ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

২১ জুলাই ২০২১, ০৭:০৭

ত্যাগের মহিমায় সমুজ্জ্বল

19363_EE.jpg
বর্ষপরিক্রমায় আবারও আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে আত্মোৎসর্গ ও ত্যাগের মহিমায় সমুজ্জ্বল পবিত্র ঈদুল আযহা। আরবী পঞ্জিকা অনুযায়ি প্রতিবছর ১০ জিলহজ্জ বিশ^ মুসলিম পশু কুরবানীর মাধ্যমে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করেন।  বস্তুত, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্য, রবের প্রকৃত সন্তুষ্টি ও মানব কল্যাণে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগই ঈদুল আযহার প্রকৃত শিক্ষা। এই আনন্দ ভোগের নয়; বরং ত্যাগের। পবিত্র ঈদুল আযহা আমাদেরকে এ শিক্ষা দেয় যে, প্রকৃত সুখ আর আনন্দের উৎস প্রাচুর্যে বা সম্পদে নয় বরং ত্যাগ ও কুরবানীর  মধ্যেই রয়েছে অনাবিল সুখ, শান্তি ও প্রকৃত সমৃদ্ধি। তাই ঈদুল আজহার প্রকৃত শিক্ষা ধারন করে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে তার যথাযথ প্রতিফলন ঘটাতে হবে।
মূলত, নিজের পশুপ্রবৃত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপই পশু কুরবানীর প্রকৃত উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা বান্দার তাকওয়ার পরীক্ষা গ্রহণ করেন। এই পরীক্ষায় যারা কৃতকার্য হোন আল্লাহ তাদেরকে ইহকালে শান্তি ও পরকালে মুক্তি দিয়ে থাকেন। আল্লাহ বলেন, ‘কুরবানীর পশুর রক্ত, গোশত কোন কিছুই আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, পৌঁছে কেবল তোমাদের তাক্বওয়া বা আল্লাহভীতি’ (সুরা হজ্জ, আয়াত-৩৭)। তাই কুরবানির শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আত্মগঠন ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে আর্ত-মানবতার মুক্তির জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
মূলত, পবিত্র ‘জিলহজ্ব’ মাস এক মহামহিমান্বিত ও বরকতপূর্ণ মাস। এ মাসেই মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহীম (আ.) আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নির্দেশ পালনার্থে নিজ পুত্র হযরত ঈসমাইল (আ.)কে কুরবানি করতে প্রয়াসী হয়েছিলেন। হযরত ইব্রাহীম (আ.)এর আদর্শ অনুসরণেই মুসলিম উম্মাহ দিবসটিকে পবিত্র ঈদুল আযহা হিসাবে পালন করে আসছে। তিনি মহিমান্বিত এই মাসে প্রিয় পুত্র ঈসমাঈল (আ.)কে কুরবানি করতে গিয়ে মহান আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে যে ত্যাগের নজরানা পেশ করেছিলেন তা শত-সহস্র বছর পরেও মুসলিম উম্মাহর জন্য অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় আদর্শ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত আছে এবং কেয়ামত পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে।
বস্তুত, জাগতিক লোভ-লালসা ও কামনা-বাসনার উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে পশু প্রবৃত্তির উপর বিজয় অর্জনই ঈদুল আযহার প্রকৃত শিক্ষা। অন্যায়-অসত্য, অনাচার-পাপাচার, হিংসা-বিদ্বেষ, জুলুম-নির্যাতন, বিভেদ-বিসংবাদ বন্ধ করে সমাজ-রাষ্ট্রে সার্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানবজাতির প্রকৃত কল্যাণ সাধন করা পবিত্র ঈদুল আযহার উদ্দেশ্য। কোরবানী হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে কল্যাণময় নিদর্শন। তাই আল্লাহর দেয়া কল্যাণ আমাদেরকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে কুরবানীর ত্যাগের মহিমাকে সমুজ্জ্বল করে তুলতে হবে।
দেশ ও জাতির এক মহাক্রান্তিকালে এবারের ঈদুল আযহা পালিত হতে যাচ্ছে।  বৈশি^ক মহামারী করোনার নেতিবাচক প্রভাবে গোটা জাতিই আজ বিপর্যস্ত। চলমান এই মহামারীতে আমাদের দেশে এ পর্যন্ত প্রায় ১১ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। প্রাণহানী ঘটেছে প্রায় ১৮ হাজার  মানুষের। করোনার উচ্চ সংক্রমণ রোধে সরকারের দেয়া কঠোর বিধিনিষেধে অনেকেই কাজ ও আয়-রোজগার হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সর্বপরি চারদিকে স্বজনহারাদের আহাজারীও শোনা যাচ্ছে। এমতাবস্থায় এবারের ঈদ যেন ব্যক্তি কেন্দ্রীক বা গোষ্ঠী কেন্দ্রীক না হয়ে সর্বজনীন হয়ে ওঠে এবং আসন্ন ঈদুল আযহার শিক্ষা যাতে জীবনের সকল ক্ষেত্রে প্রতিফলন ঘটে সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া দরকার।