ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

১৬ জুন ২০২১, ১৮:০৬

যেভাবে গড়ে উঠেছে বোট ক্লাব

18455_বোড ক্লাব.jpg
ছবি- সংগৃহীত
অবসরে বিনোদন, খেলা ও শরীর চর্চার সমিতি। বোট ক্লাবে থাকে জলজ নানা ধরনের ক্রীড়ার ব্যবস্থা। এসব উদ্দেশ্যেই ওই ক্লাব গঠনের উদ্যোগ নেন পারটেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রুবেল আজিজ। ২০১৪ সালে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে কিছু জমি ক্রয় করা হয় বোট ক্লাবের নামে। বর্তমানে ঢাকা বোট ক্লাবের জমির পরিমাণ প্রায় ৬০ বিঘা।
 
কিছু জমি ক্রয় করলেও অভিযোগ রয়েছে, সরকারি-বেসরকারি জমি দখলের মধ্য দিয়েই তুরাগ নদীর তীরে গড়ে উঠেছে ঢাকা বোট ক্লাব। সমাজের প্রভাবশালীরা এসব ক্লাবে জড়িত থাকার কারণে ভুক্তভোগীরা সহজে সুষ্ঠু বিচার পান না। স্থানীয়রা জানান, গত ফেব্রুয়ারি থেকে চালু হয়েছে ক্লাব।
 
তবে প্রায় এক বছর আগে ক্লাবের স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিদিন বিকাল থেকেই ক্লাব সদস্য ও তাদের অতিথিরা ভিড় করেন এখানে।
 
সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৫ সালে জনপ্রতি ১ লাখ টাকা দিয়ে ক্লাবের সদস্য নেয়া হয়। ২০১৬ সালে শ্রেণিভেদে সদস্য ফি করা হয় পাঁচ থেকে ১০ লাখ টাকা। ২০১৮-২০১৯ সালে সদস্য ফি করা হয় ১০ লাখ থেকে ১৫ লাখ টাকা। বর্তমানে বোট ক্লাবের সদস্য দুই সহস্রাধিক। ক্লাবটি উদ্বোধন করেন সাবেক পানি সম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। শুরুতে ইস্টার্ণ ইউনিভার্সিটি থেকে ২৭ বিঘা জমি ক্রয় করলেও পরবর্তীতে নানা প্রক্রিয়ায় জমি গ্রহণ করা হয়। ক্লাবের তিনতলা ভবন হয়েছে এক বছর হয়। যদিও পরিকল্পিত অবকাঠামোর এখনো ৬০ ভাগ নির্মাণ হয়নি।
সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের বড় কাকড় গ্রামের এই ক্লাবটি তুরাগ নদীর তীরে অবস্থিত। নদী তীরের এই স্থাপনা নিয়ে রয়েছে নানা অভিযোগ। নদীর সীমানার ২০০ গজের মধ্যে কোনো স্থাপনা তৈরি না করার নিয়ম থাকলেও এক্ষেত্রে মানা হয়নি তা। এই ক্লাবের মতোই পাশেই নদীতীর দখল করে প্রকল্প নির্মাণ করছে এনডিই রেডিমিক্স।
অভিযোগ রয়েছে, অন্যের লিজ নেয়া খাস জমি দখল করেছে ঢাকা বোট ক্লাব। ক্লাবের নির্মাণকাজ শুরু করার সময় থেকে লিজ গ্রহীতা জমির দখল বুঝে নিতে সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ছোটাছুটি করেও কোনো প্রতিকার পাননি। প্রতিকার না পেলেও লিজ গ্রহীতা বাৎসরিক ইজারা মূল্য পরিশোধ করেছেন সাভার আমিনবাজার ভূমি অফিসে।
ঢাকা বোট ক্লাব কর্তৃক দখলকৃত জমির লিজ গ্রহীতা বিরুলিয়া এলাকার আতাউল্লাহ মাদবরের ছেলে সাভার বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সুজন। তিনি অভিযোগ করেছেন, বোট ক্লাব তার নিজের নামে নেয়া সরকারি ৭৭ শতাংশ জমি দখল করে নিয়েছে। ক্লাবের এক সদস্য তাকে বলেছেন জমিটা ক্লাবের লাগবে তাই তিনি যেন আর এই বিষয় নিয়ে কথা না বলেন। সাইদুর রহমান সুজন মানবজমিনকে বলেন, বোট ক্লাবের মূল ভবনের দক্ষিণ পাশের খালি জমিটা আমার ছিল। সরকারি ৭৭ শতাংশ জমি আমি লিজ নিয়েছিলাম। এটা এখনো আমার নামে আছে। জমিটা ব্যবসার জন্য আমি কয়েকজনকে ভাড়া দিয়েছিলাম। বোট ক্লাবের কাছে প্রথম যে সম্পত্তি বিক্রি করেছে সেই হাবুল শেখ আমাকে বলেন, আপনার যে জমি এখানে আছে সেখানে যেন আমি আর মালিকানা দাবি না করি। সেখানে গেলে বা মালিকানা দাবি করলে সমস্যা হবে। এটা বোট ক্লাব নিবে।
 
