ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

১৮ জুলাই ২০২১, ১০:০৭

শিশুদের টিকা নিশ্চিত করতে হবে

19326_Chh.jpg
করোনা মহামারি গোটা বিশ^কেই অস্থির ও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বিঘিœত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।  স্থবিরতা নেমে এসেছে অর্থনীতিতে। এর নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্ত থাকেনি বৈশি^ক স্বাস্থ্যসেবাও। ফলে মানুষ নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন কিন্তু সুচিকিৎসা পাচ্ছেন না। প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাবে বিশ্বজুড়ে অন্যান্য রোগের চিকিৎসাব্যবস্থায় দেখা দিয়েছে বড় ধরনের ঘাটতি। শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। করোনার ধাক্কায় গত বছর বিশ্বের সোয়া দুই কোটির বেশি শিশু নিয়মিত টিকা প্রাপ্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ফলে এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের শিশুদের মধ্যে বিভিন্ন প্রাণঘাতি ব্যাধির ঝুঁকি বেড়েছে।
অতিসম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডবিøউএইচও) ও ইউনিসেফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত, নাইজেরিয়াসহ বিশ্বের ১০টি দেশে ২ কোটি ২৭ লাখ শিশু গত বছর হাম, পোলিও, ডিফথেরিয়া, টিটেনাসের মতো প্রচলিত রোগের টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এই সংখ্যা আগের বছরের চেয়ে ৩৭ লাখ বেশি। ২০০৯ সালের পর থেকে গত বছরই সবচেয়ে বেশিসংখ্যক শিশু টিকাবঞ্চিত হয়েছে। এর পেছনে মূল কারণ করোনা মহামারি।
ইউনিসেফের টিকাদানবিষয়ক প্রধান এফরেম লিমাঙ্গো জানিয়েছেন, গত বছর বিশ্বজুড়ে ১ কোটি ৭১ লাখ শিশু কোনো টিকাই পায়নি। আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৩৬ লাখ। এসব শিশুর অনেকেই বস্তিতে কিংবা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে বসবাস করে। গত বছর বিশ্বের ২ কোটি ২৩ লাখ শিশু হামের টিকার প্রথম ডোজ পায়নি বলে জানিয়েছে ডবিøউএইচও। ফলে আফগানিস্তান, মালি, সোমালিয়া, ইয়েমেনের হাসপাতালগুলোয় হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। এ সময় বিশ্বজুড়ে ৬৬টি দেশ করোনা সংক্রমণ, লকডাউনের কারণে শিশুদের জন্য পরিচালিত অন্তত একটি টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে।
মূলত, শিশুদের সংক্রামক রোগগুলোর অন্যতম হলো হাম। তুলনামূলক দুর্বল স্বাস্থ্যসেবাব্যবস্থার কারণে এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোয় হামে আক্রান্ত হয়ে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা মারা যায়। পোলিওতে আক্রান্ত হয়ে পঙ্গু হয়ে যায় শিশুরা। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে অবস্থার অবনতি হয়েছে। ফলে বেড়েছে শিশু মৃত্যুর হার।
এমতাবস্থায় করোনাকালে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেয়ার আবশ্যকতা দেখা দিয়েছে। এমনতিতেই তৃতীয় বিশে^র দেশগুলোতে শিশুমৃত্যুর হার অনেক বেশি। সর্বপরি মহামারী করোনার প্রভাবে সে পরিস্থিতির বড় ধরনের অবনতি ঘটেছে। তাই যেকোন মূল্যে শিশুদের টিকাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা দরকার। বিষয়টি নিয়ে বিশ^স্বাস্থ্য সংস্থা কোন ভাবেই উদাসীন বা নির্লিপ্ত থাকতে পারে না।