ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

১৫ জুলাই ২০২১, ০৯:০৭

চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করুন

19278_RRRR.jpg
সম্প্রতি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে, দেশে চালের দাম অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে বলা হয়, দেশে বোরো মৌসুমে চালের উৎপাদন বেশ ভালো। সরকারি গুদামে মজুত বেড়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দাম কমতির দিকে। কিন্তু দেশে বাজারের চিত্র তার পুরোপুরি বিপরীত। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবেই রাজধানীর বাজারে মোটা চাল প্রতি কেজি ৫০ টাকার কাছাকাছি। যা গত বছরের এ সময়ের চেয়ে দর ১৩ শতাংশ বেশি। মূলত, প্রতিবছর বোরো মৌসুমে দেশে চালের দাম অনেকটাই কমে যায়। কারণ, এ মৌসুমে মোট চালের ৫৫ শতাংশের বেশি উৎপাদিত হয়। এবার দাম তেমন একটা কমেনি বরং মৌসুম শেষ না হতেই বাড়তে শুরু করেছে।
বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মধ্যে বাংলাদেশেই এখন চালের দাম সর্বোচ্চ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এএফও) সর্বশেষ প্রতিবেদন এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দৈনিক খাদ্যশস্য প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সব দেশে চালের দাম কমেছে। ফলে বাংলাদেশ মোটা চাল আমদানি করলে প্রতি কেজি দাম পড়বে ৩৩ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে, যা বাংলাদেশের বর্তমান বাজারদরের চেয়ে অনেক কম।
শুধু মোটা চাল নয়, মাঝারি ও সরু চালের দামও কমেনি। ঢাকার খুচরা দোকানে মাঝারি বিআর-২৮ ও সমজাতীয় চাল মানভেদে ৫২ থেকে ৫৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছরের চেয়ে ১০ শতাংশের মতো বেশি। আর সরু মিনিকেট চাল ৬০ থেকে ৬২ টাকা ও নাজিরশাইল চাল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয় বাজারে। এ ক্ষেত্রে দাম গত বছরের চেয়ে ৮ শতাংশ বেশি।
দেশে গত বছর চালের দাম বেশ চড়া ছিল। এখন তার চেয়েও বেশি দাম দিয়ে চাল কিনতে হচ্ছে মানুষকে। করোনা নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে কঠোর বিধিনিষেধে অনানুষ্ঠানিক খাতের মানুষের আয় কমেছে। এর মধ্যে চাল, চিনি, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও স্বস্তি না থাকায় স্বাভাবিকভাবেই জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
দেশে বোরো, আমন ও আউশ মৌসুমে বছরে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টন চাল উৎপাদিত হয়। গত বছর বোরোতে উৎপাদিত হয়েছিল প্রায় ১ কোটি ৯৬ লাখ টন চাল। এ বছর বোরোতে উৎপাদন ২ কোটি টনের বেশি হয়েছে বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ। এদিকে সর্বশেষ হিসাবে খাদ্য অধিদপ্তরের গুদামে চালের মজুত দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৬৬ হাজার টনে, যা দেড় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
করোনা পরিস্থিতিতে এমনিতেই দেশের দরিদ্র মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। চলমান বিধিনিষেধে নতুন করে বহু মানুষের আয় কমেছে। এমতাবস্থায় চালের অগ্নিমূল্য সার্বিক পরিস্থিতির বড় ধরনের অবনতি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশে চাল যে আমদানি করতে হবে, তা উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিবিষয়ক সংস্থা ইউএসডিএর বিশ্বের কৃষিপণ্যের উৎপাদন পরিস্থিতি প্রতিবেদনে। গত ১৩ জুলাই প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে চলতি বছর ৩ কোটি ৫৩ লাখ টন চাল উৎপাদিত হবে। তবে দেশে চাহিদা দাঁড়াবে ৩ কোটি ৬১ লাখ টন। বাকি চাল বাংলাদেশকে আমদানি করতে হবে।
আসলে উৎপাদন পরিস্থিতি ও অপর্যাপ্ত মজুতই চালের মূল্যস্ফীতির কারণ নয় বরং এজন্য বাজার সিÐিকেটই প্রধানত দায়ি। তাই চলমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি, বিদেশ থেকে চাল আমদানী সহ চালের অগ্নিমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার ও সংশ্লষ্ট বিভাগকে বাজার মনিটরিং-এর কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বাজার সিÐিকেট ভেঙে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রেখে চালের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে হবে । অন্যথায় জনদুর্ভোগ রোধ করা যাবে না।