ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:
ব্রেকিং নিউজ
  • মালয়েশিয়ায় সর্বাত্নক লকডাউনের ঘোষণা
  • সোহবত ছাড়া দাওয়াত ফলপ্রসূ হয় না
  • দশ মিনিটে ক্যান্সার পরীক্ষা, হার্ভার্ডে ডাক পেলেন আবু আলী
  • দ্বিতীয় শ্রেণিতে পাশ করেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক!
  • দেশে নতুন সেনাপ্রধান এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ

২৩ মে ২০২১, ০৯:০৫

স্বাধীন গণমাধ্যম ও মুক্ত সাংবাদিকতা

17523_RRR.jpg
রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হলেও আমাদের দেশে গণমাধ্যমের ক্রান্তিকাল চলছে। স্বাধীনতার দীর্ঘকাল পরও আমাদের গণমাধ্যমগুলো স্বাধীন  ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারছে না। ক্ষমতার প্রভাব বলয় থেকেই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে সবকিছু। যতটুকু স্বাধীনতা দিলে ক্ষমতবানদের সমস্যা হয় না ততটুকুই স্বাধীনতাই ভোগ করছে সংবাদমাধ্যম। মূলত, দেশে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিচ্যুতি এবং সুশাসনের অনুপস্থিতির কারণেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভের সেবা থেকে বরাবরই বঞ্চিত হচ্ছি আমরা। গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং অবাধ তথ্যপ্রবাহ অপরিহার্য হলেও এক্ষেত্রে আমাদের অবস্থা খুবই হতাশাব্যাঞ্জক। সাম্প্রতিক সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম নিগ্রহসহ কিছু ঘটনাপ্রবাহ সেকথাই প্রমাণ করে।
পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সম্প্রতি নিগ্রহ ও নাজেহালের শিকার হয়েছেন প্রথম আলোর সিনিয়র প্রতিবেদক রোজিনা ইসলাম। আমাদের দেশে সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনা এই প্রথম নয় বরং এর আগেও পত্রিকার সম্পাদকসহ সাংবাদিকরা নানাভাবে হয়রানী ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সরকারের রোষানালে পড়ে অনেক সাংবাদিককে কারাবরণ করতে হয়েছে। কেউ কেউ এখনো কারাগারেই রয়েছেন। আর রোজিনা নিগ্রহ ও কারাবরণের ঘটনা তারই ধারাবাহিকতা বৈ কিছু নয়।
ক্রমবর্ধমান গণমাধ্যমের কন্ঠরোধ ও সাংবাদিক নিগ্রহের পেক্ষাপটে ‘বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে সংবাদমাধ্যম ও বাকস্বাধীনতা’ এক অনলাইন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে সম্প্রতি। এতে বিশিষ্টজনেরা অভিমত প্রকাশ করে বলেছেন, ‘দেশে সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা, হয়রানি ও মামলার ঘটনায় সরকার দুর্নীতিবাজদের সুরক্ষা দিচ্ছে’। যা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত। এতে দাবি করা হয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, কেনাকাটার দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন করায় রোজিনা ইসলামের সাথে হিংসাত্মক আচরণ করা হয়েছে। সরকার যেটাকে দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থের কথা বলে, সেটি আসলে সরকারের নিরাপত্তা ও স্বার্থের বিষয়।
ঘটনার ধারাবাহিকতায় একথা স্পষ্ট যে, সরকার বিশেষ উদ্দেশ্যে দুর্নীতিবাজদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাচ্ছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, রোজিনা ইসলামকে আটক, হেনস্তা ও মামলা দেওয়ার মাধ্যমে সরকার দুর্নীতিবাজদের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন। এমনকি অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে তথ্য জানার মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে। সরকারের কাছে যে তথ্য আছে, নাগরিকের সে তথ্যপ্রাপ্তির আইনগত ও সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। তাই সরকার অবাধ তথ্যপ্রবাহের কোন ভাবেই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে না।
রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা ও মামলার ঘটনায় আমলারা ‘ক্ষমতা’ দেখিয়েছেন সম্মেলনে জোরালো অভিযোগ করা হয়েছে। মূলত, সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের সেবক। আমাদের সংবিধানের ২১(২) অনুচ্ছেদে সরকারি কর্মচারীদের কর্তব্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, ÔEvery person in the service of the republic has a duty to strive at all time to serve the people.Õ অর্থাৎ ‘সব সময় জনগণের সেবা করার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য’। অথচ সুশাসন ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের অভাবে এবং ক্ষমতাসীনদের পৃষ্ঠপোষকতায় আমলাতন্ত্র এখন রীতিমত প্রভূর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।
সাংবাদিক রোজিনার বিরুদ্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু এই নিন্দনীয় ঘটনার মাধ্যমে রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাটের ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। মূলত সাংবাদিকের কাজই হলো তথ্য বের করে আনা। রোজিনা ইসলাম সেটিই করার চেষ্টা  করেছেন। অথচ ঔপনিবেশিক আইন দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। পৃথিবীর সব সরকার মিথ্যা বলে; তথ্য লুকাতে চায়। কিন্তু রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসাবে গণমাধ্যম জনগণের কাছে প্রকৃত সত্য উপস্থাপন করে থাকে। কিন্তু আমাদের দেশের শৃঙ্খলিত গণমাধ্যম সে দায়িত্ব পালনে খুব একটা সাফল্য দেখাতে পারছে না। সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম কারাবরণের পর বিভিন্ন মহল থেকেই তার মুক্তি দাবি করা হয়েছে। কিন্তু এক রোজিনা মুক্ত হলেই সাংবাদিকতা মুক্ত হবে না বরং এজন্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অপরিহার্য। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ আশা করেন দেশের আত্মসচেতন মানুষ।