ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা

১৪ জুলাই ২০২১, ০৩:০৭

গভীর সংকটে চামড়া ও চামড়াশিল্প

19248_CH.jpg
আমাদের চামড়াশিল্প খুবই সম্ভবনাময়। বিশাল জনগোষ্ঠীর আমিশের চাহিদা পূরুণের জন্য সারাবছরই পশু জবেহ করতে হয়। এছাড়াও ঈদুল আজহায় ১ কোটি ২০ লাখেরও বেশি পশু কোরবানী হয় প্রতিবছর। কিন্তু আমরা এই বিশাল চামড়া ভান্ডারকে যথাযথ কাজে লাগাতে পারছি না। না পারছি কাঁচা চামড়া বাজারজাত করতে; আবার চামড়াকেন্দ্রীক শিল্পেও আমাদের আহামরি কোন সাফল্য নেই। সরকারের যথাযথ উদ্যোগের অভাব ও সিন্ডিকেটের কারণে আমাদের এই সম্ভবনাময় শিল্প এখন গভীর সংকটে পড়েছে। নিকট অতীতে রপ্তানিতে তৈরি পোশাকের পরেই চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের অবস্থান ছিল। কিন্তু আমরা সে অবস্থানটা ধরে রাখতে পারিনি। শুধু পরিকল্পিতভাবে দাম কমিয়ে মানুষ ঠকানোর বৃত্তের মধ্যেই আটকা পড়েছে অপার সম্ভবনার এই শিল্প।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে চামড়া ও চামড়াশিল্প নিয়ে নানাবিধ ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। প্রতিবছর ঈদুল আজহার সময় এই তৎপরতা বেশি লক্ষ্য করা যায়। সে ধারাবাহিকতায় কয়েক বছর ধরে অস্বাভাবিক কম দামে কোরবানির চামড়া বিক্রি করতে হচ্ছে। এমনকি নি¤œমূল্যের কারণে চামড়া পচে নষ্ট হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সরকার প্রতিবছর চামড়ার দাম বেঁধে দিলেও সিÐিকেটের কারণে বিক্রেতারা চামড়ার নায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। 
এই প্রেক্ষাপট ইচ্ছকৃতভাবেই তৈরি করেন একশ্রেণির ট্যানারি মালিক আর আড়তদাররা। আড়তদাররা দাবি করেন, ট্যানারি মালিকরা চামড়া নিয়ে দাম পরিশোধ করেন না। অন্যদিকে ট্যানারি মালিকরা এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে এসেছেন। ফল যা হওয়ার তাই হচ্ছে। টাকা না থাকার অজুহাতে ঈদের দিন আড়তদাররা চামড়া কিনতে নানাবিধ টালবাহানা করেন। ফলে বিক্রেতাদের তাদের কাছেই খুব কম দামে চামড়া বিক্রি করতে হয়। 
মূলত, নামমাত্র মূল্যে চামড়া কেনার জন্য এটা ব্যবসায়ীদের এক ধরনের অপকৌশল মাত্র। এবারও তার অন্যথা হবে বলে মনে হয় না। ঈদ ঘনিয়ে আসায় গতবারের মতো এবারও সংশ্লিষ্টরা ইতোমধ্যেই করোনা মহামারিকে বাড়তি অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে শুরু করেছেন। যদিও চামড়াজাত পণ্যের দাম এখন আকাশচুম্বী। আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার দরপতনের কথা বলা হলেও তা মোটেই বাস্তবসম্মত নয়। ট্যানারি মালিকরা বকেয়া পরিশোধ করেননি, তাই চামড়া সংগ্রহ করতে পারবেন কি না তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও কাঁচা চামড়ার আড়তদাররা চামড়া সংরক্ষণের আয়োজন শুরু করেছেন বেশ জোড়েসোরেই।
বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিএইচএসএমএ) জানিয়েছে, লালবাগে ১৫০টি কাঁচা চামড়া সংগ্রহের আড়ত রয়েছে। এসব আড়ত থেকে ১৫০ কোটি টাকার কাঁচা চামড়া নিয়েছেন ট্যানারি মালিকেরা। কিন্তু ২০১৭ সালের পর এখনো কাঁচা চামড়া বাবদ টাকা পরিশোধ করেনি। এমতাবস্থায় আসন্ন কোরবানির ঈদে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ নিয়ে বিপাকে আড়তদারেরা। প্রতিবছর দুই কোটি ২৫ লাখ পশুর চামড়া হয়। এর মধ্যে কোরবানির সময় পাওয়া যায় এক কোটি ২০ লাখ থেকে এক কোটি ২৫ লাখ চামড়া।
