ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

আবুল কালাম আজাদ

১২ জুলাই ২০২১, ২১:০৭

সমকালীন শিক্ষা সংকট, পর্ব-২

19225_dMjgNf.jpg
ছবি: সংগৃহীত
সমকালীন শিক্ষা সংকট, পর্ব ১এর পর থেকে

প্রথম পর্ব পড়তে: সমকালীন শিক্ষা সংকট, পর্ব-১

অধ্যাপক সৈয়দ আলি আহসান তার ‘শিক্ষার আদর্শ’ শীর্ষক প্রবন্ধে বলেছেন, “একটি ইংরেজ শিশু যখন বড় হয়, সে কিন্তু তার ধর্মীয় শিক্ষা ধরেই উদ্বুদ্ধ হয়। সে বাইবেলের সংগে ক্রমশ পরিচিত হয়, বাইবেলের গল্প-কাহিনীর সাথে পরিচিত হয়  এবং খৃষ্টান ধর্মের বিভিন্ন সংগ্রাম, ইতিহাস, ঘটনার সংগে পরিচিত হয়। অর্থাৎ ইংল্যান্ডের একটি ছেলে মূলত খ্রিষ্টান হিসেবে গড়ে উঠে। খ্রিষ্টান হিসেবে গড়ে উঠে তার অর্থ ধর্মান্ধ হয়ে গড়ে উঠে না, বরং তার উপলব্ধির মধ্যে ধর্মীয় একটা চেতনা সব সময় কাজ করে। কিন্তু আমাদের সেই শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে সে ধর্মীয় চিন্তা চেতনাকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া হল।”
 
অধ্যাপক মুহাম্মদ কুতুব তার ‘আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় ধর্মের ভূমিকা’ শীর্ষক প্রবন্ধে বলেছেন, “ইসলাম ফিরাউনি, গ্রীক, রোমান, ব্যবিলনীয় ও এ্যসিরিয় সভ্যতার মতো প্রাচীন সভ্যতাকে জাহেলীয়াত বা অজ্ঞতা বলে বিবেচনা করে। ইসলামের দৃষ্টিতে রাসূলুল্লাহ (স.) এর সাহাবিদের সময়কালেই বিশ্ব সভ্যতার ইতিহাসে সর্বত্তম যুগ। অন্যদিকে বিরাট বস্তুগত সভ্যতা এবং ব্যপক বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সত্ত্বেও বর্তমান যুগের জাহেলিয়াতের অন্ধকারাচ্ছন্নতার তুলনায় পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। মানুষের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক অধঃপতন এখন ভয়াবহ আকারে সর্বত্র সর্বনাশের যে কালো ছায়া বিস্তার করেছে, অতীতে আর কখনো তা ঘটেনি।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষাই শুধুমাত্র মানুষের বস্তুগত সাফল্য বিবেচনা করলেই চলবে না। বস্তুগত সাফল্য তো প্রকৃত সাফল্যের ভিত্তি রুপে কাজ করে মাত্র। এক্ষেত্রে বিচারের প্রধান মাপকাঠি হল, বস্তুগত সাফল্য আল্লাহর  নির্দেশের ভিত্তিতেই অর্জিত কিনা। ঈমান দ্বারা ও অবিশ্বাসী নির্বিশেষে যে কেউ পৃথিবীতে বস্তুতান্ত্রিক সভ্যতা গড়ে তুলতে সক্ষম।  কিন্তু দুইয়ের মাঝে পার্থক্য হল, ঈমানদার বান্দাই সভ্যতাকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের কাজে ব্যবহার করে। অপরদিকে অবিশ্বাসীরা তা ব্যবহার করে শয়তানের নিকটবর্তী হওয়ার উদ্দেশ্যে। আমাদের বর্তমান  শিক্ষা ব্যবস্থার দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যের দিকটি উপেক্ষা করা হয়।”
 
প্রফেসর মুহাম্মদ কুতুব আরও বলেন, “ইসলামি শিক্ষা মানুষকে আপতন সূত্র ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি সম্পর্কে অন্ধ করে দেয় না। বরং ইসলামি শিক্ষা এ সম্পর্কে পুংখানুপুংখ অধ্যায়ন করে এবং এই সূত্রের যিনি স্রষ্টা সেই আল্লাহর দিকেই মানুষকে চালিত করে। আল্লাহর সৃজনশীল ক্ষমতা সম্পর্কে যতই আমরা অধ্যয়ন করবো, ততই আমাদের মন তারই দিকে ধাবিত হবে। আল্লাহর ভাষায় এটাই সত্য: “প্রকৃত কথা এই যে আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল জ্ঞান সম্পন্ন লোকেরাই তাকে ভয় করে।” (সূরা ফাতির, আয়াত-২৮)
 
