ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:
ব্রেকিং নিউজ

নিউজ ডেস্ক

১৩ জানুয়ারি ২০২২, ২২:০১

বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে জাফর ফিরোজের ‘দ্য আনসার্টেনিটি’

23928_12.jpg
জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক আর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে মনোনয়ন পেয়েছে তরুণ চলচ্চিত্র পরিচালক, মালয়েশিয়া প্রবাসী জাফর ফিরোজের চিত্রনাট্য ‘দ্য আনসার্টেনিটি’। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে এখন লড়ছে বাংলাদেশের এই চিত্রনাট্য।

বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) বৃহস্পতিবার ইমেইলের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আয়োজকরা।

৫১ বছর আগে ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর এক ঘূর্ণিঝড়ে কন্যা হারানো এক বাবার গল্প অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে এ চিত্রনাট্যটি।

এ ব্যাপারে পরিচালক জাফর ফিরোজ বলেন, এটি একেবারেই বাস্তব জীবনে ঘটে যাওয়া একটি চিত্রনাট্য। গল্পে জলোচ্ছ্বাসে যে মেয়েটি হারিয়ে গেছে তিনি আমারই বড় বোন। তিনিই ছিলেন তখন বাবার একমাত্র সন্তান। তখন আমাদের কারোই জন্ম হয়নি। বাবাকে দেখেছি মেয়েকে খোঁজার জন্য বিভিন্ন জায়গায় চলে যেতে। যখন শুনতেন অমুক জায়গায় একটি মেয়ে পাওয়া গেছে, বাবা ছুটে যেতেন সেখানে। এখনও বাবাকে তার হারিয়ে যাওয়া মেয়ের জন্য অপেক্ষা করতে দেখি। সেই জলোচ্ছ্বাসে আমাদের পরিবারে কতটা প্রভাব ফেলেছে তা আমি উপলব্ধি করেছি। একটি সুন্দর সাজানো সংসার প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আমি এই গল্পে তা তুলে আনার চেষ্টা করেছি।

৭০-এর ১২ নভেম্বর উপকূলে তাণ্ডব চালানো সেই ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ১০ লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। দেশের দক্ষিণাঞ্চল বরিশালের ভোলায় আমাদের মতো অনেক পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। অনেক পরিবার তাদের আত্মীয়-স্বজন, বাবা-মা, ভাই-বোনকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছিল।

আন্তার্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা দিয়ে যখন বাংলাদেশ আলোচনায় তখন জাফর ফিরোজের এই চিত্রনাট্যটি জনসচেতনতায় দারুণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন অনেকেই।

তরুণ পরিচালক জাফর ফিরোজ একাধারে লেখক এবং উপস্থাপকও। তার নির্মিত বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘দূরবীন’। ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফোরাম (আইএফএফ) এর সদস্য হিসেবে বর্তমানে তিনি কাজ করছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। বাংলা সাহিত্যে অধ্যয়ন শেষ করে মুম্বাইয়ে পড়াশোনা করেছেন চলচ্চিত্র নিয়ে। সেখানে স্নাতকোত্তর শেষ করে এখন চলচ্চিত্র বিষয়ে পিএইচডি করছেন মালয়েশিয়াতে। তার প্রকাশিত প্রথম শিশুতোষগ্রন্থ ‘খুকী ও প্রজাপতি’ প্রকাশ পায় ২০১৮ সালে। জাতিসংঘের ছয়টি ভাষায় গাওয়া ‘সালাম লিখেছে মা’ দেশাত্মবোধক গানটির গীতিকারও তিনি।