ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

শহীদুল ইসলাম  

৪ জুলাই ২০২১, ২১:০৭

কুরবানি আসলেই টেনশন বাড়ে খামারিদের  

19003_goru-2020-07-27-14-21-08.jpg
পবিত্র ঈদ উল আযহা তথা কুরবানির ঈদ আসলেই টেনশনে পড়তে হয় আমাদের খামারিদের। কেন পড়তে হয় তা সবারই জানা । তবে কার্যকর উদ্যোগের পাশাপাশি আস্থা এবং বিশ্বাসেরও সংকট রয়েছে।আর তা হলো খামারীরা সঠিক মূল্য পাবেন কিনা।আর তা হলো ভারত থেকে হঠাৎ গরু আসা শুরু হবে কিনা তা নিয়ে।এবার অবশ্য আগে ভাগেই এ বিষয়ে আশ্বাসবাণী দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।কুরবানিকে সামনে রেখে দেশের বাইরে থেকে গবাদিপশু আসতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
 
রোববার (৪ জুলাই) ডিএনসিসি ডিজিটাল হাটের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে রাজধানীর বেইলি রোডের সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে মন্ত্রী একথা জানান।
 
মন্ত্রী জানান, আসন্ন কুরবানির জন্য প্রায় ১ কোটি ১৯ লাখ গবাদিপশু প্রস্তুত আছে। গত দুটি কোরবানির ঈদে আমরা দেশের বাইরে থেকে পশু আসতে দেইনি। তাতে পশুর সংকট হয়নি। এবছরও দেশে পর্যাপ্ত কোরবানির পশু রয়েছে। সীমান্তেও আমরা যোগাযোগ করছি যাতে চোরাইপথে বা অন্য কোন পথে একটা পশুও দেশের ভিতর প্রবেশ করতে না পারে। কারণ আমাদের খামারিদের কথা মনে রাখতে হবে। তারা অনেক কষ্ট করে খামার তৈরি করেছে, বিনিয়োগ করেছে। তাদের পশু বিক্রি হবে না, বাইরে থেকে আসবে, এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায়
 
মন্ত্রী আরও যোগ করেন,  দেশে এখন ৪১ কোটি ২২ লাখ ৪৪ হাজার গবাদি প্রাণী মজুদ আছে। এটা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পনা এবং সর্ব প্রকার সহযোগিতার কারণে সরকারি-বেসরকারি খাতে এ অভাবনীয় উন্নয়ন হয়েছে।
শ ম রেজাউল করিম বলেন, আমরা প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। এ জন্য সবাই মিলে একত্রে কাজ করতে হবে। আমাদের দেশটা প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর। আমাদের দেশে মাংস, দুধ ডিমসহ অন্যান্য প্রাণিজাত পণ্য যেভাবে উৎপাদন করা সম্ভব, এটা পৃথিবীর অনেক দেশেই সম্ভব নয়। এসব পণ্য আমরা বিদেশে রপ্তানি শুরু করেছি।
 
ঢাকার বাইরে প্রতিটি পৌরসভা এবং গ্রোথ সেন্টারে আধুনিক স্লটার হাউস নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও এসময় জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, স্লটার হাউসে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে গরু জবাই হবে, যেখানে রক্ত বা বর্জ্যকে প্রক্রিয়াজাত করে ব্যবহার করা হবে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়  মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
 
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ভারতের বর্তমান ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদির সরকার আসার পর থেকেই গরু জবাইয়ের উপর কড়াকড়ি আরোপ করে। তার প্রভাব পড়ে বাংলাদেশের উপর। আমাদের মুসলিম দেশ । হালাল পশু হিসেবে গরুর গোশত খেতে বা গরু জবাই করতে এখানে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই ।আর কুরবানিতে প্রয়োজন হয় বাড়তি গবাদিপশুর।এই কুরবানিকে সামনে রেখে সব সময়ই তাই সুযোগ নিত ভারতের গরু ব্যবসায়িরা। এর সাথে জড়িয়ে পড়ত দুদেশেরই চোরা কারবারিরা।উগ্র হিন্দুত্ববাদি মোদি সরকার তাদের দেশে যেমন গরু জবাইয়ের উপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে তেমনি বাংলাদেশে যাতে বৈধ বা অবৈধ পথে গরু আসতে না পারে সে বিষয়েও কড়াকড়ি আরোপ করে।ফলে তখন সমস্যায় পড়ে যায় বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ কুরবানিদাতারা।
 
দেশে যাতে কুরবানির পশুর সংকট না হয় সে বিষয়ে এগিয়ে আসেন আমাদের কৃষক সমাজ। বিগত তিন চার বছরে দেশে প্রচুর গবাদিপশুর খামার গড়ে উঠেছে। ফলে সারা বছরের গোমতের চাহিদা মেটাতে এখন আর ভারতের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়না। কুরবানির সময় যে বাড়তি পশুর প্রয়োজন হয় তাও সম্পূর্ণ যোগান দিচ্ছে আমাদের দেশের খামারিরা। তারপরেও খামারিদের টেনশনে থাকতে হয়। কারণ যদি কুরবানির আগে ভারত  থেকে ব্যাপক হারে গরু  এসে পড়ে।তারাও তো সারা বছর অপেক্ষায় থাকে কুরবানির সময় তারা একটু  বাড়তি দাম পাবে। কিন্তু ভারত থেকে গরু আসা শুরু হলে তাদের চালান মার যাবে।নিরুৎসাহিত হবে খামার করার বিষয়ে।ভারত সরকার গরু আসা বন্ধ করে দেয়ার আমাদের খামারিরা যে সক্ষমতা অর্জন করেছে তাতেও ভাটা পড়বে। আমাদের প্রত্যাশা এমনটি হবেনা।