ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা

১৭ জুলাই ২০২১, ১৯:০৭

জিলহজ্জ মাসের আমল

19322_জিলহজ্জ মাস.jpg
ছবি- সংগৃহীত
পবিত্র জিলহজ্জ মাস হচ্ছে হজের মাস। আর হজ হলো সক্ষম মুসলিমদের জন্য একটি অত্যাবশ্যকীয় তথা ফরজ ইবাদত। হজ্জ সম্পর্কে কালামে পাকে ঘোষণা করা হয়েছে, ‘(তাকে আরও আদেশ দিয়েছিলাম) তুমি মাসের মাঝে হজ্জের ঘোষণা (প্রচার করে) দাও, যাতে করে তারা পায়ে হেঁটে ও সর্বপ্রকার দুর্বল উঁঠের পিঠে আরোহন করে ছুটে আসে, দূর-দূরান্তের পথ অতিক্রম করে’। ( সুরা হজ্জ, আয়াত-২৭)

জিলহজ্জ মাসের ৮ থেকে ১৩ তারিখ এই ছয় দিনেই হজ্জের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পাদন করা হয়। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআন ও হাদিসে নানাবিধ বর্ণনা পাওয়া যায়। কালামে হাকীমে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হজ্জের মাসসমূহ সুনির্দিষ্ট, সে সময়গুলোর মধ্যে যে ব্যক্তিত্ব হজ্জ (আদায়) করার মনস্থ করবে (এ জন্য ইহরাম বাঁধবে, সে যেন জেনে রাখে) হজ্জের ভেতর কোন যৌন সম্ভোগ নেই, নেই কোন অশ্লীল গালিগালাজ ও ঝগড়াঝাটি, আর যত ভাল কাজ তোমরা আদায় করো আল্লাহ তায়লা (অবশ্যই) তা জানের; (হজ্জের নিয়ত করলে) এজন্য তোমরা পাথেয় যোগাড় করে নেবে, যদিও তাক্বওয়াটাই হচ্ছে (মানুষের) সর্বোৎকৃষ্ট পাথেয়। অতএব হে বুদ্ধিমান মানুষরা, তোমরা আমাকেই ভয় কর’। (সুরা-২ বাকারা, আয়াত- ১৯৭)।

ইসলামের দৃষ্টিতে বছরের চারটি মাস বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন ও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই চার মাসের অন্যতম হলো জিলহজ্জ মাস। মহাগ্রন্থ আল কুরআনে বলা হয়েছে, ‘প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা বারোটি, যা আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী সেই দিন থেকে চালু আছে, যেদিন আল্লাহ তাআলা আকাশমন্ডলী ও ভূমন্ডলী সৃষ্টি করেছিলেন। এর মধ্যে চারটি মাস মর্যাদাপূর্ণ। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান’ (সুরা-৯ তাওবাহ, আয়াত-৩৬)। এই চার মাস হলো জিলকদ্ব, জিলহজ্জ, মহররম ও রজব। এসব মাসে যুদ্ধবিগ্রহ, কলহবিবাদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তাই প্রত্যেক মুসলমানে কর্তব্য এই মাসগুলোর পবিত্রতা যথাযথভাবে রক্ষা করা।

জিলহজ্জ মাসের চাঁদ ওঠার পর থেকে ৯ তারিখ পর্যন্ত দিনে রোজা পালন করা, রাতে বেশি বেশি ইবাদত করা উচিত। বিশেষ করে  নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, তাসবিহ-তাহলিল, দোয়া-দরুদ, তওবা-ইস্তিগফারের তাগিদ দেয়া হয়েছে। হাদিসে রাসূল (সা.) এর বর্ণনা মতে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘জিলহজ্জের ১০ দিনের ইবাদত আল্লাহর নিকট অন্য দিনের ইবাদতের তুলনায় বেশি প্রিয়, প্রতিটি দিনের রোজা এক বছরের রোজার মতো আর প্রতি রাতের ইবাদত লাইলাতুল কদরের ইবাদতের মতো’ (তিরমিজি)।

আরাফার দিন, অর্থাৎ ৯ জিলহজ্জ নফল রোজা রাখা বিশেষ সুন্নত আমল। তবে আরাফায় উপস্থিত হাজি সাহেবদের জন্য এই রোজা প্রযোজ্য নয়। হাদিস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, হজরত আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আশাবাদী যে আল্লাহ তায়ালা তার (রোজাদারের) বিগত এক বৎসরের ও সামনের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন’ (তিরমিজি)। জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত প্রতি ফরজ নামাজের পর একবার তাকবির (তাকবিরে তাশরিক) বলা ওয়াজিব (ইলাউস সুনান)।

জিলহজের ১০, ১১ ও ১২ যেকোনো দিন, কোনো ব্যক্তির মালিকানায় নিত্যপ্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা বা এর সমমূল্যের সম্পদ থাকলে তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। পুরুষ ও নারী সবার জন্য এ বিধান প্রযোজ্য (ইবনে মাজাহ: ২২৬)।
মূলত, পবিত্র জিলহজ মাস একটি ফজিলতপূর্ণ মাস। সর্বপরি এটি হজ্জের মাসও। হাদিসে রাসূল (সা.)এ এই মাসে বেশি বেশি আমল আমল করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত এই মাসে বেশি বেশি আমল করে নিজেকে সালেহ বান্দাহ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করা।