ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:
ব্রেকিং নিউজ

এনএনবিডি২৪ ডেস্ক

৯ জানুয়ারি ২০২২, ১৫:০১

ইসলামী জ্ঞানচর্চার কিংবদন্তি এ.কে.এম. নাজির আহমদ

23714_6565.JPG
বাংলাদেশে ইসলামী জ্ঞান-গবেষণা জগতে যে সকল মহাপুরুষ অবদান রেখেছেন, তাদের মধ্যে এ.কে.এম. নাজির আহমদ এক অতি পরিচিত নাম। ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে পান্ডিত্যপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করেছেন তিনি। ইসলামী গ্রন্থভান্ডার সমৃদ্ধ করতে তিনি অগ্রসেনানীর ভূমিকা পালন করেছেন। ইসলামী জীবনাদর্শের বিভিন্ন দিক ও বিভাগের ওপর গবেষণার জন্য শীর্ষস্থানীয় গবেষকদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে বাংলাভাষায় ইসলাম চর্চার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখেছেন।

কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলাধীন বোয়ালিয়া গ্রামে ১৯৩৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন প্রতিথযশা নাজির আহমদ। তার শৈশব কেটে যায় গ্রামে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা নিয়েছেন নিজ জেলা কুমিল্লাতে। এরপর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে। কৃতিত্বের সাথে ১৯৬২ সালে স্নাতক ও ১৯৬৩ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে তিনি তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পরিসমাপ্তি ঘটান।

শিক্ষা জীবনের ইতি টেনে তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। কিছুদিন পর কুমিল্লা সরকারি কলেজ ও টাঙ্গাইল কালিহাতি আওলিয়াবাদ কলেজে অধ্যাপনা করেন। চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও সুন্দর পাঠদানপদ্ধতির কারণে তিনি শিক্ষার্থীদের প্রিয়পাত্রে পরিণত হন।

এ.কে.এম. নাজির আহমদের তত্ত্বাবধান ও পৃষ্ঠপোষকতায় অনূদিত হয়েছে হাদিসের অমূল্য ভাণ্ডার সিহাহ সিত্তাহ, রাসূলুল্লাহর প্রাচীন জীবনীগ্রন্থ ‘সীরাতে ইবনে হিশাম’সহ অসংখ্য মূল্যবান কিতাব। তার নির্দেশনায় রচিত হয়েছে কল্পকাহিনীমুক্ত বিশুদ্ধ রেওয়ায়েতের ভিত্তিতে সাহাবায়ে কেরাম, তাবিয়িন, মুজাদ্দিদ ও মনীষীদের জীবনীর ওপর বিশাল সাহিত্য। বছরে তিন-চারটি গবেষণাপত্রের সংকলন প্রকাশ করতেন তিনি। তার হাত ধরে গড়ে উঠেছে একদল নিরলস পরিশ্রমী, বিশেষজ্ঞ গবেষক। এদিক থেকে তাকে বাংলা ভাষায় বুদ্ধিবৃত্তিক ইসলাম চর্চার অন্যতম প্রধান রূপকার বললে অত্যুক্তি হবে না।

ব্যক্তিগত জীবনে নাজির আহমদ ছিলেন প্রচারবিমুখ একজন মানুষ। লোভ কিংবা প্রতিষ্ঠা পাওয়ার চিন্তা তার জীবনকে স্পর্শ করতে পারেনি। ইসলামী জ্ঞানের বিভিন্ন দিক ও বিষয় যুগোপযোগী ভাষায় বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অবদান যাদের, তাদেরই একজন তিনি।

এ.কে.এম. নাজির আহমদ দীর্ঘদিন ইসলামী গবেষণা পত্রিকা ‘মাসিক পৃথিবী’র সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন। এ পত্রিকায় শীর্ষস্থানীয় চিন্তাবিদদের কয়েক হাজার প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া গবেষণা ও প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার’-এর পরিচালক ছিলেন দীর্ঘদিন। ইসলামিক সেন্টারের মাধ্যমে ইসলামের বিভিন্ন দিক ও বিভাগের ওপর গবেষণার জন্য গবেষণা সেল গঠন করেন।

নাজির আহমদ ইসলামী সাহিত্যে অসামান্য রেখেছেন। । ‘ইসলামী সংগঠন’ তার একটি গুরুত্বপূর্ণ রচনা; ইসলামী জীবনাদর্শে জীবন পরিচালনায় আগ্রহী সর্বস্তরের মানুষের নিকট বইটি অবশ্য পাঠ্য হিসেবে সমাদৃত। তার রচনাশৈলী সহজ-সরল ও তথ্যসমৃদ্ধ। আরবি শব্দাবলির বাংলা প্রতিবর্ণায়নে তিনি বিশেষ রীতির প্রবর্তকও; যথাসম্ভব মূল আরবি উচ্চারণ অবিকৃত রাখাই ছিল তার এই স্বতন্ত্র বর্ণায়ন রীতির বৈশিষ্ট্য। ‘বাংলাদেশে ইসলামের আগমন’ শীর্ষক তার আরেকটি মূল্যবান গ্রন্থ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্যতালিকার অন্তর্ভূক্ত। অনুবাদেও তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত, বেশ কয়েকটি মূল্যবান ইংরেজি গ্রন্থ বাংলায় অনুবাদ করেছেন।

জ্ঞানসাধক এই পন্ডিত ২০১৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকেন। এরপর দশদিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর ২০১৪ সালের ৭ জানুয়ারি মঙ্গলবার রাত ১১টা ১০মিনিটে এ নির্মোহ জ্ঞানসাধককে মহান রব নশ্বর পৃথিবী থেকে তুলে নেন। মৃত্যুকালে তার তিন পুত্র ও এক কন্যা রয়েছে।