ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:
ব্রেকিং নিউজ

জায়েদ আনসারী

৫ জানুয়ারি ২০২২, ১৫:০১

ছাত্রলীগের ৭৪, প্রধানমন্ত্রীর ৭৫ : বিতর্ক ও প্রত্যাশা!

23598_1522.JPG

বয়সের সাথে মানুষের দক্ষতা ও যোগ্যতার বিকাশ ঘটে। হয়ে উঠে সৃষ্টিশীল। যখন সৃজনশীলতা ও সৃষ্টিশীলতা লোপ পায় তখনি যেকোনো ব্যক্তি, সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের নিম্নগামীতার সূচনা হয়। সেক্ষেত্রে ছাত্রলীগের কর্মকান্ডের মূল্যায়ন ও  প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের ধারা বার বার আলোচনায় এসেছে।

গতকাল মঙ্গলবার ৭৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করল বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও উদযাপন করেছেন ৭৫তম জন্মদিন। দেশের প্রাচীন ও বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া  ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের কাছে ছাত্রসমাজ, সচেতন মহল, সর্বোপরি দেশের মানুষের প্রত্যাশা কী ধরণের তৈরি হয়েছে, তা মূল্যায়নের গুরুত্বও অনেক বেশি বেড়ে গেছে। একদিকে মুক্তিযুদ্ধে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখা ছাত্রলীগের ৭৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করল, অন্যদিকে দেশের প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭৫ বছরে চার বার প্রধানমন্ত্রীর আসনে। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা একদিকে ছাত্রলীগের অভিভাবক, অন্যদিকে রাষ্ট্রের নির্বাহী। সংগঠন ও বয়সের পরিপক্কতায় কেউই পিছিয়ে নয়।

রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে দেশ-বিদেশে  সুনাম কুড়িয়েছেন। একইভাবে আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ কি সেরকম কোনো বিতর্কমুক্ত অর্জন ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে? ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে অদ্যাবধি দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমায় ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৫৪’র প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়, ৫৮’র আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬’র ৬ দফার পক্ষে গণঅংশগ্রহণের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ।

এরপর সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে ৬৯’র গণঅভ্যুত্থানে অগ্রণী ভূমিকা রাখা, ৭০’র নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ জয়লাভ এবং ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে সংগঠনটি নিজেদের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। এসব অর্জনকে দেশের সকল মানুষ অকপটে  স্বীকার করে, সম্মান করে। তবে প্রকৃতির নিয়মের বাইরে কেউ কোনো কিছুকে মেনে নিতে পারে ন। সেক্ষেত্রে বিগত সময়ে ছাত্রলীগ প্রকৃতির বাইরে কখনো কখনো চলে যাওয়ার প্রমাণ মেলে।

২০০৮ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় নিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ছাত্রলীগের নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে  ২৪ জন মেধাবী ছাত্র, পঙ্গুত্ব বরণ করেছে কয়েক হাজার। তাদের নির্যাতনের ভয়ে ছাত্রত্ব হারিয়ে জীবনের আশার প্রদীপ নিভে গেছে আরো অনেকের। ছাত্রলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে কলেজের শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনাও ঘটেছে একাধিকবার। এছাড়াও বিগত কয়েক বছরে ছাত্রলীগ অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের প্রতি সহনশীলতার পরিচয় দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদ-এর নেতা ডাকসুর সাবেক ভিপি নূরুল হক ও  সারাদেশে অন্যান্য নেতা-কর্মীদের উপর হামলা চালানো, সমাবেশ ও কর্মসূচী পালন করতে না দেয়া। 

আর্থিক কেলেঙ্কারী ও টেন্ডারবাজিরও অভিযোগ কম আসেনি ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ফারজানা ইসলামের সাথে আর্থিক লেনদেন বিষয়ক ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার কারণে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে পদ হারাতে হয়।

দেশ বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের রিপোর্টে দেখা যায়, গত ১০ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), বুয়েট, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ (চবি) দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে লাশ হয়েছেন ২৪ জন শিক্ষার্থী। এই ২৪ জনের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮ জন, রাজশাহীতে ৫ জন,  ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ জন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ জন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ জন, দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ জন। এছাড়াও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আরো ৩টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

