ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:
ব্রেকিং নিউজ
  • মালয়েশিয়ায় সর্বাত্নক লকডাউনের ঘোষণা
  • সোহবত ছাড়া দাওয়াত ফলপ্রসূ হয় না
  • দশ মিনিটে ক্যান্সার পরীক্ষা, হার্ভার্ডে ডাক পেলেন আবু আলী
  • দ্বিতীয় শ্রেণিতে পাশ করেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক!
  • দেশে নতুন সেনাপ্রধান এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ

সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা

৭ জুন ২০২১, ১৯:০৬

বাজেট শিক্ষাবান্ধব হয়নি

18144_শিক্ষা বাজেট.jpg
ছবি- সংগৃহীত
প্রতিটি দেশের বাজেটেই শিক্ষাখাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হলেও আমাদের শিক্ষাখাত বরাবরই অবহেলিত ও উপেক্ষিতই থেকেছে। কখনোই বাস্তবতার আলোকে আমাদের দেশের শিক্ষাখাত বাজেট বরাদ্দ পায়নি। করোনা মহামারীর কারণে শিক্ষাখাতে বিপর্যয় নেমে এসেছে।  এই ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য শিক্ষাখাতে জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশ দাবি উঠলে নতুন বাজেটে তা বিবেচনায়  না নিয়ে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে  ১১ দশমিক ৯ শতাংশ। যা আমাদের বিপর্যস্ত শিক্ষাব্যবস্থার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য মোটেই যথেষ্ট নয়। মূলত, প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষাখাতে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার কোনো পরিকল্পনা দেখা যায়নি। তার উপর যুক্ত হচ্ছে বাড়তি করের বোঝা। করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে মোট বাজেটের ৫ থেকে ৭ শতাংশ জিডিপি বরাদ্দ দেয়া প্রয়োজন হলেও সেখানে ২ শতাংশের উপরে ওঠেনি। দেশে শিক্ষাখাতে বেসরকারি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বেশি ভূমিকা পালন করলেও তাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে ১৫ শতাংশ কর। যা কেউই কাঙ্খিত ও যৌক্তিক মনে করছেন না।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, গত বছর শিক্ষাখাতে মোট বাজেটের ১১ দশমিক ৬৯ শতাংশ বরাদ্দ দিলেও এবার ১১ দশমিক ৯ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নতুন বাজেট ব্যবসা সহায়ক হলেও এটি শিক্ষা সহায়ক হয়নি বলেই মনে করেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। করোনায় শিক্ষার যে ক্ষতি হয়েছে, তা প্রস্তাবিত বাজেটের বরাদ্দ দিয়ে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়।

সংশ্লিষ্টরা বলেছন, প্রস্তাবিত বাজেট দেখে মনে হয়নি করোনায় শিক্ষার কোনো ক্ষতি হয়েছে। বেসরকারি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে মধ্যবিত্তরা পড়ালেখা করলে সেখানে ১৫ শতাংশ কর আরোপ করা হয়েছে। সরকার ব্যবসায়ীদের প্রণোদনা দিচ্ছে আর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর আরোপ করা হচ্ছে। বিষয়টিকে কেউই যৌক্তিক ও কাঙ্খিত মনে করছেন না। বাজেটে মেয়েদের কথা ভাবা হয়নি। যারা নিয়মিত কর দেন তাদের কর বাড়ানো হচ্ছে আর যারা ফাঁকি দেন তাদের সুযোগ তৈরি করে দেয়া হচ্ছে। যা ‘শিষ্টের দমন ও দুষ্টের লালন’ এর পর্যায়ভূক্ত।

দেশের সকল শ্রেণির নাগরিকের শিক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অথচ শিক্ষার ক্ষতি পূরণে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়ার পরিকল্পনা নেই প্রস্তাবিত বাজেটে। শিক্ষার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে না পারলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের মানুষ আশা করেছিল বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দের ক্ষেত্রে একটা উল্লম্ফন ঘটবে। কিন্তু তা আর হয়নি বরং সবকিছুই আবর্তিত হচ্ছে অতীত বৃত্তেই। বিষয়টি সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক।

আসলে চলমান মহামারিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের শিক্ষাখাত। যদি সত্যিকার অর্থে এই ক্ষতি আমরা মোকাবিলা করতে চাই এবং অনলাইন-অফলাইন শিক্ষাকে সক্ষমতার পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই, তাহলে সেখানেই তো কয়েক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া প্রয়োজন হবে। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেট এক্ষেত্রে আমাদেরকে হতাশই করেছে।

শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজেটে শিক্ষায় যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, তা খুবই অপর্যাপ্ত। শিক্ষায় একদমই যথাযথ গুরুত্ব দেয়া হয়নি। কলকারখানা বন্ধ হলে এবং শ্রমিকরা বিদেশে যেতে না পারলে আমরা সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যাচ্ছে না, সে বিষয়ে মনে হয় কেউ উদ্বিগ্ন নয় বরং তা স্বাভাবিকই মনে করা হচ্ছে। এ থেকেই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয় না যে শিক্ষাকে কোন ভাবেই গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না বরং সবকিছুই হচ্ছে দায়সারাভাবে।

যে জাতি যত উন্নত সে জাতির শিক্ষা ব্যবস্থাও ততই মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। তাই দেশ ও জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে শিক্ষাক্ষেত্রে আমাদের সনাতনী দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন করতে হবে। বেড়িয়ে আসতে হবে অতীত বৃত্ত থেকে। বাজেটকে করতে হবে শিক্ষাবান্ধব। কিন্তু নতুন বাজেট যে জনগণের সে আশার প্রতিফলন ঘটেনি তা করেই বলা যায়।