ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:
ব্রেকিং নিউজ
  • মালয়েশিয়ায় সর্বাত্নক লকডাউনের ঘোষণা
  • সোহবত ছাড়া দাওয়াত ফলপ্রসূ হয় না
  • দশ মিনিটে ক্যান্সার পরীক্ষা, হার্ভার্ডে ডাক পেলেন আবু আলী
  • দ্বিতীয় শ্রেণিতে পাশ করেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক!
  • দেশে নতুন সেনাপ্রধান এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ

গাজী আনোয়ার শাহ্

২ জুন ২০২১, ১৬:০৬

সব মৃত্যু আমাদের হৃদয় স্পর্শ করে না

17965_192646507.jpg
সৃষ্টিকর্তা বিভিন্নরকম দূর্বলতা দিয়েই আমাদের পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের কল্যাণে মানুষ বিভিন্ন অসুখ থেকে সেরে উঠছেন। আবার কেউ আমৃত্যু রোগ নিয়েই বেঁচে থাকেন। সাধারণ মানুষ অসহায় হরিণের মতো আশা নিয়ে হাসপাতালে যায়। নিয়তি সহায় হলে সুন্দর হাসি নিয়ে সেসব মানুষ বাড়ি ফিরেন।

ব্যাংকে গেলে আপনার মনে হবে মানুষের বুঝি কত টাকা! মানুষগুলো কতই না ধনী। কোন শপিংমলে গেলে আপনার মনে হতে পারে মানুষ কতোই না সুখে জীবনযাপন করছে। চারদিকে কেবলি রঙ্গিন জীবন। অথচ জীবনের রঙ বদলাতে থাকে প্রতিনয়ত।

মেডিকেলের গেটে অপেক্ষা করলে দেখা যায়, কিছুক্ষণ পর-পর একটার পর একটা লাশ বের হয়। এম্বুল্যান্সের সাইরেন বাজতে থাকে। একপাশে আহত অসুস্থ রুগী প্রবেশ করছে তো অন্যপাশ দিয়ে লাশের স্ট্রেচারে বের হচ্ছে নিস্তেজ দেহ। পাশে স্বজনের আহাজারি।

এক বৃদ্ধা মা কাঁদছেন লাশের মুখে হাত রেখে, আমার আগে চলে গেলি কেন বাপজান! অন্যপাশে তাকালে দেখা যায় বয়সের কারণে বুড়ো বাপ দেহত্যাগ করেছেন। পৃথিবীর নির্মমতা বুঝতে পারে যে সন্তান সে বাবার লাশের পাশে দাঁড়িয়ে আছে নির্ভার। চোখের কোণে পানি টলমল করছে। চোখ মুচে নিয়ে আবার মনোযোগ দেয় মৃত বাবাকে হাসপাতালের বেড থেকে বাড়ির পথে নিয়ে যেতে।

সরকারি হাসপাতালে অনেক গরীব মানুষ আসেন। তাদের স্বজনের মৃত্যুতে প্রতিক্রিয়া একেবারেই ভিন্ন। বহু কষ্টে টাকাকড়ি জোগাড় করে মাকে হাসপাতালে এনেছেন এক জেলে পরিবার। হাসপাতালের গেটেই অভাগা মায়ের মৃত্যু হয়। এই মৃত্যুতে কোন আর্তনাদ নেই। বুক ফাটিয়ে কান্নাকাটিও নেই। স্থির দাঁড়িয়ে আছে স্বজনদের দুজন। গরীবের কাছে অসুস্থ মায়ের মৃত্যু সৃষ্টিকর্তার আশির্বাদের মতোই। ওষুধের টাকা জোগাড় করার সাধ্যটুকুও নেই। বিনা চিকিৎসায় বিছানায় কাতরাতে থাকেন। মায়ের মৃত্যুতে শুধু একবার আকাশের দিকে তাকিয়ে ছোট মেয়েটি বিড়বিড় করে কি যেন বললো। এর পর পাথরের মতো ভাবলেশহীনভাবে আবারো চিরদিনের জন্য মায়ের লাশ নিয়ে বাড়ির পথ ধরলো গরীব জেলে পরিবার।

যার প্রিয়জন মারা যায়, কেবল তিনিই কান্নাকাটি আর বিলাপ করেন। আহাজারি করে আশপাশ ভারী করে তোলেন। বাকি সবাই পাশে দিয়ে হেটে চলে যায়। সবাই যে যার মতো চলাফেরা করছে, পাশের মৃত ব্যক্তির প্রতি কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। মায়াও নেই। নূন্যতম দুঃখবোধ হয় না তাদের। অদ্ভুত জীবনাচার মানুষের। মৃত্যুকে সামনে রেখেই উৎসবমুখর জীবনের সন্ধানে বের হয়ে যায়। বেঁচে থাকার জন্য আমাদের কত লড়াই। ভালো-মন্দের ফারাক খুঁজতে যাই না। যে জীবন আমার নয়, সে জীবনের যত্ন নিয়ে ব্যাস্ত। যিনি জীবন দিলেন, বেঁচে থাকার সুযোগ দিলেন সেই স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা নেহাৎ কমই। ভোগ বিলাসে মত্ত মনের খায়েশ পূর্ণ করতে অনেক আয়োজন। একদিন দেহত্যাগ হবে, সেদিনের প্রস্তুতি নিয়েও কত উদাসীনতা আমাদের।

হাসপাতালে গেলে মানুষের কত ধরনের রোগ দেখা যায়। মাঝেমধ্যে পঙ্গু হাসপাতালে যাওয়া উচিত। ব্যাথা-বেদনায় কাতর মানুষগুলোর আর্তচিৎকার শোনা যাবে। সেখানকার অবস্থা দেখে শুকরিয়া আদায় করা যাবে। কতই না ভালো রেখেছেন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের! বিধাতার দয়ায় যে জীবনে প্রশান্তি বিরাজ করছে, কৃতজ্ঞচিত্তে শুকরিয়া জানাই সে সৃষ্টিকর্তার প্রতি।