এর মধ্যে ২০১০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারির রাতে চট্টগ্রামের ষোল শহর রেলস্টেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মহিউদ্দিন কায়সারকে কুপিয়ে হত্যা। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই বছরের ১২ জানুয়ারি ছাত্রশিবিরের শাহ আমানত হলের সাধারণ সম্পাদক মামুন হোসেনকে হত্যা, ২৮ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী হারুন-অর-রশিদকে হত্যা, ১৫ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং বিভাগের শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামানকে হত্যা, ২০১৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে  গুলিবিদ্ধ হয়ে ছাত্রলীগ কর্মী তাপসের নিহত হওয়া, একই কারণে ২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর নিজ বাসায় দিয়াজকে খুন করার অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৯ সালের ১৩ মার্চ প্রকাশ্য দিবালোকে  শরিফুজ্জামান নোমানীকে কুপিয়ে হত্যা,  এরপর  ২০১০ সালে রাবি শিক্ষার্থী ফারুককে হত্যা করার অভিযোগ রয়েছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে।

ছাত্রলীগ শুধু প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রসংগঠন নয়, বরং নিজ সংগঠনের মধ্যে অনেকবার কোন্দলে জড়িয়ে হত্যাকান্ডের কালিমা লেপন করেছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫ আগস্টের টোকেন বিরতরণকে কেন্দ্র করে দলীয় কর্মীর হাতে খুন ছাত্রলীগ নেতা নাসিরুল্লাহ নাসিম। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১২ সালের ১৫ জুলাই রাতে ছাত্রলীগের গ্রুপিং ও সংঘর্ষে গোলাগুলিতে নিহত হন সোহেল রানা। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী  শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রুস্তম আলী আকন্দকে ২০১৪ সালের ৪ এপ্রিল নিজ কক্ষে গুলি করে হত্যা করা হয়।

ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৩ সালের ১৯ জানুয়ারি ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে নিহত হন ১০ বছরের শিশু রাব্বি। ২০১৪ সালের ৩১ মার্চ নিজ দলের নেতাকর্মী হাতেই প্রাণ হারান আশরাফুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী সায়াদ ইবনে মমাজ।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বাহাদুর শাহ পার্কে ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর  শিবির সন্দেহে পুরান ঢাকার দর্জি দোকানি বিশ্বজিৎ দাসকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ২০১২ সালের ৮ জানুয়ারি ছাত্রলীগের মধ্যে অন্তর্কলহের জেরে জাবির ইংরেজি বিভাগের ছাত্র জুবায়ের আহমেদ হামলায় গুরতর আহত হন।  পরদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ রহমান হলে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের মাঝে পড়ে নির্মমভাবে খুন হন মেধাবী সাধারণ ছাত্র আবু বকর।

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১২ সালের ৯ জুন সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি ফাহিম মাহফুজ বিপুল। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৫ সালের ১৬ এপ্রিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানের সময় জাকারিয়া ও মিল্টনকে হত্যা করা হয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একাংশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন তারা।

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের আভ্যন্তরীন কোন্দলে ২০১২ সালের ১২ মার্চ নিহত হন আবদুল আজিজ খান সজীব। একই কারণে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৪ সালের ১৪ জুলাই প্রকাশ্যে খুন হন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র নাইমুল ইসলাম রিয়াদ। ওই বছরের ২০ নভেম্বর শাহজালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের বন্দুকযুদ্ধে প্রাণ হারান ছাত্রলীগ কর্মী ও সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সুমন দাস।

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ড সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ও সমালোচিত হয় ছাত্রলীগ। ফেনী নদীর পানি ও ভারত ইস্যুতে ফেসুবুকে পোষ্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর সন্ধ্যার পর আবরারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে রাতভর পিটিয়ে নির্যাতন করে হত্যা করে তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা।

