ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:
ব্রেকিং নিউজ
  • মালয়েশিয়ায় সর্বাত্নক লকডাউনের ঘোষণা
  • সোহবত ছাড়া দাওয়াত ফলপ্রসূ হয় না
  • দশ মিনিটে ক্যান্সার পরীক্ষা, হার্ভার্ডে ডাক পেলেন আবু আলী
  • দ্বিতীয় শ্রেণিতে পাশ করেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক!
  • দেশে নতুন সেনাপ্রধান এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ

২ জুন ২০২১, ১৮:০৬

জীবন বীমা হালাল, নাকি হারাম?

17970_88888.JPG
একজন কর্মজীবী মানুষকে জীবনে নানা রকম সমস্যা ও ঝামেলার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করতে হয়। এর মধ্যে যখন সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনা আসে তখন তো চিন্তার বিস্তৃতি ঘটে। ঘরের নারীরা বাড়িতে ব্যস্ত থাকে গৃহস্থালির কাজে এবং পরিবারের খেয়াল রাখেন। এরফলে পরিবারের পুরুষ ব্যক্তিকে পরিবারকে গড়তে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়।

ভবিষ্যতের নিরাপত্তা!

একজন মানুষের জন্য সন্তান ও পরিবারের ভবিষ্যৎ সুন্দর ও নিরাপদ করা বৃহত্তর দায়িত্ব,যদিও কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যায়। পাশাপাশি অনেক প্রশ্নও থাকে, যার কোনো উত্তর এখনো পাওয়া যায় না। এমতাবস্থায় জীবন বীমা কি হালাল, নাকি হারাম? আজকের লেখাটিতে সেই বিষয়ে। যদিও এই বিষয়ে বিশ্বে এখনো সঠিক কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

জীবন বীমা প্রকৃতপক্ষে একজনের ভবিষ্যৎকে নিরাপদ করে। এর অর্থ হলো-যদি জীবন বীমাকারীর জীবনে কোনো ক্ষতি হয়, তাহলে তার পরিবির আর্থিক নিরাপত্তা পাবে। যা তাদেরকে পরবর্তীতে সাহায্য করবে।

জীবন বীমা বিতর্ক!

জীবন বীমা কর্মসূচীর মাধ্যমে তার সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন যতক্ষণ না সেই সন্তান পরিণত বয়সে উপনীত হন। এমতাবস্থায় অনেক মনিষী সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন- জীবন বীমা হালাল, নাকি হারাম? যদি তারা এটিকে হালাল বলেন? তাহলে এর সমর্থনে তাদের কি যুক্তি আছে? আর যদি তারা এটিকে হারাম বলেন তাহলে, তার স্বপক্ষেই বা যুক্তি কি?

দু’ধরনের জীবন বীমা

বর্তমানে দু’ধরনের জীবন বীমা প্রচলিত আছে যা দু’টি ভিন্ন ভাগে করা হয়। প্রথমটি হলো- শর্তযুক্ত বা ক্ষতিপূরণ বীমা, আর দ্বিতীয়টি হলো- বৃত্তিদান বা পূর্ণ মেয়াদী।

ক্ষতিপূরণ বা ঝুঁকি বীমা

এই ধরনের জীবন বীমায় ১৮ থেকে বিশ বছর পরিমিত কিস্তি দিতে হয়।এর ফলে মৃত্যুর পর তার পরিবার চুক্তি অনুযায়ী একটি দীর্ঘ সময় ধরে টাকার সমুদয় প্রাপ্য হবেন। যদি জীবন বীমাকারীর জীবদ্দশায় বীমার মেয়াদ শেষ হয়, তাহলে তিনি কোনো কিছুই পাবেন না। সুতরাং তাকে ভালোভাবে সচেতন হতে হবে, কারণ তাকে পরিবারের জন্য প্রচুর ত্যাগ করতে হবে।

পূর্ণমেয়াদী বা বৃত্তি বীমা

দ্বিতীয় ধরনের জীবন বীমায় দীর্ঘদিন অনেক অর্থ বীমা কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে হবে। যা ইসলামী শরীয়াহ ও আইনানুযায়ী। বীমা কোম্পানির বিনিয়োগের শর্তানুযায়ী যখন বীমাটির মেয়াদ পূর্ণ হবে,তখন বীমাকারী ব্যক্তি লাভসহ মোটা অংকের অর্থ বীমা কোম্পানি থেকে প্রাপ্য হবেন।

মুনাফা হালাল না হারাম?

বীমা কোম্পানির পূর্ণমেয়াদী বা বৃত্তি বীমার মুলধন যদি ইসলামের আইনানুযায়ী বিনিয়োগ করা হয় তাহলে সেই মুনাফা হালাল হবে। যদি তা ইসলামের আইনানুযায়ী না হয় তাহলে তা হারাম হবে। উদাহরণস্বরুপ, যদি কোনো বিনিয়োগ ইসলামের আইন অনুযায়ী জমি কেনা-বেচা বা ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয় তাহলে এর মুনাফার অংশ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যাবে। এক্ষেত্রে মুনাফার পরিমান বীমা চালুর শুরুতে নির্দিষ্ট করা যাবে না।

বর্তমানে কোনো বীমা কোম্পানি বিনিয়োগে শতভাগ শরীয়াহ অনুস্বরণ করে না। জীবন বীমা হালাল বা হারাম প্রশ্নে? অধিকাংশ পন্ডিত মনে করেনে যে,জীবন বীমা হালাল নয়। আপনি এর বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন করে ও বিশ্বাসে ঘাটতি রেখে মুনাফা নিচ্ছেন।
আপনার জন্য উত্তম হবে আল্লাহর আইনের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা। আল্লাহ যদি আপনার জীবদ্দশায় খাওয়ান, আপনার মৃত্যুর পরও সন্তানদের খাওয়াবেন।

আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে পারবেন, একন আরো অনেক পন্থা রয়েছে। উদাহরণস্বরুপ, আবাসন খাতে বিনিয়োগ করা এবং নিয়মিত আয় থেকে কিছু সঞ্চয় করার মাধ্যমে তাদের আর্থিক ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে পারবেন।

এনএনবিডি/ আনসারী