ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

আবুল কালাম আজাদ

১৭ জুলাই ২০২১, ১৯:০৭

সমকালীন শিক্ষা সংকট, পর্ব-৩

19320_19225_dMjgNf.jpg
ছবি: সংগৃহীত
সমকালীন শিক্ষা সংকট, পর্ব-২এর পর থেকে

প্রথম পর্ব পড়তে: সমকালীন শিক্ষা সংকট, পর্ব-১
দ্বিতীয় পর্ব পড়তে: সমকালীন শিক্ষা সংকট, পর্ব-২

বস্তুতঃপক্ষে ইংরেজ আমল থেকে শুরু করে পাকিস্তান সর্বশেষ বাংলার যেকটি শিক্ষা কমিশন ঐতিহাসিকভাবে কাজ করেছে। তাদের উপরে যখনই দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, তারা নিজেরা কিছু চিন্তা না করে, দেশের পারিপার্শ্বিক অবস্থা না বুঝে বিদেশ যাওয়াও, বাইরের দেশের শিক্ষা পদ্ধতি সিলেবাস কারিকুলাম নিয়ে টানাটানি করার মতো অবস্থা প্রতীয়মান হয়েছে। বলা দরকার যে বর্তমান যে জেনারেল বা স্কুল পর্যায়ে যে শিক্ষা পদ্ধতি অব্যাহত আছে, তার সবটাই বিদেশী নীতি ও কারিকুলাম এবং পরিক্ষা পদ্ধতি অনুসরন করা হয়েছে। বলা যায় সৃজনশীল পদ্ধতি ও জি.পি.এ ইত্যাদি। আগে ছাত্রছাত্রীরা লেখাপড়া করে, জেনে বুঝে শিখে পরীক্ষায় অংশ নিতো। বর্তমান কিন্তু সে নিয়ম নীতি না থাকায়, স্কুল পর্যায়ে ছাত্র ছাত্রীরা অর্জন করে না। পাশের জন্য যতটুকু দরকার অর্জন করে। সৃজনশীল পর্যায়ে তেমন অধ্যায় প্রয়োজন ও হয় না।

বিধায় অধ্যায়ন যখনই কম হবে, তখন শিক্ষন ও শূন্য হয়ে যায়। বিধায় অর্জন, যা মৌলিক শিক্ষা থেকে কোমলমতি ছাত্ররা একদম দুরে চলে যায়। এখন জি.পি.এ ৫ পেয়েছে কিনা দেখা হয় কিন্তু আসলে কি আমাদের শিক্ষায় জি.পি.এ ৫ পেয়েছে কিনা দেখা হয় কিন্তু আসলে কি আমাদের শিক্ষায় জি.পি.এ ৫ দরকার না মৌলিক অর্জন দরকার? ব্যাপারটি লক্ষ্য করা দরকার। এখন আর আগের মতো পরীক্ষা হয়না। যে পরিমান ছেলে-মেয়ে এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি পরিক্ষায় উত্তীর্ন হয়, কিন্তু সে ভাবেতো বিশ^বিদ্যালয়ে ভালো করতে পারছেনা। বর্তমান স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষায়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে যে সিলেবাস কারিকুলামে রয়েছে, তা কোনটিই পরিপূর্ন নয়। এদেশের সামাজিক, ভৌগোলিক জাতি আদর্শে নির্বিশেষে সিলেবাস যথাযথ নয়। এর মূল কারন হল শিক্ষা কমিশনের সদস্যরা কোনদিন আপামর জনতার কাছে যায়নি। দেশের অবস্থা, দেশের ধর্মীয় অবস্থান, মানুষের আর্থ সামাজিক অবস্থার বিষয়ে তারা কারন ও চিন্তা করতে পারেনি। এদেশের মানুষের কর্মমুখী শিক্ষার কথা শিক্ষাবিদ গন ভাবেননি। যার ফলে বিদেশী অনুসৃত এ শিক্ষা পদ্ধতি কোন পাশ ও ফেলের কথা ভাবে, কিন্তু দেশ জাতির অনাগত দিনের ব্যাপারে একদম ভাবা হয় না। যার ফলে শুধুই বেশি পাশ দেখায়। জি.পি.এ ৫ দেখা যায়, কিন্তু অন্তঃসার শূন্যই মেলে বাস্তবে।
 
