ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:
ব্রেকিং নিউজ
  • মালয়েশিয়ায় সর্বাত্নক লকডাউনের ঘোষণা
  • সোহবত ছাড়া দাওয়াত ফলপ্রসূ হয় না
  • দশ মিনিটে ক্যান্সার পরীক্ষা, হার্ভার্ডে ডাক পেলেন আবু আলী
  • দ্বিতীয় শ্রেণিতে পাশ করেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক!
  • দেশে নতুন সেনাপ্রধান এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ

২ জুন ২০২১, ১৭:০৬

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া দরকার

17968_Ed.jpg
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। লকডাইনের শর্তবলী শিথিলসহ পরিস্থিতি ক্রমেই স্বাভাবিক হওয়া শুরু হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা কেটে যায়নি।  অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে সরকার সহসাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে আগ্রহী নয়। দেশে কোভিড-১৯ সনাক্ত হওয়ার পর গত বছরের মধ্য মার্চ থেকে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। প্রথম দফা বন্ধ ঘোষণার পর বারবার সে সময়সীমা বর্দ্ধিত হয়েছে। করোনা প্রাথমিক সংক্রমণ খানিকটা সামাল দেয়ার পর দফায় দফায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার বারবার তারিখ নির্ধারণ করা হলেও তা কার্যকর হয়নি। এর মধ্যেই এসে গেছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে সারাদেশে সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করেছে। কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করে শেষ পর্যন্ত ৬ জুন পর্যন্ত লকডাউন বর্দ্ধিত করা হয়েছে। এমতাবস্থায় ১৩ মে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী।
এতদবিষয়ক  এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানান, ‘আগামী ১৩ জুন থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাইকে করোনার টিকার আওতায় আনার ওপর। তিনি বলেন, ১২ জুন পর্যন্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকছে, ১৩ জুন থেকে সেগুলো খুলে দেয়া হচ্ছে’। কিন্তু সরকার পক্ষের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্য শিক্ষামন্ত্রীর সে বক্তব্য থেকে সরে আসার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
কারণ, ২৭ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় নতুন করে শর্তারোপ করা হয়েছে। নির্দেশনা বলা হয়, করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলে আগামী ১৩ জুন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা এবং শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের নির্দেশনায় বলা হয়, করোনা সংক্রমণ থেকে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার লক্ষ্যে আগের ধারাবাহিকতায় আগামী ১২ জুন পর্যন্ত সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এ সময়ে নিজেদের এবং অন্যদের করোনা সংক্রমণ থেকে সুরক্ষার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বাসস্থানে অবস্থান করবে। বাসায় থেকে তারা টেলিভিশন ও অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের সাথে সংযুক্ত থাকবে। মূলত, মাউসির এই নির্দেশনা থেকেই একথা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সরকার এখনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছে।
সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যেও সে কথার প্রতিধ্বনি শোনা গেছে। গত ২৯মে জাতীয় প্রেসক্লাবে তিনি এক বক্তৃতায় বলেছেন, করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি যদি নিয়ন্ত্রণে থাকে তাহলে নির্ধারিত তারিখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হবে। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলে মানুষের স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন। তার ভাষায়, কোনো আন্দোলনের মুখেই জনগণের জীবন নিয়ে অবহেলা করবে না সরকার। তিনি দাবি করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার ব্যাপারে সরকারের সব প্রস্তুতি নেয়া আছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে যথাসময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হবে। কিন্তু তার এই কথায় কোন অভিনবত্ব নেই বরং অতীত বক্তব্যের চর্বিত মাত্র। করোনা সংক্রমনের শুরু থেকে এমন কথায় প্রতিনিয়ত বলা হচ্ছে সরকারের পক্ষে। তাই সহসাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে যাবে বলে কেউই আশ^স্ত হতে পারছেন না।
দ্বিতীয় দফা লকডাউন দফায় দফায় শিথিলের মাধ্যমে জনজীবনে স্বাভাবিকতা ফিরে আসতে শুরু করেছে। জীবনজীবিকার তাগিদে মানুষের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্যও ফিরে আসতে শুরু করেছে। গণপরিবহনও চালু হয়েছে ইতিমধ্যেই। কিন্তু দেশের সকল পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে দীর্ঘ মেয়াদে।
যা শিক্ষার্থী মেধা, মনন, অধ্যবসায়, অনুসন্ধিৎসা ও প্রতিভা বিকাশে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিষয়টি জাতীয় বন্ধাত্ব হিসাবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য শর্তসাপেক্ষে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার কথা বিবেচনা উচিত। অন্যথায় জাতীয় জীবনের এই ক্ষতি কোনভাবেই পূরুণ করা যাবে না।