ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:
ব্রেকিং নিউজ
  • মালয়েশিয়ায় সর্বাত্নক লকডাউনের ঘোষণা
  • সোহবত ছাড়া দাওয়াত ফলপ্রসূ হয় না
  • দশ মিনিটে ক্যান্সার পরীক্ষা, হার্ভার্ডে ডাক পেলেন আবু আলী
  • দ্বিতীয় শ্রেণিতে পাশ করেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক!
  • দেশে নতুন সেনাপ্রধান এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ

আরিফ আজাদ

২৩ মে ২০২১, ১৬:০৫

আপনার হ্যাশট্যাগ এবং সত্যিকার বাস্তবতা

17555_923521.jpg
একটা জিনিস বেশ অনেকজনকে বলতে দেখছি, কিয়ামতের মাঠে আল্লাহ যদি জিগ্যেশ করেন ‘মজলুম ফি-লি-স্তি-নি-দে-র জন্য তুমি কী করেছিলে?’

তখন তারা অন্তত বলতে পারবে যে— ইয়া মাবুদ, আমাদের তেমন কিছু করার ছিলো না। তবে, ফেইসবুক-টুইটারে হ্যাশট্যাগ দিয়ে আমরা প্রতিবা’দ জানিয়েছি’।

কথাটার আবেগটাকে শ্রদ্ধা করি, কিন্তু ফেইসবুক-টুইটারে স্রেফ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে কোনোকিছুকে ট্রেণ্ডে এক নাম্বারে, টপ র‍্যাঙ্কে নিয়ে আসবার মাঝে কোন ফায়দা নেই বলে মনে করি।

ধরুন— পোস্টে, কমেন্টে আমাদের অনবরত হ্যাশট্যাগে ফি-লি-স্তি-ন ইশ্যু টপে চলে এলো। এতে কী হবে? আমেরিকা নড়েচড়ে বসবে? জাতিসংঘ দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে? আরব রাষ্ট্রগুলো সরব হয়ে উঠবে? নেতানিয়াহু এই ট্রেণ্ডকে ভয় পাবে? এর কোনোটাই আসলে হবে না। আমার-আপনার হ্যাশট্যাগ দেখে বিশ্ব-রাজনীতি চলে না। বিশ্ব-রাজনীতি যারা চালায়, তারা আমার আর আপনার হ্যাশট্যাগের দুনিয়ার মানুষ না— এইটা যতোদ্রুত বুঝতে পারবো ততোই মঙ্গল। তার মানে, আমাদের হ্যাশট্যাগগুলো একেবারে বৃথা? নাহ, আপনার হ্যাশট্যাগ বৃথা যাবে না, যদি আপনি আপনার হ্যাশট্যাগের সঠিক প্রয়োগ করতে পারেন।

হ্যাশট্যাগটা ব্যবহার হয় সাধারণত কোন একটা ইশ্যুকে ফোকাসে রাখতে। যারা হ্যাশট্যাগ দেয়, তাদের প্রোফাইলের সাথে যদি আমি যুক্ত না-ও থাকি, যদি তাকে আমি ফলো না-ও করি, কেবল একটা নির্দিষ্ট হ্যাশট্যাগে ক্লিক করলে ফেইসবুক/টুইটার সেটা আমার সামনে নিয়ে আসবে। অর্থাৎ, ওই নির্দিষ্ট হ্যাশট্যাগ যারা যারা তাদের লেখাতে ব্যবহার করেছে, তাদের লেখাগুলো একে একে চলে আসবে আমার সামনে।

একটা সহজ উদাহরণ দেই। ধরুন তুরস্কের এক সমাজকর্মী ই-স-রা-ই-ল কীভাবে ১৯৪৮ সালে ফি-লি-স্তি-ন দখল করেছে, কীভাবে তারা বছরের পর বছর সেখানে অত্যাচার-নির্যাতন, হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে তা সবিস্তার লিখে একটা পোস্ট দিলো এবং ওই লেখার নিচে হ্যাশট্যাগে লিখলো #FreePalestine এখন, বাংলাদেশের কোন এক মফস্বল শহরে বসে কোন এক জায়গায় দেখা #FreePalestine হ্যাশট্যাগে ক্লিক করলে তুরস্কের ওই সমাজকর্মীর লেখাটাও আপনার সামনে শো হবে। এটা ফেইসবুক-টুইটারের এলগরিদম সিস্টেম। অথচ দেখুন, আপনি না ওই ভদ্রলোককে চিনতেন আর না তাকে ফলোও করতেন। কিন্তু একটা হ্যাশট্যাগ আপনাকে সেই তুরস্কের এক প্রতিবাদকারী পর্যন্ত পৌঁছে দিলো। এতে লাভ হলো কী জানেন? আপনি ফি-লি-স্তি-ন এবং ই-স-রা-ই-ল সম্পর্কে নতুন কিছু তথ্য হয়তো জানতে পারবেন আর জানতে পারবেন এই ইস্যুতে নতুন কোন এক ব্যক্তির ন্যারেটিভ। ভিন্ন একটা দেশের একজন প্রতিবাদকারী কীভাবে ভাবছে ইশ্যুটা নিয়ে— সেটা আপনার সামনে স্পষ্ট হবে।

