ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:
ব্রেকিং নিউজ
  • মালয়েশিয়ায় সর্বাত্নক লকডাউনের ঘোষণা
  • সোহবত ছাড়া দাওয়াত ফলপ্রসূ হয় না
  • দশ মিনিটে ক্যান্সার পরীক্ষা, হার্ভার্ডে ডাক পেলেন আবু আলী
  • দ্বিতীয় শ্রেণিতে পাশ করেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক!
  • দেশে নতুন সেনাপ্রধান এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

৭ জুন ২০২১, ১৯:০৬

অবশেষে নিরপরাধ মিনুকে মুক্তির নির্দেশ দিলো হাইকোর্ট

18143_image-1.jpg
ছবি- সংগৃহীত

অবশেষে চট্টগ্রামের হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির পরিবর্তে কারাগারে থাকা নিরপরাধ মিনুকে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার দুপুরে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও মহি উদ্দিন শামীম এ নির্দেশ দেন। মিনুকে মুক্তির নির্দেশ দেওয়ার সাথে সাথে  দ্রুত কুলসুমকে গ্রেপ্তারেরও নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

এ সময় হাইকোর্ট আরও নির্দেশ দেন, কুলসুমের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে যারা হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেছেন সেই আইনজীবী ও বিচারকদের ২৮ জুন হাইকোর্টে হাজির হয়ে এ বিষয়ে জবাব দেওয়ার ।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কুলসুমের পরিবর্তে কারাভোগ করছিল মিনু। আদালতে মিনুর পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. শিশির মনির।

এর আগে গতকাল নিরপরাধ ব্যক্তির জেলখাটা দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেন, অর্থের বিনিময়ে বা যেকোনো কৌশলে মূল আসামি নিজেকে বাঁচিয়ে নিরপরাধ ব্যক্তিকে জেলে রাখার ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক।

এ সময় আইনজীবী শিশির মনির বলেন, বিগত দুই বছরে আমাদের দেশে এমন ২৬টি ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেছে । এক আসামির বদলে অন্য নিরপরাধ ব্যক্তি আমরা দেখতে পায়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ড. বশির উল্লাহ আইনজীবী শিশির মনিরের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, ‘আমরাও এটা চাই দোষীদের শাস্তি হোক, নিরাপদ কেউ যাতে জেলে না থাকে।’

হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কুলসুম আক্তারের হয়ে জেলখাটা মিনুর বিষয়টি আদালতের নজরে এনে গত ২৪ মার্চ চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা মিনুর নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

কারাগারের একটি বালাম বই দেখতে গিয়ে মিনুর সাজা খাটার বিষয়টি উঠে আসে। তারপর ২৩ মার্চ চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কুলসুম আক্তার কুলসুমী নামের এক নারীর বদলে সাজা ভোগ করার অভিযোগ আনা মিনুর উপ-নথি হাইকোর্টে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। চট্টগ্রাম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ শরীফুল আলম ভুঁঞার আদালত এ আদেশ দেন।

মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউট (পিপি) মো. নোমান চৌধুরী বলেন, আদালতে সংরক্ষিত ছবি সংবলিত নথিপত্র দেখে কুলসুম আক্তার কুলসুমী আর মিনু এক নয় বলে নিশ্চিত হয়েছেন। যেহেতু এরইমধ্যে এ মামলার রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করা হয়েছে তাই মামলার উপ-নথি দ্রুত সময়ের হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

হত্যা মামলায় আদালত যাবজ্জীবনসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেন কুলসুম আক্তার কুলসুমীকে। কিন্তু আদালতে আত্মসমর্পণ করে জেল খাটেন মিনু নামে এক নারী। নামের মিল না থাকার পরও কুলসুম আক্তার কুলসুমীর বদলে মিনু চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকেন দুই বছর নয় মাস ১০ দিন ধরে।

কোনো কিছুর মিল না থাকায় একজনের বদলে আরেকজন জেল খাটার বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শফিকুল ইসলাম খান।