সাইদুর রহমান সুজন বলেন, এখন আর আমার লোক ওই জমিতে ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারে না। আমার জমিতে বাউন্ডারি করেছিলাম সেই বাউন্ডারিও এখন আর নেই। এখন ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাদের মতো করে বাউন্ডারি দিছে। আমি এখন আর ওদিকে যাই না। এটি এখন তাদের বাউন্ডারির ভেতরে পড়ে গেছে। বেড়িবাঁধের পাশের সব জমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের। কিছু জমি তারা বাউন্ডারি করে নিয়েছে।
 
সাইদুর রহমান সুজন জানান, দীর্ঘদিন ধরে টাকা খরচ করে কাগজ নবায়ন করছেন তিনি। এখনো এই জমি তার নামে আছে। এ বছর আবার নবায়নের জন্য চেষ্টা করছেন। কিন্তু নবায়ন করতে পারছেন না। স্থগিত অবস্থায় আছে। তিনি বলেন, এখন তাদের (ক্লাব কর্তৃপক্ষের) যদি ইচ্ছা হয় আমার সঙ্গে সমাধান করবে এবং বোট ক্লাব কর্তৃপক্ষ বা ক্লাবের সভাপতি পুলিশ প্রধান বেনজির আহমেদ যদি বলেন জমিটা তাদের লাগবে তবে আমি জমিটা তাদের কাছে হস্তান্তর করে দেবো।
 
তিনি আরও বলেন, বোট ক্লাবের প্রথম প্রস্তাবকারী ও জমি বিক্রেতা হচ্ছেন ক্লাবের পাশের তুরাগ রিক্রিয়েশন ওয়ার্ল্ডের মালিক হাবুল শেখ (হাবিব)। তারাই মূলত ক্লাবটা বসিয়েছেন।
 
হাবুল শেখ মানবজমিনকে বলেন, ওই ৭০ শতাংশ জমি হাবিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তির ছিল। বোট ক্লাবের জন্য জমি কিনতে গিয়ে আমরা ওই জমির সন্ধান পেয়েছি। ভূমি অফিসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি ওই জমি হাবিবুর রহমানের নামেই আছে। ওই অবস্থায়ই আমরা তার কাছে থেকে জমিটা একটা দাম ধরে দলিল করে নেই এবং বালু ফেলে রাখি। পরে জানতে পারি ভূমি অফিসের কিছু অসাধু চক্র তখন মিথ্যা তথ্য দিয়েছিল। এটা জানার পর আমরা আবার জমিটা ক্লাবের নামে লিজ নিয়ে রাখি। লিজের নবায়ন করতে দেরি করায় বিরুলিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ক্ষমতায় এসে সেটি আবার তার নামে লিজ নেন। আমরা অভিযোগ তোলার পর সেটি আবার আমাদের নামে লিজ হয়। তিনি বলেন, ক্লাবের সামনের কিছু জায়গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের। তাদের কাছ থেকে স্থাপনা না করার শর্তে শুধুমাত্র ব্যবহার করার অনুমতি নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
 
এসব বিষয়ে ঢাকা বোট ক্লাবের সচিব লে. কমান্ডার (অব.) তাহসিন আমিন ও কার্যনির্বাহী সদস্য বখতিয়ার আহমেদ খানের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সূত্র মতে, ক্লাব কর্তৃপক্ষ ওই জমিতে দেশের সেরা একটি বোট ক্লাব গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। এই ক্লাবের সদস্যদের ৪০ ভাগই ঢাকার অভিজাত অন্যান্য ক্লাবেরও সদস্য। উত্তরা ক্লাবের তিনবারের সভাপতি নাসির উদ্দিন মাহমুদ এই ক্লাবের নির্বাহী কমিটির সদস্য। নায়িকা পরীমনিকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তারের পর ক্লাব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে তাকে।
ক্লাব কেন্দ্রিক রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের জন্যই বিভিন্ন ক্লাবের সদস্যপদ নেন নাসির উদ্দিন মাহমুদরা। ক্লাবের নির্বাচনে ব্যয় করা হয় কোটি কোটি টাকা। নির্বাচনের পূর্বে আয়োজন করা হয় জমকালো পার্টির। এসব পার্টিতে ডাক পড়ে বিদেশি অনেক শিল্পীর। উত্তরা ক্লাবে প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক চালে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন নাসির উদ্দিন মাহমুদ। যে কারণে ঢাকা বোট ক্লাবে সক্রিয় হন তিনি। বলা হচ্ছে, গত ৯ই জুন রাতে তার অতিথি হিসেবেই ক্লাবে যান নায়িকা পরীমনি। তারপরই ঘটে ঘটনা।
 
এ ঘটনায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়েরের পর নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমির ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিভানা খায়ের জেসি শুনানি শেষে রিমান্ডের এ আদেশ দেন। এছাড়া একই ঘটনায় গ্রেপ্তার লিপি আক্তার (১৮), সুমি আক্তার (১৯) ও নাজমা আমিন স্নিগ্ধার (২৪) তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
 
সূত্র: মানবজমিন