হ্যাশট্যাগ এই উপকারটা করে এবং এভাবেই সেটা কাজের হয়ে উঠে। কিন্তু, কাজের কোন কথা নেই, নির্দিষ্ট বিষয়টার ওপর আপনার কোন ভাবনা, কোন চিন্তা, কোন অভিমত ব্যক্ত না করে কেবল আপনি যদি একসাথে নিজের পোস্টে আর অন্যের কমেন্ট-বক্সে শ’খানেক করে হ্যাশট্যাগ কমেন্ট করেন, বিশ্বাস করেন এতে একবিন্দুও লাভ নেই ভাইজান। কিন্তু, ক্ষতি আছে একটা। ক্ষতিটা কী?

আপনি যখন একই হ্যাশট্যাগ সামনে আসা সকল পোস্টের কমেন্টে কপি-পেস্ট করতে থাকেন, ফেইসবুক এলগরিদম আপনাকে স’ন্দেহ করা শুরু করবে। আপনাকে স্প্যামিংয়ের আওতায় ফেলে দিয়ে একসময় তারা ডিজেবল করে দিতে পারে আপনার অ্যাকাউণ্ট। আপনার অ্যাকাউণ্ট-ই কেবল নয়, যে-সকল প্রোফাইল আর গ্রুপের কমেন্ট সেকশান আপনি আপনার হ্যাশট্যাগ দিয়ে ভরিয়ে দেন, সেগুলোও স্প্যামিংয়ের আওতায় চলে যেতে পারে এবং রিস্কে পড়ে যেতে পারে তাদের প্রোফাইল-গ্রুপও।

আপনার বাছ-বিচারহীন, কোন বক্তব্য-হীন কেবল অবিরাম হ্যাশট্যাগ আরেকটা ক্ষতি করে। এই যু’দ্ধটাকে আমাদের শক্তি দিয়ে যেমন লড়তে হবে, তেমনি লড়তে হবে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবেও। বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে আমরা কীভাবে লড়বো? ধরুন, লণ্ডনের একটা ছেলে যে আদতে জানেই না যে ই-স-রা-ই-ল একটা ‘উড়ে এসে জুড়ে বসা’ রাষ্ট্র, তারা ফি-লি-স্তি-নে-র ভূমি দখল করে সেখানে আধিপত্য কায়েম করেছে, সেই ছেলেটা এবং তার মতো আমাদের আশেপাশে থাকা এরকম আরো হাজারো মানুষকে জানাতে হবে ব্যাপারগুলো। সেগুলো জানানোর জন্য আমাদের বেশি বেশি পড়তে হবে সেসব ইতিহাস আর লিখতেও হবে সেগুলো। সেই ইতিহাস সম্পর্কিত লেখাগুলোর নিচে আমরা  FreePalestine WeStandWithPalestine  জাতীয় হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করতে পারি।

এতে, ই-স-রা-ই-ল আর ফি-লি-স্তি-ন সম্পর্কে জানে না এমন নতুন কেউ যখন হ্যাশট্যাগগুলোতে ক্লিক করবে, লেখাগুলো তাদের সামনে শো করবে আর হয়তো তারা নতুন করে জানবে একটা জনপদ দখল হয়ে যাওয়ার গল্পটা। কিন্তু, আপনি যদি কোন ইতিহাস না লিখে, কোন ঘটনা না লিখে, নিদেনপক্ষে কোন বক্তব্য পেশ না করে শুধু যেখানে সেখানে আপনার হ্যাশট্যাগ কমেন্ট করতে থাকেন, হয়তো লণ্ডনের ওই ছেলেটা হ্যাশট্যাগে ক্লিক করে যখন দেখবে যে, এ-ধরণের হ্যাশট্যাগে ক্লিক করলে কেবল আপনার/আপনাদের কমেন্ট আর বক্তব্য-বিহীন পোস্ট সামনে আসছে, সে তো মহাবিরক্ত হয়ে আর এ-ব্যাপারে এগুতেও চাইবে না।

দখ’লদার, নিপী’ড়ক, গ’নহ’ত্যাকারী ই-স-রা-ই-ল সম্পর্কে যতোবেশি মানুষকে আমরা সচেতন করতে পারবো, যতোবেশি মানুষকে আমরা উপলব্ধি করাতে পারবো যে ই-স-রা-ই-ল একটা জা-য়ো-নি-স্ট রাষ্ট্র, ততোবেশি মঙ্গল এবং এটাই বুদ্ধিবৃত্তিক ল’ড়াই হিশেবে গন্য হবে। সুতরাং, আপনার অযাচিত, অবান্তর হ্যাশট্যাগ এই ল’ড়াই থেকে আমাদের পিছিয়ে দিচ্ছে কি-না, তা একবার ভাববেন কি?