আমরা আমাদের শিক্ষা কারিকুলাম ও শিক্ষাদান পদ্ধতি ধর্মীয় চেতনার উজ্জীবন ও বিকাশের কাজে যদি নিয়োজিত করতে পারি, আর আমাদের ইসলামি আদর্শের মতো মজবুত ভিত্তির উপর স্থাপন করি, তাহলে ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠায় আমরা সফলতা অর্জন করব এবং তা আমাদের সার্বিক জীবনের জন্য আনবে বিরাট, সীমাহীন সাফল্য, সাম্রাজ্যবাদ অধিকাংশে মুসলিম দেশের স্কুল শিক্ষার কারিকুলামে ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গির অনুসরনের পথ রুদ্ধ করেছে। সে অবস্থায় থেকে আমাদের নিজেদের ব্যবস্থার মধ্যে প্রত্যাবর্তন এবং আমাদের নিজস্ব আধ্যাত্মিক সত্বার পরিচয় উদঘাটনের এখন ই চুড়ান্ত এবং উপযুক্ত সময়।
 
এ ব্যাপারে মাওলানা আবুল কালাম আজাদ একটি সুন্দর কথা বলেছিলেন, “যে কুরআন শরিফের ‘সূরা আল ফাতিহা’ ভালোভাবে পাঠ করবে, সে খ্রিষ্টান হোক, মুসলিম হোক, বৌদ্ধ হোক, জৈন হোক অথবা যে কোন ধর্মাবলম্বী সে ন্যায়বান, আদর্শবান, প্রভাবান, যথার্থ কুশলী মানুষ হতে বাধ্য। তার কারন এই সূরা আল-ফাতেহার মধ্যে সকল বিশ্বাসের অন্তঃসার আছে। সৎ পথে যাবার জন্য প্রার্থনা আছে, অসৎ পথগামী যারা, তাদের কাছ থেকে দূরে সরে যাবার আকাংখা আছে এবং বিশ্বাসের অনুকুলে সত্যকে আবিষ্কার করবার একটা প্রবল আকাংখা বিদ্যমান।”
তিনি আরও বলেছেন, এভাবে পৃথিবীর সকল মানুষের জন্যে সূরা আল ফাতিহা হচ্ছে একটি আদর্শ ভাষন। এর ভিত্তি করেই সাহিত্য ও শিক্ষাকে নির্মান করতে হবে। অর্থাৎ সাহিত্যের মূল আদর্শ হবে ন্যায় পথে চলা। শিক্ষার মূল আদর্শ হবে মানুষকে ন্যায় পথে প্রবোচিত করা, অন্যায় পথ থেকে মানুষকে দুরে সরিয়ে নিয়ে আসা এবং পৃথিবীতে যারা অধঃগামি, যারা অন্যায় পথচারি তাদের সাহচার্য থেকে নিজেকে দুরে সরিয়ে নিয়ে আসা। যারা ন্যায়পরায়ন, সদাচারি তাদের সংগে মানুষকে একত্রিত করা, এটাই হচ্ছে বিশ্বাসের ভিত্তি।
 
*২. বিদেশী শিক্ষা ব্যবস্থার অনুসরন:
 আফ্রিকার ঘানার বিখ্যাত বুদ্ধিজীবি এবং পন্ডিত যিনি এক সময় ঘানার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন, সেই ডক্টর ‘কুফি বুসিয়া’ আফ্রিকান দেশ সমূহের শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছিলেন- “বিদেশী শিক্ষা ব্যবস্থা অনুসরন করে স্বাধীন অবস্থায় আমরা অগ্রসর হই, তাহলে আমাদের সমূহ ক্ষতিই হবে। এই কারনে ক্ষতি হবে যে আমরা স্বাধীনতার তাৎপর্য অনুভব করতে পারব না, এবং পূর্বতন শিক্ষা ব্যবস্থার অনুসরনে আমরা জীবন নিয়ন্ত্রিত করতে পারব। তার ফলে জীবনের যথার্থ পরিস্ফুটন ঘটবেনা।”