এ ব্যাপারে অধ্যাপক সৈয়দ আলি আহসান তার ‘শিক্ষার আদর্শ’ প্রবন্ধে বলেছেন, “যখনই কোনো শিক্ষা কমিশন হয়েছে, দেখা গেছে শিক্ষা কমিশনের সদস্যরা বিদেশে যাওয়ার জন্য আগ্রহী ব্যকুল হয়ে যান। একজন জাপানে যান, একজন রাশিয়া যান; এবং পাঁচ-পনেরো দিন থেকে এসে তারা শিক্ষা ব্যবস্থার একটা পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু এ কথা ও কখনো শুনিনি যে শিক্ষা কমিশনের সদস্যরা গ্রামের ভেতর গিয়ে গ্রামের মানুষের বাড়ি বাড়ি ঘুরেছেন, তাদের পরিকল্পিত অবস্থার কথা জিজ্ঞাসা করেছেন, তারা কিভাবে গড়ে উঠেছেন সেটা চিন্তা করেছেন, তা তো করেননি চিন দেশে যে ব্যবস্থা রয়েছে, সে শিক্ষা ব্যবস্থা তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা মানসিকতার সাথে নিগড়ভাবে যুক্ত। সে শিক্ষা ব্যবস্থা এককভাবে চিনদেশের জন্য।  সোভিয়েত ইউনিয়ন সমাজতান্ত্রিক দেশ, তাদের শিক্ষা ব্যবস্থাটা তাদের যে শ্রেণি চৈতন্য, সেই শ্রেনি চৈতন্যের সাথে সম্পর্কিত হয়ে গড়ে উঠেছে। সুতরাং এই শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ঠিক আমাদের বিশ্বাসের। আমাদের জীবন যাপনে আমাদের ইচ্ছার প্রতিনিধিত্ব করেনি। এই দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি আমাদের দেশের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাড়িয়েছে।”
 
আসলে শিক্ষা ব্যবস্থা নতুনভাবে সাজাতে যে শিক্ষা কমিশন যুগে যুগে হয়েছে, সৈয়দ আলি আহসান তার চিন্তা ও মন্তব্যে স্পষ্ট করে দিয়েছেন। স্বাধীনত্তোর যে সব কমিশন কাজ করেছে তা একান্ত রাজনৈতিক। শিক্ষার মাঝে যদি রাজনৈতিক নোংরা চিন্তার প্রভাব থাকে, তখন আর শিক্ষার মান থাকেনা। যেমন প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক কবির চৌধুরির নেতৃত্বে ১৮ সদস্যের কমিটি এই শিক্ষা নিতী প্রনয়ন করেন। এরপর ২০১১ সালের জুনের দিকে এ সরকার শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকে আহবান করে জাতীয় শিক্ষা নিতী ২০১০ বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির অধিনে দেশে কয়েকটি উপকমিটিকরা হয়েছিল, সেগুলো তখন কার্যকর হয়নি। আর শিক্ষানিতী ফাইলটি বস্তুত ফাইলবন্দি। কি ছিল শিক্ষানিতীতে। কথা ছিল ২০১১-১২ অর্থ বছরে প্রাথমিক শিক্ষাকে ৮ম শ্রেনিতে উন্নিত করার পদক্ষেপ নেয়া হবে, এবং ২০১৮ সালের মধ্যে তা বাস্তবায়িত করা হবে। বলা হয়েছিল চার বছরের স্নাতক সম্মানকে সমাপনি ডিগ্রী হিসেবে ও উচ্চশিক্ষায় শিক্ষকতা ও গবেষনা ছাড়া সব কর্মক্ষেত্রে যোগদানের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি। এমন আরো অনেক উদাহরন থেকে পরিষ্কার যে শিক্ষানিতী সেই অর্থে বাস্তবায়ন হয়নি। শিক্ষানিতীতে নেই অথচ ৫ম ও ৮ম শ্রেনি শেষে দুটি সমাপনি পরিক্ষা নেয়া হচ্ছে। শিক্ষানিতী প্রনয়নের এক দশকেও একটি শিক্ষা আইন করতে পারেনি মন্ত্রানালয়। কেবলই খসড়া হয়, আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে আবার স্থিমিত হয়ে যায়। এভাবে ৭/৮ বদর পেরিয়ে গেল। প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনে অনেক বিষয় থাকলেও বারবার সামনে চলে আসে কোচিং সেন্টার ও মোটা গাইড বা ইংরেজী মাধ্যম স্কুল।
 
শিক্ষানীতি ছাড়াই চলছে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা। শিক্ষার্থীরা ক্লাস করেছে, পরিক্ষা দিয়েছে, ফল প্রকাশ হয়েছে। শ্রেনিকক্ষের অনেকটাই কেটেছে কোচিং সেন্টারে, নোট গাইড বইয়ে। নিবন্ধ ছাড়াই চলছে নানা কেসেমের বিদ্যালয়। এভাবে খেয়াল খুশি মতো শিক্ষা ব্যবস্থা চলতে পারে না।
 
এদিকে সবার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ২০১০ সালের আইনটি সংশোধন করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশনের কাজী শহিদুল্লাহকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করেছে। ১ মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এসব লক্ষ্যে শিক্ষামন্ত্রনালয় সম্পাদিত স্থায়ী কমিটির নেতৃত্বে একটি উপকমিটি এবং ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান আর ম্যানেজারের নেতৃত্বে আরেকটি কমিটি কাজ শুরু করেছিল। প্রায় ৪ বছর আবার শোনা গেল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধিত হবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এর নিজস্ব ক্যাম্পাসে ব্যাপারটি ঐ রকম। শুধু হবে, হচ্ছে আর কমিটি গঠন পর্যন্তই। শিক্ষানিতী নিয়ে অনেক বিতর্ক ও আপেক্ষিক গতি তাদের। নিজস্ব চিন্তা-চেতনা, ভূমিকা নেই। অনুসরন অনুকরন আর অন্যের প্রতি লালসার মাত্রা খুব বেশি। যার ফলে শিক্ষার ক্ষেত্রে কোন নিতীগত ধারা না থাকার প্রতি নিয়ত মান কমছে শিক্ষার। যার ফলে মেধা মননের বিকাশ হচ্ছে না। সর্বপরি নোংরা রাজনিতির কালো ছায়া প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে তাড়িয়ে বেরাচ্ছে। আমাদের কর্মরত শিক্ষাবিদদের  এ ব্যাপারে সকল পর্যায় সমষ্টিতে এগিয়ে আসতে হবে।
 
*সমকালীন সাধারন সংকট:
শিক্ষক নিয়োগ ও পরিবেশ: দেশে শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনা আরেক আপেক্ষিক সংস্কৃতি হয়ে দাড়িয়েছে। কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ সামাজিক নোংরা ব্যাধিতে পরিনত হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতার আশির্বাদ নিয়ে টাকার অংক হাটবিক্রির মতো ডাকা হয়, কে কত লাখ দিতে পারবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সে ব্যাক্তি কতটুকু যোগ্য, বা আদৌ পড়াতে পারবে কিনা সে ব্যাপারে কারো কোন চিন্তা ভাবনা থাকে না। থাকে সবচেয়ে বেশি টাকা দিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও স্থানীয় নেতার পছন্দের ব্যক্তিকে নেওয়া হল কিনা। অর্থাৎ যোগ্যতার ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন থাকে না। শুধু দলীয় কিনা এবং বেশি টাকার খামটা দিতে পারছে কিনা। এটাই হল বর্তমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কমবেশি সংস্কৃতি বা অপসংস্কৃতি রুপে দেখা দিয়েছে। যার ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভালো শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছেনা। ফলে শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একসময় শিক্ষার পরিবেশ ও মারাত্মক খারাপের দিকে যায়। এ ধরনের অবস্থা সারাদেশে সাধারন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা সমভাবে ক্যনসারের ন্যায় রোগ বিস্তার করেছে। অর্থের মাধ্যমে যারা নিয়োগপ্রাপ্ত হন, তারা নিশ্চয়ই অযোগ্য। আর অযোগ্যদের স্থান সবচেয়ে খারাপ জায়গায়। যখন মানুষ যোগ্যতার পরিচয়ে ব্যর্থ হন, তখন শুরু হয় দুর্নিতি ও মিথ্যার জাল ফেলানো। এ ধরনের কালচার কোন দিন সুফল বয়ে আনে না।
 
বিজ্ঞান ও ইংরেজি শিক্ষার বেহালদশা: শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়ার যে নোংরা কালচার আমাদের সমাজ তথ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিরাজমান রয়েছে, তাতে এটাই প্রমানিত হয় যে, কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান, গনিত ও ইংরেজি শিক্ষক বাস্তবে নেই। যারা এ সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে শিক্ষক হয়, তারা তো আর ভালো পড়ানোর মতো শিক্ষক হতে পারে না। বিশেষ করে মফস্বল শহর বা গ্রামের কোন স্কুল বা মাদ্রাসার বিজ্ঞান-গনিত ও ইংরেজি বিষয়ে ভাল শিক্ষক আশা করা যায় না। দিন দিন অত্যন্ত মৌলিক বিষয়ের ভালো শিক্ষক কমে যাচ্ছে এরপর নিয়োগ ও হচ্ছে টাকা পয়সার বিনিময়ে অযোগ্যদের। এমন ও দেখা গেছে ইংরেজীতে শুধুই পাস করেছে, যদি বলা হয় ইংরেজীতে চাকরির দরখাস্ত করতে, তাহলে তো কলম ভাংগার মতো ব্যাপার হয়ে যায়। বর্তমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন দুর্দশা দুর্দিন যদি থাকে, তাহলে অনাগত দিনে শিক্ষার মান কোথায় গিয়ে থামবে কলা কঠিন। এজন্য এখনই সময় এ ব্যাপারে প্রতিকার ও প্রতিরোধ করা এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া।
 
নোট গাইড ও কোচিং কালচার: নোট বই নিষিদ্ধ করে আইনত করা হয়েছিল করা হয়েছিল ১৯৮০ সালে। আসলে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেনি পর্যন্ত পাঠ্য বইয়ের নোট মুদ্রন, ছাপা, বাধাই, প্রকাশনা, আমদানি বিতরন ও বিক্রয় নিষিদ্ধ এবং শাস্তি যোগ্য অপরাধ। প্রথম থেকেই আইনটি কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হয়নি। মাঝে মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রনালয় এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) আইনটির কথা মনে করিয়ে সতর্কীরন বিজ্ঞপ্তি দেয়। এ বছর আগে এ ধরনের একটি বিজ্ঞপ্তির পরিপ্রেক্ষিতেই প্রকাশকেরা আশ্রয় নেয়। পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীরা একাধিক বই পড়লে তো আরও শিখতে পারার কথা। কিন্তু নোট বা গাইড নামের এসব প্রশ্ন ও উত্তর লেখা থাকে। ছাত্রছাত্রীরা তা মুখস্থ করে। তাই কেবলমাত্র শিশু কিশোরদের যথার্থভাবে বিকাশ হয় না। তাছাড়া নোট গাইড মান ও পেশা দরকার থাকে না। কোন বয়সের শিশুকে কতটা জটিল শব্দ বা বাক্য শেখানো যাবে এসব বইয়ে সেই ক্রমবিন্যাস অনুসরন করা হয়না। তাই কোমলমতি শিশুদের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে সবচেয়ে বেশি। নোট ও গাইডের ওপর এই নির্ভরশীলতা সাম্প্রতিক চিত্র নয়।
 
এ কথা জানিয়ে শিক্ষাবিদ আব্দুল্লাহ আবু সায়িদ বলেছেন, “মূলত শিক্ষা ব্যবস্থাটাই এজন্য দায়ি। মুখস্থ নির্ভরতার কারনেই নোট গাইডের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। কেননা ছাত্রছাত্রী ও তাদের অভিভাবকেরা পাস এর নিশ্চয়তা চান। মেধার বিকাশের চেয়ে ফলাফলটি তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ন”।
 
শুধু ছাত্রছাত্রীদের ই নয়। অনেক শিক্ষক ও গাইডের ওপর নির্ভরশীল হতে দেখা দেখা যায়। এক বিষয়ের শিক্ষক অন্য বিষয় পড়াতে গিয়ে অনেকেই এ সহায়তা নেন। ভয়ানক দিকটি হল অনেক শিক্ষক ছাত্রছাত্রী    দের নির্দিষ্ট প্রকাশনীর নোট গাইড পরামর্শ দেন। নোট গাইড ও কোচিং এ ছাত্রছাত্রীরা হয়তো ভালো নম্বর বাড়াতে পারে , কিন্তু বাস্তবে শেখা বা ব্যবহারিকে হাতপাখা করা অথবা মৌলিকভাবে অর্জন করার পরিবর্তে হতাশাই বেশি দেখা যায়। কোচিং বানিজ্যে শিক্ষার্থীরা একটু ধারনা নিয়ে নিতে পারে। তবে কোচিং এর শিক্ষাটা গতানুগতিক অর্জন নয়। বরং পানের ব্যাপারে অন্তত নিশ্চিত হওয়া যায়। বিশেষ কয়েকটি দিক কোচিং এ পাওয়া যায়। যা কোন সচেতন, বিবেকবান ও শিক্ষিত ব্যক্তি কামনা করে না।
১.    কোচিংয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক পরিক্ষার প্রশ্ন আগেই দিতে পারেন।
২.    পরিক্ষার খাতায় আশাতীত পর্যাপ্ত নম্বর পাওয়া যায়।
৩.    পরিক্ষার উপযোগি যথার্থ সাজেশন পাওয়া যায়।
৪.    নির্দিষ্ট ভাবে একজন ছাত্রের চাওয়া পাওয়া সব বিষয়ই কোচিং দিতে পারেন।
মূল কথা কিছু শেখা যায়, এবং অনৈতিকভাবে শিক্ষার বিভিন্ন শিক্ষার বিভিন্ন সোপান পার হওয়ার অবৈধ পথ জেনে নেওয়া যায়। তবে কিছু কিছু কোচিং আছে, তারা প্রকৃত অর্থে ভালকিছু মৌলিক শিখার সুযোগ ও প্রচেষ্টা করে তাতে সন্দেহ নেই। পাশাপাশি নোট গাইড সহযোগী হতে পারে। কিন্তু বর্তমান সময়ের মত এত নির্ভরশীলতা থাকা ঠিক নয়।
 
অনিয়ম ই যেখানে নিয়ম: মাধ্যমিক শিক্ষার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে ২০০৫ সালের মধ্যভাগে প্রচলিত বিভিন্ন ধারার মাধ্যমিক শিক্ষা বিলুপ্ত করে ২০০৬ সাল থেকে নবম শ্রেনিতে কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত হয়। তখন দেশের মাধ্যমিক শিক্ষা গুলোতে যেসব সংকট ছিল সেসব সমস্যা এখনো রয়ে গিয়েছে। মাধ্যমিক শিক্ষা ও ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষা প্রশাসনের প্রশাসন ক্যাডার ও সাধারন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের প্রাধান্য রয়েছে। শিক্ষায় নিয়োগ, বদলি, নতুন পদ্ধতির প্রবর্তন, বিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য নির্ধারিত বিদেশে প্রশিক্ষন ও সেমিনারে অংশগ্রহনসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা আমলাতন্ত্রের মার প্যাচ ছিনিয়ে নেয়া থেকে শুরু করে সর্বত্রই দুই ক্যাডারের কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তার দাপটে চলে এর দ্বারা রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষা প্রশাসনের বড় পদে চাকরি করা শিক্ষা ও প্রশাসন ক্যাডারের কয়েকজন কর্মকর্তা বর্তমান প্রকল্প নির্ভর  মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্খার অনেকটাই এখন দাতা সংস্থার ঋন ও ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী পরিচালিত হয়। বর্তমান বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা পরিচালনা, শিক্ষক নিবন্ধন, পরিক্ষা, শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষক কর্মচারিদের বেতন-ভাতা, শিক্ষার্থী ভর্তি, বিদ্যালয় পরিদর্শন, শিক্ষক প্রশিক্ষন, ছুটি পদোন্নতি, শাস্তি ও পুরষ্কার, অবসর সুবিধা হিসেবে এককালিন কিছু টাকা প্রদান, সর্বক্ষেত্রে রয়েছে অনিয়ম। আর এসবের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নৈতিবাচক প্রভাব পড়ছে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর উপর। সকল ক্ষেত্রে দুর্নিতি আর অনিয়মে ভরা।