কেউ কেউ দাবি করছেন, কাঁচা চামড়া নিয়ে তারা বেশ উদ্বেগ-উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছেন। কারণ, ট্যানারি মালিকেরা বকেয়া পরিশোধ না করায় তারা বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। দেশের ট্যানারি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) জানায়, বকেয়া না পাওয়ার অভিযোগ পুরোপুরি সত্য নয়। দুই চারটি ট্যানারি দেউলিয়া হয়ে গেছে। শুধু তাদের কাছ থেকেই আড়তদাররা টাকা পাবেন। কিন্তু নিরপেক্ষ বিবেচনায় ট্যানারী মালিকদের দাবিও পুরোপুরি সত্য নয়।
নায্যমূল্য নিশ্চিত করার জন্য কোরবানি ঈদের এক সপ্তাহ আগে চামড়ার দাম ঠিক করে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত বছর ঈদুল আজহায় ঢাকার জন্য লবণযুক্ত গরুর কাঁচা চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৩৫ থেকে ৪০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ২৮ থেকে ৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। খাসির চামড়া সারা দেশে প্রতি বর্গফুট ১৩ থেকে ১৫ টাকা ও বকরির চামড়া ১০ থেকে ১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। চলতি বছরে চামড়ার দাম একই রাখার জন্য সুপারিশ করেছে বিটিএ। কিন্তু গত বছর ট্যানারী মালিক ও আড়তদাররা সরকারের বেধে দেয়া মূল্যে চামড়া কেনেনি। এবারও একই অবস্থার পূণরাবৃত্তি হবে বলে  মনে করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, গত বছরের তুলনায় এবার সারাদেশে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা বেড়েছে। গত বছর সারাদেশে কোরবানি জন্য লালন-পালনকৃত পশুর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০টি। আসন্ন ঈদুল আযহা ২০২১ সালে মাঠ পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী কোরবানিযোগ্য ৪৫ লাখ ৪৭ হাজার গরু-মহিষ, ৭৩ লাখ ৬৫ হাজার ছাগল ভেড়া, ৪ হাজার ৭৬৫টি অন্যান্য প্রজাতিসহ সর্বমোট প্রায় ১ কোটি ১৯ লাখ ১৬ হাজার ৭৬৫টি গবাদি পশু প্রস্তুত আছে। কোরবানির ঈদে প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ ৫৭ হাজার গরু, মহিষ ও ছাগল কোরবানি দেওয়া হবে। এর মধ্যে ১ কোটি কাঁচা চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে আড়তদারদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিএইচএসএমএ), বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) ও বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএলএলএফই)। কিন্তু নানা অজুহাতে তা কেনা হবে নামমাত্র মূল্যে তাও আগেই ঠিক করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিকট অতীতে চামড়া খুব ভাল দামেই বিক্রি হয়েছে। কিন্তু সরকারের অব্যবস্থাপনা আর সিÐিকেটের কারণে সম্প্রতি চামড়ার বাজারের বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। ফলে বিক্রেতারা যেমন চামড়ার নায্যমূল্য পাননি, ঠিক তেমনিভাবে চামড়াশিল্পের যথাযথ বিকাশও ঘটেনি। বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে। আগে ট্যানারী মালিক ও আড়তদাররা চামড়া কেনার জন্য ব্যাংক থেকে যে পরিমাণ ঋণগ্রহণ করতেন তা এখন একেবারের তলানীতে এসে ঠেকেছে। আর এমনটি হয়েছে চামড়ার অবিশ^াস্য দরপতনের কারণেই। কারণ, চামড়ার ব্যবসা করতে এখন আর বেশি পুঁজির দরকার হচ্ছে না।
