ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:
ব্রেকিং নিউজ

স্টাফ রিপোর্টার

১০ জানুয়ারি ২০২২, ১৬:০১

সংলাপের নামে হকারী করছে রাষ্ট্রপতি : রিজভী

23749_11022.JPG
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জনগণের চোখে ধূলা দিয়ে তামাশা করছে সরকার। রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে শেখ হাসিনা আবার সংলাপ ডাকছে। নির্বাচন কমিশন গঠনে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে রাষ্ট্রপতি সংলাপের নামে হকারী করছে। 

সোমবার সকাল ১১টায়  জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কারাবন্দি সাংবাদিক নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন গাজীর মুক্তির দাবিতে  ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দিক থেকে রুহুল আমিন গাজী অপরাধী, কারণ হাসিনা যেটা বিশ্বাস করেন গাজী সেটাতে বিশ্বাস করে না। রুহুল আমিন গাজীর অপরাধ হলো, তিনি কন্ঠের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী, আর হাসিনা বিশ্বাস করেন; যিনি কন্ঠের স্বাধীনতা দাবি করে, তার গলায় দড়ি পড়িয়ে দাও। তাই আজ গাজী লাল দেয়ালে বন্দি। আর যারা অপরাধী তারা দাপটের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

রিজভী বলেন, করোনা আর আওয়ামী লীগের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই, করোনার যেমন মিউটেশন হয় তেমনি আওয়ামী লীগের মিউটেশন হয়। ৭৫ সালে এক অদ্ভুদ কর্তৃত্ববাদী শাসন বাকশাল করেছিল। এই অদ্ভুৎ আইন যারা করতে পারে, তারা কেন গাজীকে আটকে রাখতে পারবে না? ৭৫ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগ নিজের থেকে মিউটেশন হচ্ছে, বাকশাল থেকে আরেক ধরণের ফ্যাসিস্ট শাসন, নাৎসি শাসন, এক দলীয় শাসন কায়েম করছে। প্রত্যেকটিই হচ্ছে বাকশালী শাসনের একেকটি রুপ। আওয়ামী লীগ ও করোনার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। দুটোই রুপান্তর ঘটায়, জীবন কেড়ে নেয়। আওয়ামী লীগও মানুষের জীবন কেড়ে নেয়, করোনাও মানুষের জীবন কেড়ে নেয়। এভাবেই  নব্য বাকশালী আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে জীবন কাড়ার রাষ্ট্র গড়ে তুলেছে।

শওকত মাহমুদের সাংবাদিক সুরক্ষা আইনের উপর দেয়া বক্তব্যের উদ্বৃতি দিয়ে রিজভী বলেন, প্রত্যেকটি কালা-কানুন হচ্ছে নিকৃষ্ট ধরণের অত্যাচার। সাংবাদিকদের উপর নিকৃষ্ট উৎপীড়নের জন্য আরেকটা কালা-কানুন তৈরি করছে  বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত সাংবাদিকদের উপর যত উৎপীড়ন, অত্যাচার, নির্যাতন ও বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করার ঘটনা ঘটেছে তার প্রত্যেকটির সাথে আ.লীগ জড়িত। কারণ তারা মুক্তচিন্তায় বিশ্বাস করে না, কন্ঠের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। গাজী সরকারের সাথে আতাত করেননি, মাথা নত করেননি, তাই তিনি আজ জেলে বন্দি।

হাইকোর্টের আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগে জেষ্ঠতা লঙ্ঘনের বিষয়ে রিজভী বলেন, সম্প্রতি  ১৯ জনকে টপকিয়ে আপিল বিভাগে চারজন বিচারপতিকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আপিল বিভাগের রায়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে তাদের বিশ্বস্থ লোক হাইকোর্টে দরকার। সেকারণে এরকম অনিয়ম।

খালেদা জিয়ার কারাবন্দির বিষয়ে রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা গায়ের জোড়ে দেশের জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় আটকে রেখে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। এর প্রত্যেকটাই হচ্ছে অমানবিক ও নীল নকশা। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন, রুহুল আমিন গাজীকে মুক্তি দিন, পদত্যাগ করুন।

বিক্ষোভ সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক নেতা বিএফইউজের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি ইলিয়াস খান, বিএফইউজের সেক্রেটারি নূরুল আমিন রোকন, ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ঢাকা রিপার্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি মোরছালিন নোমানীসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

সভাপতির বক্তব্যে এম আব্দুল্লাহ বলেন, সরকার সাংবাদিক সুরক্ষা আইনের নামে সাংবাদিকদের নির্যাতনের আরেকটি কালা কানুন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে। যেখানে প্রকৃত সাংবাদিকদের স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। ফটো জার্নালিষ্ট ও ক্যামেরাপার্সনদের পরিবর্তে  মালিক পক্ষের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাংবাদিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এছাড়া সেখানে এমন বিধানও রাখা হয়েছে, যদি কেউ সাংবাদিক পরিচয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিবের নিকট সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগ করে তাহলে সেই কর্মকর্তা তাৎক্ষণিক সেই হাউজে গিয়ে সেই গণমাধ্যমের প্রকাশনা বা সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়ার এখতিয়ার রাখেন। যা মূলত গণমাধ্যম বন্ধে সরকারের আরেকটি অপকৌশল মাত্র।