ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

মোঃ পারভেজ দেওয়ান

২০ জুন ২০২১, ১৭:০৬

অনলাইন ব্যবসার প্রতি আগ্রহ শিক্ষার্থীদের

18583_u-2012080421.jpg
প্রতীকী ছবি

কালের বিবর্তনে পৃথিবী আজ অনন্য উচ্চতায়। একসময় মানুষ যা কল্পনাও করতে পারেনি তা আজ বাস্তবে ধরা দিয়েছে। অনলাইন পুরো পৃথিবীকে মানুষের হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে যোগাযোগ করা যায় খুব সহজে। অনলাইন যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে আর্বিভাব হলেও বর্তমানে তা ব্যবসায়ের অন্যতম হাতিয়ার।

একটা প্রবাদ আছে কারো মাঘ মাস,কারো সর্বনাশ। প্রবাদটির সাথে বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপট অনেকটাই মিল আছে। করোনা ভাইরাস যেমন পুরো পৃথিবীকে স্থবির করে দিয়েছে ঠিক তেমনি অনলাইন ব্যবসা ও ই-কমার্সকে গতিশীল করেছে। করোনা পরিস্থিতি শুরু হওয়ার আগ পযর্ন্ত যতো মানুষ অনলাইন বা ই-কমার্স সম্পর্কে জানত বর্তমানে তার থেকে ৪-৫ গুন বেশি মানুষ অনলাইন ব্যবসা সম্পর্কে জেনেছে।

করোনায় অনেক মানুষ তাদের কর্ম হারিয়ে এখন বেকার। অনেক দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরাও লেখা-পড়া থেকে দূরে। কিন্তু সময় তো আর বসে থাকে না। আর এই অবসর সময়ে অনলাইনকে অনেক শিক্ষার্থী ও বেকার যুবক অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার বানিয়েছে। এর ফলে তাদের অবসর সময় তো কাটছেই সাথে অর্থ উপার্জনও হচ্ছে।

বর্তমান সময়ে জনপ্রিয় কিছু ই-কমার্স সাইটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অনলাইন ব্যবসায়ের সাথে নিজেদের জড়িয়েছে। যেমন: ফেইসবুক, ফুড পান্ডা,ইভ্যালি, ইত্যাদি। এ-সব সাইটের মধ্যে ফেইসবুক ব্যাবহারকারীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের সম্ভাবনাও বেশি। তাছাড়া ইভ্যালি সহ অন্যান্য সাইট থেকে ডিসকাউন্ট মূল্যে পন্য ক্রয় করে তা পুনরায় বিক্রির মাধ্যমে অনেকেই অর্থ উপার্জন করছে।

অন্যদিকে অনেক শিক্ষার্থী ঘরে বসেই হোম-মেড খাবার তৈরি করে তা ফুড পান্ডা, ই-ফুড, সহজ, পাঠাও এর মাধ্যমে ডেলিভারি দিয়ে অর্থ উপার্জন করছে। এতে করে গ্রাহক ভোক্তা উভয়েই সন্তুষ্ট।

উত্তরা টাউন কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার নাঈম এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, করোনার কারণে লেখা পড়া বন্ধ। তাই অবসর সময় কাটানোর জন্য অনলাইন এর মাধ্যমে ব্যবসায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যা উপার্জন হয় তার মাধ্যমে নিজের হাত খরচ এর পাশাপাশি পরিবারকে কিছু দিতে পারি। এতে আমি এবং আমার পরিবার উভয়েই খুশি।

অন্যদিকে সরকারি তিতুমীর কলেজ এর শিক্ষার্থী আফসানার সাথে কথা হলে তিনি জানান করোনার কারনে তার বড় ভাই এর চাকরি চলে যায়। যার ফলে তাদের পরিবার অনেকটাই আর্থিক সমস্যায় পড়েছিল। হঠাৎ তিনি ই-কমার্স সাইট ফুড পান্ডা সম্পর্কে জানতে পারেন। পরবর্তীতে তিনি ফুড পান্ডার সাথে যুক্ত হন। তিনি এখন ঘড়ে বসেই ভোক্তার চাহিদা অনুযায়ী খাবার তৈরি করে ফুড-পান্ডার মাধ্যমে ডেলিভারি দিচ্ছে। যার ফলে তার পরিবার এখন অনেকটাই আর্থিক সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পেরেছে।

নাঈম,আফসানার মতো অনেকেই আছে যারা নিজ, নিজ অবস্থান থেকে অনলাইন ব্যবসায়ের সাথে যুক্ত আছেন। যার ফলে তারা নিজেরা যেমন আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছে, তেমনি ভোক্তারা ঘরে বসেই পন্য হাতে পেয়ে খুশি হচ্ছে।