তিনি সে জন্য চেয়েছিলেন যে, আফ্রিকার জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে অর্থাৎ আফ্রিকার মানুষের প্রয়োজনের ভিত্তিতে তাদের ইচ্ছার ভিত্তিতে এবং  তাদের ঐতিহ্যের ভিত্তিতে তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা গুলো গড়ে উঠুক। তিনি এজন্য অনেক চেষ্টা করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি সফল হতে পেরেছিলেন, এটা বলা যায় না। ‘কুফি বুসিয়া’ র এই মন্তব্যটি বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। বিদেশীরা বিশেষ করে ইংরেজ রা পৃথিবীর যে সমস্ত দেশে অধিকার করেছিলেন, সে সমস্ত দেশে তারা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে এবং শাসনতান্ত্রিক প্রয়োজনে নিজস্ব শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন। ভারতবর্ষেও তেমনি বৃটিশ আমলে বৃটিশ শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়েছিল। সেখানে কতকগুলো প্রয়োজন ছিল। একটি হচ্ছে প্রশাসনের জন্য কর্মচারী তৈরি করা, দ্বিতীয়ত হচ্ছে দেশর জন্য পুলিশ ব্যবস্থাকে একটি ধারায় গতিমান করার জন্য পুলিশী প্রশিক্ষনের একটি বিশেষ ব্যবস্থা করা। যেটি এ দেশে ছিল না।
তেমনি আবার সাধারনভাবে কতকগুলো নৈতিক শিক্ষা এবং বিশ্বাসের প্রতিফলন তারা তাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে আরোপ করেছিলেন। এভাবে স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে ইংল্যান্ড ভারতের জন্য কি করেছে, সেই রকম একটা গ্রন্থ ছিল স্কুলের পাঠ্যসূচিতে। বৃটিশ ভারতে ইংরেজরা এ দেশের শিক্ষার ঘটিয়েছিল নিজেদের প্রয়োজনে। কেরানী ও অনুগত শ্রেণী তৈরির মানসে। তখন ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণীত হল, যেখানে এদেশের ছাত্ররা তাদের বিশ্বোসে, চিন্তায়, বাস্তব কর্মকান্ডে ও চরিত্রে বৃটিশের ব্রেইন চাইল্ডে পরিনত হয়। মুসলমানদের সমর্থন লাভের আশায় মাদরাসার নামে যে ইসলামী শিক্ষা চালু হল, তার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মোল্লা-মৌলভী নামে কেবলমাত্র কিছু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, খুঁটি-নাটি মাসায়ালা-মাসায়েল ও আরবী ব্যাকরনের ধা-ধা জানার সুযোগ লাভ করেছিল। মূলত নিজেদের শাসনের ভিত্তিমূল মজবুত করার লক্ষ্যে ইংরেজ এদেশে মাঝে-মধ্যে শিক্ষা ব্যবস্থার বিন্যাস করেছিল। এক্ষেত্রে তৎকালীন সময়ে ‘লর্ড মেকলে’ তার চিন্তা ও ইংরেজদের উদ্দেশ্যে বলেন। ১৮৩৫ সালের শিক্ষা পরিকল্পনার প্রধান দিকনির্দেশনাকারি ‘লর্ড মেকলে’ ঐ বছরের ফেব্রুয়ারিতে তার দেওয়া পরামর্শের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নির্দেশনায় অংশবিশেষ উল্লেখ-
“We must of present do our best to form a class who may be interpretes between us and the millions in blood and colour but English in teste in opinions in morals and in intellect”
ভাবানুবাদ: “বর্তমানে আমাদেরকে অবশ্যই যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে যাতে এমন একটি গোষ্ঠি সৃষ্টি করা যায়, যারা আমাদের ও লক্ষ লক্ষ মানুষ যাদের আমরা শাসন করছি, তাদের তাদের মধ্যে দূতের কাজ করতে পারে। এরা এমন এক ধরনের মানুষ হবে যার রক্তে ও গায়ের রঙ্গে হবে ভারতীয়, কিন্তু মেজাজ চিন্তা-ভাবনায় নৈতিকতায় ও বুদ্ধিবৃত্তিতে হবে ইংরেজ।”
 
মেকলের এ মন্তব্য ও চিন্তা প্রসূতি পরবর্তীতে মুসলমানদের উপর বিদেশী শিক্ষার খড়গকৃপান শানিত হয়। এদেশের মানুষ অত্যন্ত সহজ সরল যার ফলে বাধ্যগতভাবে ইংরেজদের চাপানো শিক্ষা এমনভাবে তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিম অধ্যুষিত মানুষের উপর চাপিয়ে দেয়া হলো। সাধারন মানুষ নিজেদের কর্ম সংস্থানের কারনে হোক বা কৌশলের শিকার হয়ে হোক, এক পর্যায়ে তারা ইংরেজদের দেয়া শিকার ধারা অভ্যস্থ হতে থাকে। এ ব্যাপারে সৈয়দ আলি আহসান বলেছেন, “পাকিস্তান আমলে কর্মসংস্থান গত শিক্ষা ধারা প্রবর্তন করতে গিয়ে ধর্মহীন এক প্রকার শিক্ষাধারা গড়ে উঠে এবং মূল শিক্ষার মধ্যে একটি নতুন সংযোজন হিসাবে এই শিক্ষাটা উপস্থিত হয়। এই শিক্ষাটা আমাদের জীবনের সংগে ওতপ্রোত নয়। লক্ষ্য করা প্রয়োজন যে, সে সময় একটি বিশেষ উদ্দেশ্য হচ্ছে আধুনিক জগতে আধুনিক মানুষের সমতুল্য মানুষ আমরা আমাদের দেশে তৈরি করব। সুতরাং ইউরোপের আধুনিক শিক্ষা বিজ্ঞানের সংগে আমাদের দেশের শিক্ষাকে সমন্বিত করে গড়ে তুলতে হবে। তারফলে বিদেশী ধারাক্রম এখানে এসে উপস্থিত হয় আরও প্রবল পরিমানে। অর্থাৎ ব্রিটিশ আমলে যে বিদেশী শিক্ষার ধারনা আমাদের ছিল, এই শিক্ষায় একটু নতুন করে নতুন পটভূমিতে নতুন প্রয়োজন সিদ্ধ করার জন্য ব্যবহৃত হতে লাগলো। পাকিস্তান আমলে একটি শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়। শিক্ষা কমিশনের মধ্যেই শিক্ষার ভিত্তি হিসেবে কোন আদর্শের কথা বলা হয়নি।
 
