ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:
ব্রেকিং নিউজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৪ জানুয়ারি ২০২২, ১৬:০১

মানবদেহে প্রথম শূকরের হার্ট প্রতিস্থাপন করল মুসলিম ডা. মহিউদ্দিন!

23940_71422.JPG
ডা. মহিউদ্দিন
বিশ্বের ইতিহাসে মানবদেহে শূকরের হার্ট বা হৃতপিন্ড প্রথমবারের মতো সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। গত বছরের ৩১ জানুয়ারি শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড মেডিকেল সেন্টারে ঐতিহাসিক এই জটিল অস্ত্রোপাচারটি করেন মুসলিম ডা. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। যার মাধ্যমে প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপাচারের গবেষণায় সকল রেকর্ড ভাঙলেন মুসলিম বিজ্ঞানী এই সার্জন।

তথ্যমতে ৫৭ বছর বয়সী ডেভিড বেনেটের শরীরে হৃতপিন্ডটি স্বাভাবিকভাবে কার্যকর রয়েছে এখনো।

ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড স্কুল অব মেডিসিন -এর চিকিৎসক বলেন, প্রাণঘাতি হার্টের রোগে বেনেটের মৃত্যুঝুঁকি থেকেই এই অস্ত্রোপাচার করা হয়েছে।

একটি সাক্ষাৎকারে ইউএমএসএম এর চিকিৎসক ডা. মহিউদ্দিন বলেন, শূকরের ওই হার্টটি ভালোভাবে কাজ করছে, এখন পর্যন্ত ভিতরে কোনো দৃশ্যমান সমস্যা দেখা দেয়নি।

হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপন কর্মসূচীর পরিচালক ডা. বার্টলি গ্রিফিথ জানান, ডা. মহিউদ্দিনের সম্পাদিত অস্ত্রোপাচারে হার্টটি সঠিকভাবে কাজ করছে, ব্লাড প্রেসার ও পালস সৃষ্টি করছে।

মানবদেহে শূকরের হার্ট সফলভাবে প্রতিস্থাপন যুগান্তকারী হিসেবে ভবিষ্যতে মানব রোগীর দেহে প্রতিস্থাপনে পশুর অঙ্গ সরবরাহ করা যাবে বলে আশা করা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনোট্রান্সপ্ল্যান্ট কর্মসূচীর পরিচালক ডা. মহিউদ্দিন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পশুর অঙ্গ ট্রান্সপ্ল্যান্ট বিশেষজ্ঞদের একজন। যিনি জেনোট্রান্সপ্ল্যান্ট বা জেনোগ্রাফটিং -এর একটি নতুন কৌশল জানেন।

ডা. মহিউদ্দিন ট্রান্সপ্ল্যান্টের বিষয়ে ব্যাখ্যা করে বলেন, তার দল ওই শূকরটির হার্টের দশটি জিন সংস্করণ করে চারটি জিন বাদ দিয়েছেন। এর তিনটি এন্টিবডি তৈরির জন্য দায়ীটি তাই সেগুলো বাদ দেয়া হয়, আর একটিকে বাদ দেয়া হয় যেটি শূকর তৈরি বা এর অঙ্গ যেন তৈরি করতে না পারে সেজন্য।

তিনি আরো বলেন, বিশ্বব্যাপী লাখ লাখ মানুষের অঙ্গ দরকার হয়, কিন্তু দুভার্গ্যজনকভাবে তাদের সবাই প্রতিস্থাপনের জন্য উপযুক্ত হন না। যদি এই ধরণের রোগীদের জন্য জেনোগ্রাফট সবখানে সহজলভ্য ও অনুমোদিত হতো, তাহলে সকলে এই শূকর থেকে সংস্করণ করে হার্ট নিতে পারতো, ফলে তাদের জীবন বাঁচতো।

এটিকে ‘নাটকীয় পরিবর্তন’ আখ্যা দিয়ে ডা. মহিউদ্দিন বলেন, যদি এই প্রতিস্থাপন সফল হয়, তাহলে তাদের কাছে এ সমস্ত অঙ্গ সহজলভ্য হবে।

ডা. মহিউদ্দিন ১৯৮৯ সালে করাচীর ডেউ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস শেষ করেন। এরপর করাচীর সিভিল হাসপাতালে ১৯৯০-১৯৯১ সাল পর্যন্ত থাকেন। এরপর তিনি ১৯৯১ ও ১৯৯৩ সালের মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব পেনিনসিলভিয়া মেডিকেল সেন্টারে ডিপার্টমেন্ট অব কার্ডিওথোরাসিক সার্জারি বিভাগে ট্রান্সপ্ল্যান্ট বায়োলজি এন্ড ইম্যুউনোলজিতে ফেলোশিপ করেছেন।

জায়েদ/এনএনবিডি