ব্যাংক সূত্র জানাচ্ছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া কিনতে ব্যবসায়ীদের তহবিলের জোগান দেয়ার বরাদ্দ রাখা হলেও ঋণ নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। গত বছর ঈদুল আজহার আগে ৫ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকসহ ৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংক এ খাতে বরাদ্দ রেখেছিল ৬৪৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। কিন্তু এর বিপরীতে ব্যবসায়ীরা ঋণ নিয়েছিল মাত্র ৬৫ কোটি টাকা। এবারও চামড়া কিনতে ব্যবসায়ীদের ৫৮৩ কোটি টাকার তহবিলের জোগান দেয়ার জন্য বরাদ্দ রেখেছে চার রাষ্ট্রায়ত্তসহ ৯ বাণিজ্যিক ব্যাংক। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রেখেছে রূপালী ব্যাংক ২২৭ কোটি টাকা। এরপর জনতা ব্যাংক ১৪০ কোটি টাকা, অগ্রণী ব্যাংক ১২০ কোটি টাকা এবং সোনালী ব্যাংক ২৫ কোটি টাকা। বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে চামড়া কিনতে বেশি রেখেছে ইসলামী ব্যাংক ৬৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান মতে, গত বছর অগ্রণী ব্যাংক ১৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছিল। কিন্তু বিপরীতে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ২০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এবারও ব্যাংকটি এ খাতে ঋণ দিতে ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। রূপালী ব্যাংক গত বছর চামড়া খাতে ঋণ দেয়ার জন্য ১৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছিল। কিন্তু ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ১১ কোটি টাকা। এবারও ব্যাংকটি এ খাতে ঋণ দেয়ার জন্য সর্বোচ্চ বরাদ্দ রেখেছে ২২৭ কোটি টাকা। জনতা ব্যাংক গত বছর ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছিল। কিন্তু ব্যবসায়ীরা এই ব্যাংক কোনো ঋণই গ্রহণ  করেন নি। এবারও ব্যাংকটি ১৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে এ খাতে ঋণ দেয়ার জন্য। সোনালী ব্যাংক গত বছর ৭১ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছিল এ খাতে ঋণ দেয়ার জন্য। কিন্তু ব্যাংকটি ঋণ বিতরণ করেছিল ২০ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এবার ব্যাংকটি এ খাতে ঋণ দিতে বরাদ্দ রেখেছে ২৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া বেসিক ব্যাংক তিন কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেও গত বছর এক টাকাও ঋণ বিতরণ করতে পারেনি।
বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে ইসলামী ব্যাংক গত বছর ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ১২ কোটি ২১ লাখ টাকা ঋণ দিয়েছিল। এবারো ব্যাংকটি কাঁচা চামড়া কিনতে ৬৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা রাদ্দ রেখেছে। আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক গত বছর ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ঋণ দিয়েছিল মাত্র ১ কোটি টাকা। এবার ব্যাংকটি বরাদ্দ রেখেছে ১ কোটি ৯ লাখ টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, গত বছর ঢাকা ব্যাংক ৫০ কোটি টাকা, প্রাইম ব্যাংক ৫০ লাখ টাকা, বরাদ্দ রেখেও ঋণ শেষে ঋণ বিতরণ করতে পারেনি। আর এবার বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক আড়াই কোটি টাকা, এনসিসি ব্যাংক ৫০ লাখ টাকা এবং দি সিটি ব্যাংক ২০ লাখ টাকা চামড়া কিনতে ঋণ দেয়ার জন্য বরাদ্দ রেখেছে।
