ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:
ব্রেকিং নিউজ
  • মালয়েশিয়ায় সর্বাত্নক লকডাউনের ঘোষণা
  • সোহবত ছাড়া দাওয়াত ফলপ্রসূ হয় না
  • দশ মিনিটে ক্যান্সার পরীক্ষা, হার্ভার্ডে ডাক পেলেন আবু আলী
  • দ্বিতীয় শ্রেণিতে পাশ করেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক!
  • দেশে নতুন সেনাপ্রধান এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ

লাইফস্টাইল ডেস্ক

২০ মে ২০২১, ১৯:০৫

জার্মানিতে পানি ও ঔষধির সমন্বয়ে অসাধারণ চিকিৎসা

17467_12.jpg
ছবি- সংগৃহীত
প্রচলিত চিকিৎসাপদ্ধতির আশ্রয় নিয়ে সুফল না পেয়ে অনেকে নেচারোপ্যাথির মতো বিকল্প পথ বেছে নেয়৷ দুইশো বছর আগে এক জার্মান যাজক শুধু পানি ও ঔষধীর সমন্বয়ে অভিনব এক ধারা শুরু করেছিলেন৷
 
ঊনবিংশ শতাব্দীতে সেবাস্টিয়ান ক্নাইপ নামের এক যাজক জার্মানির দক্ষিণে বাড ভ্যোরিসহোফেন শহরে এক সার্বিক চিকিৎসা পদ্ধতি সৃষ্টি করেছিলেন৷ ‘ওয়াটার ডক্টর’ নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন তিনি৷
 
ডিডাব্লিউ রিপোর্টার হেন্ড্রিক ভেলিং তার জীবন ও কাজের প্রভাব সম্পর্কে আরও জানতে সেখানে গেছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘পাঁচটি নীতির উপর সেবাস্টিয়ান ক্নাইপের দর্শন দাঁড়িয়ে আছে৷ ব্যায়াম, পুষ্টি, ঔষধি, অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য এবং পানির নিরাময় শক্তি৷ দেখা যাক কীভাবে সেটা কাজ করে৷’’
 
ক্নাইপের নীতি মেনে শরীর সারাতে হলে কয়েক সপ্তাহ স্যানিটেরিয়ামে থাকতে হবে৷ প্রাতরাশের আগেই পানির প্রথম দাওয়াই নিতে হয়৷ ক্নাইপ-ধারার বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাটিয়া সেম্যুলার অতিথিদের শরীরে পানির প্রভাব টের পাইয়ে দেন৷
 
শরীরের উপরের অংশ, মুখ অথবা হাতের জন্য আলাদা আলাদা স্নানের ব্যবস্থা রয়েছে৷ সেবাস্টিয়ান ক্নাইপ একশোরও বেশি পানি ঢালার এমন সব কায়দা সৃষ্টি করেছিলেন৷ শরীরের নির্দিষ্ট অংশে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে পানি স্বাস্থ্যের উন্নতি করে বলে ক্নাইপ মনে করতেন৷ দিনের বিভিন্ন সময়ে পানির আলাদা প্রয়োগের ব্যবস্থা রয়েছে৷ এতে সত্যি বেশ আরাম পাওয়া যায়৷ ঠাণ্ডা পানি ঢাললে শরীর বেশ চাঙ্গা হয়ে ওঠে৷ উদ্দেশ্য সব সময়ে এক৷ সুনির্দিষ্টভাবে রক্ত সঞ্চালন তরান্বিত করা হয়৷
 
কাটিয়া সেম্যুলার বলেন, ‘‘আরও ভালোভাবে রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে নিরাময় তরান্বিত করা হয়৷ আসলে শরীরকে এমন এক অবস্থায় আনা হয়, যাতে সে নিজেই সঠিক পথ ও লক্ষ্য খুঁজে পায়৷ পানি শরীরের মধ্যে সেই উদ্দীপনা জাগায়৷’’
 
বেশ স্বাস্থ্যকর প্রাতরাশ খেয়ে বাড ভ্যোরিসহোফেন শহরে ক্নাইপের চিহ্ন খোঁজার পালা৷
 
১৮৫৫ সাল থেকে সেবাস্টিয়ান ক্নাইপ শহরের এক মনাস্টারি বা মঠে সক্রিয় ছিলেন৷ গাইড কারিন বেন্ডলিন ক্নাইপ মিউজিয়ামে জানালেন, যাজক হিসেবে ক্নাইপ পানির নিরাময় শক্তি কাজে লাগিয়ে একবার নিজের যক্ষা রোগ সারিয়ে তুলেছিলেন৷ তারপর বাকিদের চিকিৎসা করে এবং সার্বিক নেচারোপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে বই লিখে ও লেকচার দিয়ে তিনি গোটা বিশ্বে খ্যাতি অর্জন করেন৷
 
তার চিকিৎসা দর্শনের পাঁচটি মূলমন্ত্রের চিহ্ন গোটা শহর জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে৷ যেমন স্যানেটোরিয়ামের পার্কের ঔষধির বাগানে গাছপালার নিরাময় শক্তির পরিচয় পাওয়া যায়৷ কারিন বেন্ডলিন বলেন, ‘‘তার কাছে নিয়ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল৷ আজ আমরা যাকে নিয়ম বলি, তার কাছে সেটা ছিল ধর্ম৷ শরীর ও আত্মার মধ্যে সামঞ্জস্য থাকতে হবে৷ তিনি বলতেন, মানুষের আত্মার নাগাল পেলে তবেই তাদের শারীরিক রোগ নিরাময়ে সাফল্য পাওয়া সম্ভব৷’’
 
এবার আরও দূরে বেরিয়ে পড়ার পালা৷ শহরকে ঘিরে প্রায় আড়াইশো কিলোমিটার হাঁটাপথ রয়েছে৷ সেই ‘ক্নাইপ ট্রেল’ পথের উপরেও তার নানা চিহ্ন ও জীবনদর্শনের ছাপ ছড়িয়ে রয়েছে৷ যেমন ছোট পাহাড়ি নদীর উপর পায়ে হাঁটার ব্যবস্থা৷ নিজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে হেন্ড্রিক ভেলিং বলেন, ‘‘মানতেই হবে, যে প্রথমে আমার মনে কিছু সংশয় ছিল৷ মনে হচ্ছিল পানির মধ্যে হেঁটে কী আর হবে! তবে স্বীকার করতেই হবে যে ক্নাইপের স্বাস্থ্য কর্মসূচির সব অংশগুলি নিখুঁতভাবে সার্বিক প্রভাব রাখে৷ এমনকি মাত্র এক দিন পরেই আমি বেশ হালকা বোধ করছি৷
 
সূত্র: ডয়চে ভেলে।