ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:
ব্রেকিং নিউজ
  • মালয়েশিয়ায় সর্বাত্নক লকডাউনের ঘোষণা
  • সোহবত ছাড়া দাওয়াত ফলপ্রসূ হয় না
  • দশ মিনিটে ক্যান্সার পরীক্ষা, হার্ভার্ডে ডাক পেলেন আবু আলী
  • দ্বিতীয় শ্রেণিতে পাশ করেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক!
  • দেশে নতুন সেনাপ্রধান এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ

১৯ মে ২০২১, ১০:০৫

মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের বিকল্প নেই

17431_Is.jpg
ক্রমেই মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে শুরু করেছে। চলমান এই সংঘাতকে ২০১৪ সালের থেকেও বড় আকারের বলে বলছেন সমর বিশেষজ্ঞরা। আল আকসায় নামাজে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে গত ১০ মে থেকে নতুন করে সংঘাত শুরু হয় গাজায়। পরিস্থিতি বলে দিচ্ছে দখলদার ইসরাইল গাজায় বর্বরোচিত হামলা সহসায় বন্ধ  করবে না। আর এমনই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রীর সর্বসাম্প্রতিক বক্তব্যে। গত ১৬মে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর যুদ্ধবাজী বক্তব্যের পর ১৭ মে গাজা উপত্যকায় নতুন করে হামলা চালিয়েছে দখলদার বাহিনী। গত ১৬মে ছিল ইসলাইলের চলমান বোমা হামলার অষ্টম দিন। এদিন দুটি আবাসিক ভবনে হামলা চালানোসহ কম পক্ষে ৪২ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে। হামলায় আহত হয়েছেন অসংখ্য বেসামরিক ফিলিস্তিনী।
হামাস সূত্র বলছে, ১৬মে হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল গাজার হামাস প্রধান ইয়াহিয়া আল সিনওয়ারের বাড়ি। এক সপ্তাহ আগে সহিংসতা শুরু হওয়ার পর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী গাজা উপত্যকায় ৫৮ জন শিশু ও ৩৪ জন নারীসহ দুই শতাধিক ফিলিস্তিনী নিহত হয়েছেন। সে হিসাবে নিহতদের ৫০ শতাংশই নারী ও শিশু। যা ইসরাইলী বাহিনীর যুদ্ধাপরাধের শামিল।
ইসরায়েলি হামলার জবাবে গাজা থেকে এক সপ্তাহ ধরে ছোড়া রকেটে দুই শিশুসহ ১০ ইসরায়েলি নিহত হয়েছে বলে দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ফিলিস্তিনি ইস্যুতে সম্প্রতি বৈঠকে বসে জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ। কিন্তু পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলো সমাধান তো দূরের কথা, এ বিষয়ে কোনো বিবৃতি পর্যন্ত দিতে পারেনি। ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপের ফলে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটের দুই রাষ্ট্র সমাধান ব্যাহত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি লিন্ডা থমাস-গ্রিনফিল্ড ভাষায়, সংঘাত বন্ধে দুই পক্ষকে অস্ত্রবিরতিতে সম্মত করাতে অক্লান্ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। কিন্তু তাদের দাবির সাথে বাস্তবতার কোন মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ, তারা প্রত্যক্ষভাবেই বরাবরের মত ইসরাইলী হামলার সমর্থন করে যাচ্ছে। আর আত্মরক্ষামূলক প্রতিরোধ বন্ধের চাপ দিয়ে যাচ্ছে ফিলিস্তিনকে। যা কোন ভাবেই যৌক্তিক নয়।
ইসরায়েলের স্থায়ী প্রতিনিধি গিলাড এরডান দাবি করেছেন, ‘হামাসের ছোড়া রকেটে ১০ বছর বয়সী এক আরব-ইসরায়েলি মেয়ে নিহত হয়েছে। বেসামরিক প্রাণহানী এড়িয়ে সন্ত্রাসীদের নির্মূলে যে নায়কোচিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল, সেটা দেখুন।’ কিন্তু ইসরাইলী প্রতিনিধির দাবির কোন সারবত্তা পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ, অন্যান্য দিনের তুলনায় ১৭মে আরো ভারী বোমাবর্ষণ করছে ইসরাইল। গাজার এপি প্রতিনিধি ফারেস আকরাম জানিয়েছেন, বিস্ফোরণে প্রকম্পিত গাজার উত্তর থেকে দক্ষিণাঞ্চল। আল জাজিরার প্রতিনিধি সাফওয়াত আল-কাহলুত বলেন, শান্ত সময় ছিল সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা। আর হতাহতের অধিকাংশই বেসামরিক লোক।
এমতাবস্থায় ফিলিস্তিনী ইসরাইলী বাহিনীর বর্বরোচিত হামলা বন্ধে বিশ^সংস্থাগুলোর কার্যকর ভূমিকা পালনের সময় এসেছে। কিন্তু জাতিসংঘ বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘের ভূমিকা বিশে^র শান্তিপ্রিয় মানুষকে অনেকটাই হতাশ করেছে। অবশ্য দীর্ঘ নিরবতার পর ফিলিস্তিন ইস্যুতে জরুরি বৈঠক করেছে ইসলামিক সহযোগিতা পরিষদ (ওআইসি)। সংস্থাটির সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ওই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সম্মেলনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভাসগøু ইসরাইলি হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। ওআইসির নির্বাহী কমিটির সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ফিলিস্তিনীদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ করা আমাদের সকলের মানবিক দায়িত্ব।
তাই দখলদার ইসরাইলী বাহিনীর হাত থেকে ফিলিস্তিনী জনগণের জানমাল রক্ষা করতে মুসলিম বিশ^কে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ওআইসির মত সংস্থাগুলোকে শুধু নিন্দা-বিবৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ চলবে না বরং মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ করে ইহুদীবাদীদের বিরুদ্ধে বিশ^ জনমত গড়ে তুলতে হবে। অন্যথায় মধ্যপ্রাচ্যে কখনোই শান্তি ফিরে আসবে না।