তবে ট্যানারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) বলছে ভিন্নকথা। সংগঠনটি দাবি করেছে, যে পরিমাণ ঋণ বিতরণের তথ্য দেয়া হচ্ছে তার চেয়েও বেশি পরিমাণ ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো। ট্যানারিগুলো স্থানান্তরের কারণে ও করোনার প্রভাবে ব্যবসায়ীরা ঋণ পরিশোধ করতে পারেনি। ফলে অনেকেই ঋণখেলাপি হয়ে পড়েছেন। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে সার্কুলার দিয়েছে তা তাদের অনুকূলে না যাওয়ায় তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সার্কুলার সংশোধনের জন্য অনুরোধ করবেন। যদিও এবার আগের চেয়ে রপ্তানী বেড়েছে, তবে করোনা ও টানা লকডাউনের কারণে এখনো ইউরোপের বাজার স্বাভাবিক হয়নি। চীনের বাজারে চামড়া রফতানির সম্ভাবনা আছে। এখন যদি চীনের নন-ট্যারিফ বাধাগুলো কমানো যায় তাহলে বাজার সম্প্রসারিত হবে। কিন্তু তার পরও অভ্যন্তরীণ বাজারে কাঁচা চামড়ার অস্বাভাবিক দরপতন কোন ভাবেই কাঙ্খিত নয়।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী চামড়া রফতানিতে আয় বেড়েছে। ইপিবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে (২০২০-২১) চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি করে আয় হয়েছে ৯৪ কোটি ১৬ লাখ ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং এর আগের অর্থবছর থেকে প্রায় ৩১ শতাংশ বেশি। বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য থেকে আয় হয়েছিল ৭৯ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। নতুন অর্থবছরে ১৩১ কোটি ডলারের রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে সরকার।
 
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কাঁচা চামড়ার বিষয়ে বিটিএ-এর বক্তব্য হচ্ছে, চলতি সপ্তাহে সরকার দাম বেঁধে দেবে। যেহেতু বিশ্ববাজারে চামড়ার দাম যেহেতু বাড়েনি, তাই গত বছর সরকার যে দাম বেঁধে দিয়েছিল, আমরা চাই এবারও সেটি থাকুক। কিন্তু বিটিএ-এর এই দাবি যথাযথ বলে মনে করছেন না সংশ্লিষ্টরা। তারা জানাচ্ছেন, বিশ^ বাজারে চামড়া ও চামড়াজাত পন্যের দাম ক্রমবর্ধমান। তাই কাঁচা চামড়া রপ্তানী ও দেশে চামড়া কেন্দ্রীক শিল্প স্থাপন করা গেলে তা জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
জানা গেছে, আসন্ন কোরবানি উপলক্ষে কাঁচা চামড়ার দাম নির্ধারণসহ অন্যান্য বিষয়ে জরুরি বৈঠক করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ওই সভায় জানানো হয়, এবারও কোরবানির কাঁচা চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেয়া হবে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে এ দাম বেঁধে দেয়া হবে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে কেনার কারসাজি হলে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু এসব কথাকে চর্বিত-চর্বনই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, অতীতে এমন কথা বলা হলেও বাস্তবে তার তেমন কোন প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়নি।
মূলত, সরকারের অব্যস্থাপনা, উদাসীনতা, শ্রেণিপ্রীতি ও লাগামহীন সিÐিকেটের কারণেই আমাদের দেশের সম্ভবনাময় চামড়াশিল্প বিকশিত হতে পারেনি। বহির্বিশে^ বাংলাদেশের চামড়া ও চামড়াজাত পন্যের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও সরকারের যুৎসই ও সময়োপযোগী পরিকল্পনার অভাবেই সে সম্ভবনাগুলোও কাজে লাগানো যাচ্ছে না। শুধুই দরপতনের মাধ্যমে টাউট-বাটপাররাই উপকৃত হচ্ছে। আগ্রহ হারাচ্ছেন চামড়াসংশ্লিষ্টরা। ফলে আমাদের দেশের চামড়া ও চামড়াশিল্প পড়েছে বড় ধরনের সংকটে। এমতাবস্থায় চামড়াশিল্পে সুদিন ফিরিয়ে আনতে সরকারকেই কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ  করতে হবে। দরপতনের জন্য যে সিÐিকেট গড়ে ওঠেছে সবার আগে তা ভাঙতে হবে।  অন্যথায় অপার সম্ভবনার এই শিল্পের ধ্বংস রোধ করা যাবে না।