ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:
ব্রেকিং নিউজ
  • মালয়েশিয়ায় সর্বাত্নক লকডাউনের ঘোষণা
  • সোহবত ছাড়া দাওয়াত ফলপ্রসূ হয় না
  • দশ মিনিটে ক্যান্সার পরীক্ষা, হার্ভার্ডে ডাক পেলেন আবু আলী
  • দ্বিতীয় শ্রেণিতে পাশ করেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক!
  • দেশে নতুন সেনাপ্রধান এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

৬ জুন ২০২১, ২১:০৬

নিরপরাধ ব্যক্তির জেলখাটা দুর্ভাগ্যজনক : হাইকোর্ট

18113_123.jpg
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির বদলে নিরপরাধ মিনু খাতুনের জেলখাটার বিষয়ে শুনানির সময় হাইকোর্ট মন্তব্য করেন কোন নিরপরাধ ব্যক্তি আসামির বদলে  জেলখাটা দুর্ভাগ্যজনক।

অর্থের বিনিময়ে বা  অন্য কোনো উপায়ে মূল আসামি নিজেকে বাঁচিয়ে নিরপরাধ কোন ব্যক্তিকে তার স্থানে জেলে রাখার ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক বলে মননে করে আদালত।

আজ রোববার বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীম ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিমের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ মামলার শুনানি হয়।

শুনানিতে আদালতে মিনুর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. শিশির মনির। আর রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ।

আইনজীবী শিশির মনির শুনানির সময় বলেন, বিগত দুই বছরে আমাদের দেশে এমন ২৬টি ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেছে । এক আসামির বদলে অন্য নিরপরাধ ব্যক্তি আমরা দেখতে পায়।

আইনজীবী বলেন, আসল আসামি শনাক্তের অনেক পদ্ধতি আছে। তার মধ্যে আইবলিং পদ্ধতিতে শনাক্ত করলে কোনো ভুল হবে হয় না। পরবর্তীতে এ বিষয়ে আদালতকে আমি আরও লিখিতভাবে জানাব। তবে মিনুর ঘটনার পেছনে একটি চক্র কাজ করছে। এ বিষয়ে আদালতের কাছে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশনা দাবি করছি ।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ড. বশির উল্লাহ আইনজীবী শিশির মনিরের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, ‘আমরাও এটা চাই দোষীদের শাস্তি হোক, নিরাপদ কেউ যাতে জেলে না থাকে।’

হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কুলসুম আক্তারের হয়ে জেলখাটা মিনুর বিষয়টি আদালতের নজরে এনে গত ২৪ মার্চ চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা মিনুর নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

কারাগারের একটি বালাম বই দেখতে গিয়ে মিনুর সাজা খাটার বিষয়টি উঠে আসে। তারপর ২৩ মার্চ চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কুলসুম আক্তার কুলসুমী নামের এক নারীর বদলে সাজা ভোগ করার অভিযোগ আনা মিনুর উপ-নথি হাইকোর্টে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। চট্টগ্রাম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ শরীফুল আলম ভুঁঞার আদালত এ আদেশ দেন।

মহনগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউট (পিপি) মো. নোমান চৌধুরী বলেন, আদালতে সংরক্ষিত ছবি সংবলিত নথিপত্র দেখে কুলসুম আক্তার কুলসুমী আর মিনু এক নয় বলে নিশ্চিত হয়েছেন। যেহেতু এরইমধ্যে এ মামলার রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করা হয়েছে তাই মামলার উপ-নথি দ্রুত সময়ের হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

হত্যা মামলায় আদালত যাবজ্জীবনসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেন কুলসুম আক্তার কুলসুমীকে। কিন্তু আদালতে আত্মসমর্পণ করে জেল খাটেন মিনু নামে এক নারী। নামের মিল না থাকার পরও কুলসুম আক্তার কুলসুমীর বদলে মিনু চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকেন দুই বছর নয় মাস ১০ দিন ধরে।

কোনো কিছুর মিল না থাকায় একজনের বদলে আরেকজন জেল খাটার বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শফিকুল ইসলাম খান।