ করে)। (সূরা: আন-নূর, আয়াত-২১)
 
শয়তান মানুষের মন্দ কাজকে তাদের কাছে শোভনীয় ও মনোহরী করে তোলে।
 
কোরআনের বাণীঃ
শয়তান তাদের মন্দ কাজসমূহকে তাদের দৃষ্টিতে চমৎকার ও মনোহরী করে তোলে এবং এভাবে তাদের সরল সঠিক পথ অবলম্বনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। (সূরা: আনকাবুত, আয়াত-৩৮)
 
হে যুবক তোমাকে বলছি! ফিরে এসো মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সঃ) আদর্শের দিকে। আইয়ামে জাহেলিয়াতের অসভ্য বর্বর সমাজের মানুষগুলো যে আদর্শের কাছে এসে খাঁটি সোনায় পরিণত হয়েছিল। আজও সে আদর্শ তোমার জন্য। যার জীবন অনুসরণ-অনুকরণ করলে দুনিয়া ও আখেরাতে সুখ ও শান্তিতে ভরে উঠবে তোমার জীবন।
ফিরে এসো! অপসংস্কৃতি মুক্ত এক ভোরের অপেক্ষায় রইলাম।
 
প্রিয় ভাই, আমরা তো তাদেরই উত্তরসূরি যারা একটি সোনালী সমাজ বিনির্মানের জন্য নিজের জীবনকে বিলীন করে দিয়ে গেছে। তাদের পথ ধরে আজ আমরা বিনয়-নম্রতা, অমায়িক ব্যবহার, সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ ও কোমলভাষী হয়ে গড়ে উঠি।
 
অর্থহীন যে কোন কাজকে এড়িয়ে চলাই ইসলামের সৌন্দর্য। ভ্রাতৃত্ব-সৌহার্দ্য অটুট রাখাই ইসলামের দীক্ষা। তাই সামাজিক সম্প্রীতি অক্ষুন্ন রাখতে যুব সমাজকে বেশি ভুমিকা রাখা দরকার।
 
মনে রেখো! আমরা যদি ব্যর্থ হই, ক্ষতিগ্রস্ত হবে গোটা জাতী। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে তোমরা! একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে না। গর্বের দেশকে নিয়ে নতুন সপ্ন দেখতে পারবে না।
 
হে যুবক! তোমাদের কৃতিত্ব এ জাতীর প্রত্যাশিত স্বপ্নের নিশান, তোমরাই আগামীদিনের বাংলাদেশের কাণ্ডারি।
তোমরা উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রকৃত কারিগর। তোমাদের হাত ধরে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে সমৃদ্ধির পথে ইনশাআল্লাহ্‌। তোমরা জীবনের সর্বক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাফল্য ধরে রাখবে, এই প্রত্যাশা রহিলো।
 
আসুন লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার শপথ গ্রহণ করি, সোনার মদিনার আদলে গড়ে তুলি একটি সুখী, কল্যানকর সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলাদেশ।