ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

১৬ জুলাই ২০২১, ০৯:০৭

পোশাকশিল্প সচল রাখা দরকার

19311_GGG.jpg
তৈরি পোশাকখাত আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। কিন্তু করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সে ধারায় কিছুটা হলেও ছন্দপতন ঘটেছে। সে নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে ওঠার জন্য চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানা চালু রাখা সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু পবিত্র ঈদুল আজহার পর দুই সপ্তাহ সকল প্রকার কারখানা বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনা সংশ্লিষ্টদের কপালে ভাঁজ ফেলে দিয়েছে। পোশাক রপ্তানি ও ক্রয়াদেশ পাওয়ার এই ভরা মৌসুমে সরকারের এমন সিদ্ধান্ত মালিপক্ষ সংগত মনে করছেন না।
তারা দাবি করছেন, জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস প্রায় প্রতিদিনই প্রচুর পরিমাণ শীতের পোশাক রপ্তানি হয়। দুই সপ্তাহ কারখানা বন্ধ থাকলে ক্রয়াদেশ অনুযায়ী লিড টাইম মেনে পণ্য সরবরাহ করতে পারবে না কারখানাগুলো। তখন বিদেশি ক্রেতারা ক্রয়াদেশ বাতিল করবে বা মূল্যছাড়ের সুবিধা নেবে। উড়োজাহাজে পাঠাতে হলেও বিপুল লোকসান গুনতে হবে। আবার আগামী বসন্ত ও গ্রীষ্মের ক্রয়াদেশ আসার গতিও কমে যাবে। অনেক ক্রেতা ক্রয়াদেশ অন্য দেশে সরিয়ে নেবে।
করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে গত এপ্রিলে সরকার বিধিনিষেধ দিলেও রপ্তানিমুখী পোশাকসহ অন্যান্য শিল্পকারখানা উৎপাদন চালানোর সুযোগ পায়। সর্বশেষ গত ২৮ জুন শুরু হওয়া সীমিত আকারের ও পরে ১ জুলাই থেকে চলমান কঠোর বিধিনিষেধেও পোশাকসহ অন্যান্য শিল্পকারখানা চালু থাকে। কিন্তু গত ১৩ জুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা নতুন প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ঈদ-পূর্ববর্তী ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা, দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে ১৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই সকাল পর্যন্ত সব ধরনের বিধিনিষেধ শিথিল থাকবে। এরপর আবার কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হবে, চলবে ৫ আগস্ট রাত ১২টা পর্যন্ত। এই সময়ে কঠোর বিধিনিষেধে সব ধরনের শিল্পকারখানা বন্ধ থাকবে।
জানা গেছে, করোনার চ্যালেঞ্জের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে আগামী বসন্ত ও গ্রীষ্ম মৌসুমের পোশাকের প্রচুর ক্রয়াদেশ পাচ্ছেন পোশাকশিল্প মালিকেরা। ইতিমধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানই আগামী মার্চ পর্যন্ত তাদের কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা অনুযায়ী ক্রয়াদেশের বুকিং পেয়েছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের ক্রয়াদেশ সক্ষমতার চেয়েও বেশি। সব মিলিয়ে ২০১৯ সালে যখন করোনা ছিল না, তার তুলনায় বর্তমানে ৫-১০ শতাংশ বেশি ক্রয়াদেশ আসছে বলে জানালেন কয়েকজন পোশাকশিল্প মালিক।
এবারের শীত মৌসুমেও ক্রয়াদেশ ছিল আশাব্যঞ্জক। সে কারণে গত এপ্রিল থেকে পোশাক রপ্তানি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। গত মাসে শেষ হওয়া ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩ হাজার ১৪৫ কোটি ডলারের (২ লাখ ৬৭ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা) পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এই আয় আগের ২০১৯-২০ অর্থবছরের চেয়ে সাড়ে ১২ শতাংশ বেশি। করোনার কারণে আগের অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি কমে ২ হাজার ৭৯৪ কোটি ডলারে নেমেছিল। ওই বছরের শেষ তিন মাস মহামারিতে বিপর্যস্ত হলেও সদ্য বিদায়ী অর্থবছর পুরোটাই ছিল করোনাময়। তারপরও এই অর্থবছরে ভালো করেছে বাংলাদেশ।
ঈদের পর কারখানা বন্ধের ঘোষণায় মালিকেরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বলে জানা গেছে। তারা মনে করছেন, দুই সপ্তাহ কারখানা বন্ধ রাখলে বড় ধরনের ক্ষতি হবে। বিপুলসংখ্যক ক্রয়াদেশ বাতিল ও মূল্যছাড়ের ঘটনা ঘটবে। কারণ, ইউরোপ ও আমেরিকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে। পোশাকের ব্র্যান্ডের দোকানে বিক্রিও বেড়েছে। ফলে তাদের বর্তমানে প্রচুর পোশাক দরকার।
সরকার করোনার ভয়াবহতা নিয়ন্ত্রণের জন্য নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তা করা হচ্ছে জাতীয় স্বার্থেই। কিন্তু মালিকপক্ষ ২ সপ্তাহ কারখানা বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্তে যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তাও উপেক্ষা করার মত নয় বরং যৌক্তিক বলেই মনে হয়। সঙ্গত কারণেই তাদের উদ্বেগের বিষয়টিও  বিবেচনা নিতে হবে। দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থেই এই শিল্পকে সচল রাখা দরকার। অন্যনায় জাতীয় অর্থনীতিতে নেমে আসবে বড় ধরনের বিপর্যয়।