ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

১৩ জুলাই ২০২১, ০৯:০৭

সেজান জুস কারাখানা ট্রাজেডি

শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ দরকার

19226_LLLL.jpg
আমাদের দেশের শিল্প কারখানাগুলোতে কর্মপরিবেশের নিয়ে প্রশ্নটা নতুন কিছু নয়। এক্ষেত্রে কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে প্রশ্ন দীর্ঘ দিনের।  বিশেষ করে আপদকালীন সময়ে শ্রমিকদের জীবন রক্ষার বিষয়টি নিয়ে দেশে-বিদেশে রয়েছে নানাবিধ প্রশ্ন। প্রশ্ন রয়েছে বিল্ডিং কোড নিয়েও। সম্প্রতি  নারায়ণগঞ্জে সেজান জুসের কারখানা ট্র্যাজেডির মধ্য দিয়ে আবারও শিল্প কারখানার কর্মপরিবেশের দুর্বলতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রানা প্লাজা ও তাজরীনের দুর্ঘটনার মাধ্যমে রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল।
এত দিন পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ দিয়েই এ দেশের শিল্পখাতের কর্মপরিবেশের মান বোঝানো হতো। তাই রানা প্লাজা ও তাজরীনের দুর্ঘটনার পর কয়েক বছরে তৈরি পোশাক খাতে কর্মপরিবেশ নিয়ে অনেক কাজ হয়েছে। এসব কাজ বিদেশি ক্রেতাদের প্রশংসাও পেয়েছে। কিন্তু রূপগঞ্জের ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, পোশাক কারখানার মানের মাধ্যমে শিল্পখাতের কর্মপরিবেশের মানদÐের বিষয়টি মোটেই সঠিক নয়। সাম্প্রতিক ঘটনার মাধ্যমে আমরা উপলদ্ধি করা গেছে যে, শুধু তৈরি পোশাক খাত নয় বরং পুরো শিল্পখাতই শ্রমিক বান্ধব নয়।
তৈরি পোশাকখাত বাদে অন্য শিল্পকারখানার কর্মপরিবেশ নিয়ে আগে কখনো খুব একটা কাজ হয়নি। সাম্প্রতিক বিয়োগান্তক ঘটনায় প্রমাণ হয়, শুধু পোশাক কারখানা নয় বরং পুরো শিল্প সেক্টরেই কর্মপরিবেশ নিয়ে কাজ শুরু হওয়া দরকার। কারণ, কর্মপরিবেশের বিষয়টি এখন শুধু পোশাক খাতেই আর সীমাবদ্ধ নেই। পোশাক ছাড়া অন্য শিল্প খাতগুলো এখন দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পণ্য সরবরাহ চেইনের মধ্যে চলে এসেছে। সেজান জুসের প্রতিষ্ঠানটি দেশের বাজারের পাশাপাশি বিদেশেও পণ্য রপ্তানি করছে।
জানা গেছে, রূপগঞ্জের এই প্রতিষ্ঠানটিতে বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মান করেনি। ভবন তৈরির পর নকশা অনুযায়ী জায়গাও ব্যবহার করা হয়নি। শ্রমিকেরা নির্বিঘেœ চলাচল করার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধাও রাখা হয়নি। অগ্নিকাÐের সতর্কতা ব্যবস্থাও উপেক্ষিত ছিল। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে শিশুশ্রমের অভিযোগও রয়েছে। সেজান জুসের কারখানার দুর্ঘটনার জন্য সবচেয়ে বেশি দায় মালিকের। তিনি কারখানার কর্মপরিবেশের মানদÐ রক্ষা করেননি। এই প্রতিষ্ঠানটির এমন অব্যবস্থাপনা কেন পরিদর্শন কর্তৃপক্ষের চোখে পড়েনি, তা-ও নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে নানাবিধ প্রশ্ন।
দেখা যায়, আমাদের দেশে বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলে সংশ্লিষ্টদের টনক নড়ে না। দেশের আত্মসচেতন মানুষ তাই এবার সংশ্লিষ্টদের কাছে দায়িত্বশীল আচরণ আশা করছেন। এমতাবস্থায় অনতিবিলম্বে পুরো শিল্প সেক্টরকেই সংস্কারের আওতায় আনার আবশ্যকতা দেখা দিয়েছে। শুধু ব্যবসা নয় বরং কর্তৃপক্ষে মানুষকে মানুষ হিসাবে বিবেচনা করতে হবে। আর এক্ষেত্রে তৈরি পোশাক খাতের সংস্কারকে মডেল হিসাবে গ্রহণ করা যেতে পারে।
একথা অস্বীকার করা যাবে না যে, রূপগঞ্জের ঘটনাটি বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের জন্য একধরনের ভাবমূর্তির সংকট সৃষ্টি করেছে। রপ্তানিমুখী পোশাকখাত গত কয়েক বছরে যে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করেছিল, সেটি নিয়েও নতুন করে প্রশ্নে সৃষ্টি হয়েছে। আবার পোশাক খাতের বাইরে বিভিন্ন খাতের রপ্তানি বাড়ছে। কিন্তু এই ঘটনার কারণে রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিদেশি ক্রেতারা দ্বিধান্বিত হতে পারেন। তাই দেশের শিল্পখাত রক্ষা ও শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রয়োজন সংস্কার আনা দরকার। অন্যথায় আমাদের উৎপাদিত পণ্য বহির্বিশে^ বাজার হারাতে পারে।