ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

অনলাইন ডেস্ক

৭ জুলাই ২০২১, ২০:০৭

আশ্রয়ণ প্রকল্পের অনিয়মে দায় কার?

19086_আশ্রয়ণ প্রকল্প.jpg
ছবি- সংগৃহীত
সরকারের বহুল আলোচিত আশ্রয়ণ প্রকল্পে অনিয়ম নিয়ে চলছে তোলপাড়। এরইমধ্যে পাঁচজন কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে। কাজ করছে তদন্ত কমিটি। শাস্তি হতে পারে আরো অনেক কর্মকর্তার। এ খবর দিয়েছে ডয়চে ভেলে বাংলা।
 
আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে মুজিববর্ষ উপলক্ষে গত জানুয়ারি এবং জুন মাসে এক লাখ ১৮ হাজার ৩৮০টি ঘর হস্তান্তর করা হয়। এরইমধ্যে দেশের কয়েকটি এলাকা থেকে এই ঘরের মান নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। কোনো কোনো এলাকায় নতুন মাটি ভরাট করে ঘর বানানোর কারণে তা ধসে পড়েছে।
 
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো সরকারি খাস জমির ওপর তৈরি করা হয়েছে। আয়তন ৪০০ বর্গফুট। প্রতিটি ঘরে আছে দুইটি কামরা, রান্নাঘর, বারান্দা এবং টয়লেট। এছাড়া ১০টি ঘরের জন্য একটি করে গভীর নলকুপ। সেমিপাকা এই ঘরগুলোর প্রতিটি তৈরি করতে প্রথম পর্যায়ে খরচ হয়েছে এক লাখ ৭১ হাজার টাকা। দ্বিতীয় পর্যায়ে খরচ হয়েছে এক লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় পর্যায়ে দুই লাখ টাকা। প্রতিটি পরিবারকে দুই শতাংশ জমিসহ এই ঘর দেয়া হয়।
 
কিন্তু ঘর দেয়ার আগে ও পরে নানা ধরনের অনিয়মের খবর প্রকাশ হয়। যেমন কুড়িগ্রামের রৌমারীতে হস্তান্তরের আগেই পাঁচটি ঘর ধসে পড়ে। গোপালগঞ্জে হস্তান্তরের পর অল্প সময়ের মধ্যেই ভেঙে পড়েছে দুইটি ঘর। ঘরগুলো বৃষ্টির কারণে বালু সরে গিয়ে ভেঙে পড়ে। লালমনিরহাটে ঝড়ো বাতাসে উড়ে গেছে দুইটি ঘর। বগুড়ায় দুই দিনের বৃষ্টিতেই একাধিক ঘর ধসে পড়েছে। বগুড়ার শেরপুরে কায়রাখালী বাজারের কাছে খালের পাড়ে নির্মিত ঘরগুলো এখন ভাঙ্গনের সম্মুখীন। বরগুনার আমতলীতে নির্মিত ঘরের গুণগত মান ঠিক নেই। সুনামগঞ্জের শাল্লায় ডিজাইন বহির্ভূত ঘর নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
 
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করায় এই অবস্থা। আর এগুলো সরকারি ব্যবস্থাপনায়ই নির্মাণ করা হয়েছে। আবার এইসব ঘর বরাদ্দের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কেউ কেউ গৃহহীনদের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছেন বলে অভিযোগ আছে।
 
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ পর্যন্ত ২২ জেলার ৩৬ উপজেলায় ঘর তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে। আরো অভিযোগের তদন্ত হচ্ছে। অনিয়মের অভিযোগে সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে সাবেক ইউএনও (বর্তমানে উপসচিব) শফিকুল ইসলাম, বগুড়ার শেরপুরের সাবেক ইউএনও মো. লিয়াকত আলী শেখ (বর্তমানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক), মুন্সীগঞ্জ সদরের সাবেক ইউএনও রুবায়েত হায়াত, বরগুনার আমতলীর ইউএনও মো. আসাদুজ্জামান ও মুন্সীগঞ্জ সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ মেজবাহ-উল-সাবেরিনকে ওএসডি করা হয়েছে।
 
আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব মাহবুব হোসেন জানান, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আর যেসব ঘর ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তা মেরামত করে দেয়া হচ্ছে। আর এটা নিয়ে যে অনিয়ম পাওয়া যাচ্ছে তা দুঃখজনক। প্রধানমন্ত্রী নিজ উদ্যোগে গরীব মানুষদের এই ঘরগুলো দিয়েছেন।
 
তিনি বলেন, ‘নির্মাণ সামগ্রী সবখানে একই মানের হয়নি। নদীর তীরে অথবা নিচু জমি ভরাট করে তৈরি করা হয়েছে ফলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এটা তো শুরুতেই দেখা গেছে। এইভাবে ঘর বানানো ঠিক হয়নি। আমাদের তদন্ত চলমান আছে। এব্যাপারে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।’
 
এই ঘর নির্মাণে কোনো ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়নি। সরাসরি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) তত্ত্বাবধানে তৈরি হয়েছে। প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সরসরি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
 
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামন মনে করেন, ‘মনিটরিং ব্যবস্থা ঠিক থাকলে শুরুতেই এই অনিয়ম ঠেকানো যেত। ঠিকাদারেরা নন সরাসরি সরকারি কর্মকর্তারা করেছেন বলে এখানে অনিয়ম ও দুর্নীতি আরো বেশি দুঃখজনক।’
 
তিনি আরো বলেন, ‘এই ঘরগুলোর সাথে আবেগ জড়িত। মুজিব শতবর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে গৃহহীনদের ঘরগুলো দেয়া হয়েছে। তাই শুধু ওএসডি করে বিষয়টি এড়ানো যাবে না। যারা এই অনিয়মের সাথে জড়িতদের আইনে আওতায় আনতে হবে। দুদকেরও এটা দেখা উচিত।’