এভাবে ইংরেজ পরবর্তী উপমহাদেশে শিক্ষা নিয়ে হাজারো রকমের ধারা বার বার বিবর্তন হয়েছে। শিক্ষা উন্নয়নের নামে রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং নিজেদের বিতর্কিত আদর্শ বারবার সংযোজন করা হয়েছে। কিন্তু সময়ের গতিধারায় তেমন কোনো নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন ও যুগ উপযোগী শিক্ষার নিতীগত স্বাক্ষর রাখা সম্ভব হয়নি। যেমন সরকার আসে সরকার যায়, নতুন নতুন শিক্ষানিতী প্রনীত হয়েছে, জারি করার প্রচেষ্টা ও হয়েছে। তবে সৃষ্ট শিক্ষানিতী প্রনয়ন ও বাস্তবায়নের দাবি দীর্ঘদিনের। ১৯৫৭, ৩রা জানুয়ারি প্রাদেশিক সরকার কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তান শিক্ষা সংস্কার কমিটি গঠিত হয়। সম্ভবত প্রথম ১৯৫২ সালের পূর্ববঙ্গ শিক্ষা কমিটি নামে একটি কমিশন গঠিত হয়েছিল। এরপর আইয়ুব শাসন আমল থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত অর্থাৎ ১৯৫৯ সাল থেকে ১৯৬৯ সালের মধ্যে মোটে চারটি বহুল আলোচিত শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়েছিল। যা ১৯৫৯ সালের এস এস শরিফ কমিশন, ১৯৬৩ সালের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি (ড. সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন) শিক্ষা কমিশন, ১৯৬৪ সালের এয়ার মার্শাল নুর খান শিক্ষা কমিশন নামে পরিচিত।

বাংলাদেশ আমলে ১৯৭২ সালে গঠিত হয় ‘কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন’। ১৯৭৫ সালে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর শিক্ষামন্ত্রী কাজী জাফর আহমেদ একটি শিক্ষা উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেন। ১৯৮২ সালের সামরিক শাসনের পর ১৯৮৩ সালে শিক্ষামন্ত্রী ড. আবদুল মাজিদের নেতৃত্বেও আরো একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়। এ মফিজ উদ্দিন আহমদ শিক্ষা কমিশন ১৯৮৭, সামছুল হক শিক্ষা কমিশন ১৯৯৭, এম.এ বারি শিক্ষা কমিশন ২০০১, মো. মনিরুজ্জামান শিক্ষা কমিশন ২০০৩, কবির চৌধুরি শিক্ষা কমিশন ২০০৯, সর্বশেষ নাহিদ শিক্ষা কমিশন ২০১০। শিক্ষা কমিশন তাদের প্রাপ্ত দায়িত্ব কর্তব্য বিভিন্ন সময় সম্পাদন করেছেন ঠিকই কিন্তু দেশ-জাতি ও আমাদের মেধাবি তরুনদের মেধা বিকাশ কি সেভাবে হয়েছে!

একথাটি সাংঘাতিক রকম প্রশ্নবিদ্ধ। বলাবাহুল্য এ কথাটি বলা দরকার যে, কমিশন সাধারনত হয় দেশের ক্ষমতাসীন সরকারের মতাদর্শ ও মর্জির উপর। অথচ শিক্ষা হল স্বতন্ত্র বোধের উন্মেষ। তাহলে বিষয়টি আপেক্ষিক ও সাংঘর্ষিক। কারন আজ ও শিক্ষা কমিশনের সদস্যরা স্বাচ্ছন্দে বলতে পারেনি যে তাদের উপর অর্পিত কাজ সত্যিকারে শিক্ষার আদলে সময়ের অনিবার্য ভাবনায় যথাযথভাবে আঞ্জাম দেওয়া হয়েছে।