ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

নিজস্ব প্রতিবেদক

৭ জুলাই ২০২১, ১৫:০৭

লকডাউন: বেড়েছে ব্যয় আর হাহাকার!

19070_lockdown1.jpg
দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মহামারী পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত রোববার দেশের সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড স্পর্শ করেছে। এরপর সোমবারও সেরকম রেকর্ড ছাড়িয়েছে। তথ্যানুযায়ী একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে ১৬৪ জনের। কোনোভাবেই যেন পরিস্থিতির লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না।

করোনাভাইরাসের ভয়াবহ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ১ জুলাই থেকে এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউন দেয় সরকার। এরপর সেটিও বৃদ্ধি করা হয় ১৪ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সকল প্রকার সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। তবে শিল্প এবং কলকারখানা স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা থাকবে। কর্মীদের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে যাতায়াত নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি বাস্তবায়ন হয়নি।

নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। নগর জীবনে তাদের একমাত্র বাহন হয়ে দাঁড়িয়েছে রিক্সা। ফলে মানুষ রিক্সা ভ্যান কিংবা পায়ে হেঁটে রওনা দিচ্ছেন গন্তব্যের দিকে।

রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে দেখা যায়, ট্রাফিক সিগন্যালগুলিতে ব্যক্তিগত গাড়ির সাথে রিকশার জট বেধেছে। ভাড়াও বেড়েছে তিন থেকে চার গুণ। তবুও গন্তব্য পানে ছুটছেন নগরবাসী।

মসজিদে দেখা ইসরাফিল আলম নামের এক মুসল্লীর যিনি মতিঝিলের একটি ব্যাংকে চাকরী করেন। তিনি বলেন, রিকশাভাড়া অনেক বেশি চায়। তবুও অফিসের বাধ্যবাধকতার জন্য অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যেতে হচ্ছে।

আফরিন আক্তার নামের আরেক নারী বলেন, একসময় ভ্যানে উঠতে তো লজ্জা পেতাম। এখন আর লজ্জা হয় না। কারণ করোনা এখন মধ্যবিত্তদের লজ্জাও তুলে দিয়েছে, দিচ্ছে। যে বেতন পাই তার অর্ধেক চলে যায় রিকশা ভাড়া দিতে। তাই প্রতিদিন যদি ভ্যান সার্ভিসে গাদাগাদি করেও যাওয়া যায় তবুও অনেক সাশ্রয় হয়।

রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট ও হয়েছে ঢিলেঢালা। কখনো কখনো চাপ বাড়লেও অধিকাংশ সময় থাকছে স্বাভাবিক অবস্থায়।
রাজধানীর একটি মোড়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য মামুন বলেন, অনেক ধরনের অফিস খোলা। সে কারণে সকালে অফিসের সময়ে সিগন্যালগুলোতে যানবাহনের জট লাগে। তখন বেশ চাপে থাকতে হয় ।

কঠোর লকডাউনে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন চিকিৎসক থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। জরুরী প্রয়োজনে বের হয়েও নানা বিড়ম্বনায় পড়েছেন তারা।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় চিকিৎসককে গুনতে হয়েছে জরিমানা। রোগী দেখার জন্য মোটরসাইকেল যোগে সাতকানিয়া পৌর এলাকায় চেম্বারে যাওয়ার সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নজরুল ইসলাম থেকে জরিমানা করেন।

একইভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন অসুস্থ এবং জরুরী প্রয়োজনে বের হওয়া সাধারণ মানুষ। সম্পত্তি একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অসুস্থ নবজাতককে নিয়ে হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে পুলিশি হয়রানী ও মামলার মুখে পড়েছেন এক নারী। ভুক্তভোগী বলছেন, তারা বাধ্য হয়েই হাসপাতালে গিয়েছিলেন। আর পুলিশ সদস্য বলছে আইনের ব্যাতয় ঘটায় তাদের সিএনজিকে মামলা দেওয়া হয়েছে।

এভাবে প্রয়োজনে বের হওয়া রোগী, চিকিৎসক সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নানা রকম বিড়ম্বনা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।
এদিকে লকডাউনে ক্রেতাশূণ্য হয়ে পড়েছেন রাজধানীর কাঁচাবাজার। পণ্যবাহী পরিবহন চালু থাকলেও কমেছে বাজারে সরবরাহ। ফলে বাজারে কিছু সবজির দাম কম থাকলেও অধিকাংশের দাম চড়া।

রাজধানীর কাওরান বাজারের চিত্র দেখা যায়, ব্যস্ত এই বাজার যেনো খাঁ খাঁ করছে। এরসাথে বৃষ্টি যোগ হওয়ায় অলস সময় কাটাচ্ছেন বিক্রেতারা। অনেক অপেক্ষা করে দুই একজনের দেখা মিলছে। এমন বেচা-বিক্রিতে হতাশ বিক্রেতারাও।

কারওয়ানবাজারের বিক্রেতা রফিক বলেন, বেচা-কেনা নাই। গতকাল কিছু বেচা-কেনা হয়েছে। এমন চলতে থাকলে ব্যবসা বাদ দিতে হবে।
এদিকে হাহাকার দেখা যাচ্ছে নিম্ন শ্রেণীর মানুষের ঘরগুলোতে। রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল বস্তির রহিমা বেগম বলেন, সবাই নাকি সাহায্য পায়, আমিতো কিছুই পাইলাম না। কেউ কেউ বিরানির প্যাকেট দিয়া ছবি তুলে নিয়ে যায়, আর কিছু দেয় না।

বস্তির আরেক বাসিন্দা মনি বেগম বলেন, এরআগের লকডাউনে ভালো খাবার টাবার পাইছিলাম। এবার কেউ কিছু দেয় না। টিভিতে দেখতাছি হাসিনা ( প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) সবাইকে সবকিছু দিতেছে, আমাগো তো কিছু দেয় না।

আনিস নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, আগে অসহায় অসহায় মানুষের যখন যা পারতাম সহযোগিতা করতাম।এখন নিজের অবস্থাই খরা।

সম্প্রতি ব্যারাক ইনস্টিটিউট অফ গভারমেন্ট এন্ড ডেভেলপমেন্ট ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে বলা হয়েছে, করোনার কারণে নতুন করে দরিদ্র হয়েছে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত শহরাঞ্চলে নতুন দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৫৯ শতাংশ। আর গ্রামাঞ্চলে সংখ্যা ৪৪ শতাংশ।

বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিস রাষ্ট্রের নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, করোনায় ছিন্নমূল মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, পেটে খাবার নেই। করুন এই পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের সহযোগিতার জন্য ঢাকার দুই সিটি মেয়রের উদ্যোগ আশা করছি। উচিত জরুরি সেবার আওতায় ছিন্নমূলদের পাশে দাঁড়ানো।