ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:
ব্রেকিং নিউজ

নিউজ ডেস্ক

১২ জানুয়ারি ২০২২, ১৯:০১

করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা

23869_4.jpg
ছবি- সংগৃহীত
মহামারি করোনার নজড় এবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দিকে। জানা গেছে, হাইকোর্টের ৪ জন ও আপিল বিভাগের একজন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তবে এর ভিতর বেশ কয়েকজন সুস্থ হয়েছেন বলেও জানা গেছে।

সদ্য আপিল বিভাগে নিয়োগ পাওয়া ৪ বিচারকের মধ্যে বিচারপতি বোরহান উদ্দিন, বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ শপথ নিলেও নাজমুল আহসান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় শপথ নিতে পারবেন না বলে নিজেই জানিয়েছেন।

এর আগে গত ১৭ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম। সেখানে গিয়ে স্বপরিবারে করোনা আক্রান্ত হন বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তাপস কান্তি বল।

গণমাধ্যমে দেয়া স্বাক্ষাতকারে তিনি বলেন,“চেয়ারম্যান স্যার আমেরিকায় গিয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে বাংলাদেশ সময় আজ সকালে তার কভিড টেস্টে নেগেটিভ এসেছে। স্যার সুস্থ আছেন। সেখানে তিনি তার ছেলের বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।”

ট্রাইব্যুনালের আরেক বিচারক আবু আহমেদ জমাদার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন, গত সোমবার তার কোভিড টেস্টে ফল নেগেটিভ আসলে তিনি হাসপাতার থেকে বাসায় ফেরেন। হাইকোর্টের আরেক বিচারপতি জে বি এম হাসানও করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। গত মঙ্গলবার পরীক্ষায় কভিড নেগেটিভ হলে বুধবার থেকে তিনি বিচারকাজ শুরু করেন।

এছাড়া হাইকোর্টেন আরেক বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন নতুন করে করোনা আক্রন্ত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার বিচারকাজ চলার মধ্যে হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে তার কোভিড টেষ্ট পজিটিভ আসে।

তবে সুপ্রিম কোর্টের একটি সূত্র জানিয়েছে , গত ২-৩ সপ্তাহে কমপক্ষে ১১ জন বিচারক করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।

সারাদেশে দিন দিন করোনা সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। গত মঙ্গলবার দৈনিক শনাক্তের হার পৌঁছেছে ৯ শতাংশের কাছাকাছি। বিশ্বেজুড়ে করোনায় মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৫৪ লাখ ৮৭ হাজার ছাড়িয়েছে। আর শনাক্ত হয়েছে ৩১ কোটি ৬ লাখের বেশি রোগী।

২০২০ সালের মার্চে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের সব আদালতেও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। ওই সময় দেশের বিচার ব্যবস্থা কার্যত বন্ধ ছিল। পরে সুপ্রিম কোর্টের অনুরোধে মামলার বিচার, বিচারিক অনুসন্ধান, দরখাস্ত বা আপিল শুনানি, সাক্ষ্য বা যুক্তিতর্ক গ্রহণ, আদেশ বা রায় দিতে পক্ষদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে আদালতকে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষমতা দিয়ে আইন হয়। ১১ মে দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে প্রথম ভার্চুয়াল আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমতে থাকলে প্রথমে কিছু ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শারীরিক উপস্থিতিতে নিম্ন আদালতের কার্যক্রম চালু করা হয়। পরে হাই কোর্টের কয়েকটি বেঞ্চেও শারীরিক উপস্থিতিতে বিচারিক কার্যক্রম চালু করা হয়। পাশাপাশি ভার্চুয়াল আদালতও চালু থাকে। তবে দেশের সর্বোচ্চ আদালত, অর্থাৎ আপিল বিভাগ এবং চেম্বার আদালত ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মেই চলে আসছিল। দেড় বছরের বেশি সময় এ প্রক্রিয়ায় বিচারকাজ চলার পর গত ১ ডিসেম্বর থেকে সুপ্রিম কোর্টে শারীরিক উপস্থিতিতে বিচার কাজ শুরু হয়।

তবে গত কয়েকদিন ধরে নতুন করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগ বাড়তে থাকার প্রেক্ষাপটে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত ভার্চুয়ালি চালানোর সিদ্ধান্ত এসেছে। আগামী ১৬ জানুয়ারি থেকে সপ্তাহে চারদিন (রবি, সোম, মঙ্গল ও বুধবার) ভার্চুয়লি বিচারকাজ পরিচালনা করবেন চেম্বার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। বুধবার এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।