ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:
ব্রেকিং নিউজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৩ জানুয়ারি ২০২২, ১৫:০১

কোরআন শিক্ষা দেয়ায় উইঘুর নারীকে অপহরণ করে ১৪ বছরের জেল!

23898_258963.jpg
চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে চার বছর আগে এক উইঘুর মুসলিম নারীকে মধ্যরাতে নিজ বাড়ি থেকে অপহরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এরপর প্রতিবেশী শিশুদের কোরআন শিক্ষা দেয়া ও একটি পবিত্র কোরআন শরীফ গোপন করার অপরাধে তাকে ১৪ বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়েছে।

জিনজিয়াং প্রদেশের চ্যাং হুই স্বায়ত্ব শাসনাধীন অঞ্চলের মানাস জেলার ৫৭ বছর বয়সী ওই নারীর নাম হাসিয়েট এহমেত। চীনা কর্তৃপক্ষ ২০১৭ সালে কেন তাকে অপহরণ করেছে তা ওই নারী জানতে পারেননি।

রেডিও ফ্রি এশিয়ায় হাসিয়েটের মামলার বিষয়ে একটি প্রতিবেদনের পর উইঘুর সার্ভিসকে চীনা কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই গরীব মহিলাকে ১৪ বছরের সাজা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাত বছর সাজা দেয়া হয়েছে প্রতিবেশী শিশুদের কোরআন শিক্ষা দেয়ার জন্য। আর বাকী সাত বছর সাজা দেয়া হয়েছে তার বাসা থেকে মানাস জেলার প্রশাসন ধর্মীয় বই জব্দ করার সময় তিনি দু’টি কোরআন শরীফ গোপন করেছিলেন সেই অপরাধে।

ওই জেলার তিন নম্বর পুলিশ স্টেশনের এক কর্মকর্তার বরাতে জানা যায়, মধ্যরাতে আকস্মিক হাসিয়েটের বাসায় অভিযান চালানো হয়। তাকে তুলে আনার সময় জোর করে তার মাথায় একটি কালো কাপড় পড়ানো হয় এবং অন্যান্য কাপড় ও ওষুধ নেয়ার সুযোগ দেয়ার অনুরোধ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখান করা হয়।

মানাস জেলার আঞ্চলিক আদালত হাসিয়েট এহমেতের ১৪ বছরের কারাদন্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

গ্রেফতারের নয় বছর আগে ২০০৯ সালে হাসিয়েটস দম্পতি ‘বিচ্ছিন্নতাবাদীর’দায়ে আজীবন কারাদন্ডে দন্ডিত হয়েছিলেন।

শারীরিক অসুস্থতার কারণে গ্রেফতারের দুই বছর আগে হাসিয়েটস জনসমাগমে নিজেকে সম্পৃক্ত করা থেকে বিরত রাখা ও কোরআন শিক্ষা দেয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তথাপি চীনা কর্তৃপক্ষ তাকে এখনো আটকে রেখেছে।

গত কয়েক বছর ধরে জিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের চীনা কর্তৃপক্ষ উইঘুর মুসলমানকে নির্যাতন করে আসছে। ধর্মীয় চরমপন্থা ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বন্ধ করার অংশ হিসেবে ইসলামিক সম্প্রদায়ের সদস্যদের নিরীক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ এবং আত্তীকরণের একটি প্রচারাভিযানের আড়ালে তারা এসব করছে ।