২০১৬ সালের ৩ অক্টোবর বিকেলে এমসি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রে বিএ (পাস) পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার সময় সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা হামলার শিকার হন। তাঁকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলম।

দলীয় কোন্দল ও বিরোধীদের সাথে সংঘর্ষে হত্যাকান্ডে লিপ্ত হওয়া ছাড়াও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ও দন্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন। এরমধ্যে আলোচিত হলো- ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটের এমসি কলেজে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে দলবেঁধে ধর্ষণ ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৯৮ সালে ছাত্রলীগ কর্মীদের দ্বারা ধর্ষণের ঘটনায় দেশের সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস উত্তাল হয়ে ওঠে। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ছাত্রলীগের সেক্রেটারি জসিম উদ্দিন মানিকের ধর্ষণের সেঞ্চুরির স্ব- ঘোষণায় সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

এরপর ২০০০ সালে থার্টি ফার্স্ট নাইটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বাঁধন নামে এক ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ পাশবিক নির্য়াতন চালায় ছাত্রলীগ। ২০১৭ সালে মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজের তৎকালীন ছাত্রলীগ সভাপতি এইচ এম জাহিদ মাহমুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তোলেন ছাত্রলীগ নেত্রী ফাতেমাতুজ জোহরা। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এই ছাত্রী জাহিদ ছাড়াও  ছাত্রলীগ নেতা মুজিবুর রহমান অনিকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন।

এছাড়াও ২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান সিদ্দিকী রনির বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেন এক স্কুল শিক্ষিকা। ২০২০ সালের ২৪ জানুয়ারি মেসে ডেকে নিয়ে এক ছাত্রীকে ধর্ষণ এবং বন্ধুদের দিয়ে তার ভিডিও ধারণ করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ কর্মী মাহফুজুর রহমান ওরফে সারদ।

সব ছাপিয়ে মঙ্গলবার (৪ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপারাজেয় বাংলার পাদদেশে সংগঠনটির ৭৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা। এতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সেক্রেটারি লেখক ভট্টাচার্য মারাত্মক আহত হন। যা অতীতের বিশৃঙখলা ও অন্তর্কোন্দলগুলোকে স্মরণ করিয়ে দেয়। যা সংগঠনটির অগ্রজ, দেশবাসী ও বর্তমান অনুজ ছাত্রদের জন্য বেদনাদায়ক। প্রত্যাশানুযায়ী বলা যায় ছাত্রলীগের সাথে কোনো সংগঠনের তুলনা কাজ করা চলে না।

সমাজ ও রাষ্ট্র নিয়ে কাজ করতে বিরোধীতা কিংবা প্রতিবন্ধকতা আসবে। সব কিছুকে উতরে সঠিক পথে চলতে পারাটাই সাফল্য হিসেবে পরিগণিত হয়। সেক্ষেত্রে ছোট খাটো ভুল বা পদক্ষেপ সুবিবেচনার দাবি রাখে। তবে বৃহত্তর ভুল বা স্বার্থান্বেষী কর্মকান্ড গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ছাত্রলীগের কর্মকান্ড সার্বিক বিবেনায় গঠমূলক হওয়ার দাবি রাখে। আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগের কর্মকান্ডের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। সামগ্রীকভাবে দেশের কল্যাণে ছাত্রলীগের অতীতের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়কে আবারো জাগ্রত করা সময়ের দাবি। প্রধানমন্ত্রী যুবলীগকে পরিচ্ছন্ন করতে ক্লিন অভিযান চালিয়েছেন। দিয়েছেন নতুন নেতৃত্ব। যদি দৃশ্যমান তেমন কিছু  থাকে ছাত্রলীগেও, তাহলে তা নিয়েও ভাববার দাবি রাখে। শিক্ষা শান্তি প্রগ্রতি এই শ্লোগানের বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিতর্ক দূর করে জাতীয় প্রত্যাশা পূরণে ছাত্রলীগের ত্যাগী নেতাদেরও এগিয়ে আসা দরকার। কারণ দেশের শীর্ষ পদে অনেক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আছেন, যারা দেশের উন্নয়নে অবদান রাখছেন।