ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:
ব্রেকিং নিউজ

২২ অক্টোবর ২০২১, ২০:১০

তিনি আল কোরআনের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি!

21485_al-quran-sdb.jpg
পুরো পৃথিবী যখন কালো অন্ধকারে নিমজ্জিত, চারদিকে জাহেলিয়াতের আর্তনাদ, বর্বরতার লু-হাওয়া যখন পৃথিবীকে ভারী করে তুলেছিল, এমন সময় অমানিশার অন্ধকার দূরে ঠেলে, বিশ্বভুবনে সত্যের আলো জ্বেলে, সর্বোৎকৃষ্ট চরিত্র ও মহৎ গুণাবলি নিয়ে, বিশ্ববাসীর জন্য আদর্শ হয়ে প্রেরিত হলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব, বিশ্ব মানবতার মুক্তির দিশারি। হযরত মুহাম্মাদ (সঃ)।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, নিশ্চয়ই আপনি সচ্চরিত্রের মহান আদর্শের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত। (সুরা কলম- ৪)

আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সঃ) বলেন, আমি মহৎ গুণাবলির পূর্ণতা দিতে প্রেরিত হয়েছি। (বুখারি-২৭৩)

লোভ লালসায় পরিপূর্ণ, মরীচিকাময় এই পৃথিবীর মায়াজালে আটকে থাকা মানব জাতির জন্য আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা দিলেনঃ
وَ مَاۤ اَرۡسَلۡنٰکَ اِلَّا رَحۡمَۃً لِّلۡعٰلَمِیۡنَ
আর আমরাতো আপনাকে সৃষ্টিকুলের জন্য রহমতরূপেই পাঠিয়েছি। (সুরা আম্বিয়াঃ ১০৭)
মহানবী (সঃ) এর পবিত্র জীবনে যাবতীয় মহৎ গুণাবলির সমাবেশ ঘটেছিল। তিনি ছিলেন ঐশী বাণী পবিত্র আল কোরআনেরই জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
বিশ্বের ঘোর দুর্দিনে তাঁর মতো নেতৃত্ব দীপ্তি ছড়িয়েছে যুগ যুগান্তর।

একটিই মানুষ, একটিই জীবন, একটিই কাহিনি। সেই মক্কার কুরাইশ পরিবারে জন্ম, আল আমিন উপাধি, হিলফুল ফুজুল গঠন, সিরিয়ায় বাণিজ্য, হেরা পর্বতের ধ্যানমগ্নতা, বক্ষ বিদীর্ণ, মক্কায় দাওয়াত, তায়েফের ক্ষত, বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে ঊর্ধ্বগমন, মদিনায় হিজরত, বদরের যুদ্ধ, বিদায় হজ। একই কথা বহুমুখে বহুজনে বহুশতাব্দী ধরে বাতাসে বাতাসে ফিরছে, তবু যেন অফুরান, যেন কিছু লেখা হলো আর অলিখিত রয়ে গেল, কিছু বলা হলো আর অনেক কিছুই হয়নি বলা।

রাসুল (সঃ) ছিলেন সততার মূর্তপ্রতীক। তিনি সবার সঙ্গে উত্তম আচরণ করতেন। জীবনে কোনো দিন কাউকে কটুকথা বলেননি। কোনোদিন মিথ্যার আশ্রয় নেননি। তিনি ছিলেন লোকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দানশীল। তিনি প্রতিটি মানুষের সঙ্গে গুরুত্বের সঙ্গে কথা বলতেন ও শুনতেন। তিনি ছিলেন ক্ষমাশীল, উদার মানসিকতার অধিকারী। তিনি কষ্টের প্রতিদান দিতেন ক্ষমা দিয়ে। মক্কা বিজয়ের ইতিহাস তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

যিনি পিতামাতার প্রতি সন্তান আর সন্তানের প্রতি পিতামাতার দ্বায়িত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উপহার দিয়েছেন পৃথিবীর ইতিহাসে শ্রেষ্টতম পরিবার কাঠামো। যিনি কণ্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়ার মতো বর্বরতা বন্ধ করে প্রতিষ্টা করেছিলেন সর্বোত্তম নারী অধিকার। যিনি অমানিশার অন্ধকার দূরে ঠেলে পৃথিবীতে সাম্যের ডাক দিয়ে প্রতিষ্টা করেছিলেন মানবাধিকার। যিনি ভালবাসা আর সৌহার্দ্যের মাধ্যমে প্রতিষ্টা করেছিলেন প্রতিবেশীর অধিকার। যিনি প্রতিষ্টা করেছিলেন মুসলিম অমুসলিম শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। যিনি মন্দ মানব চরিত্রকে রুপান্তরিত করেছিলেন উত্তম চরিত্রে। যিনি মানুষকে শিখিয়েছেন ভালবাসতে, সুস্থ আর অসুস্থের প্রতি মানবিক হতে। যিনি মানুষকে সৎ কাজের আদেশ দিয়ে সকল অসৎ আর মন্দকে বর্জনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। যিনি আহবান করেছিলেন গাইরুল্লাহর উপাসনা পরিত্যাগ করে এক আল্লাহর ইবাদাতের।

আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি রাসুল (সঃ) কে কখনো নিজের জন্য প্রতিশোধ নিতে দেখিনি, অবশ্য যখন কেউ আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করত, তখন তার মতো অধিক ক্রোধান্বিত আর কেউ হতো না।

উকবা ইবনে আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সঃ) বলেছেন, যে তোমার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে, তুমি তার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করো। তোমার প্রতি যে জুলুম করে, তুমি তাকে ক্ষমা করে দাও। তোমাকে যে বঞ্চিত করে, তুমি তাকে প্রদান করো। (মুসনাদ আহমদ- ১৭২১২)

রাসুল (সঃ) এর খাদেম আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) বলেন, আমি ১০ বছর রাসুল (সঃ) এর খেদমত করেছি, কিন্তু এ সময়ের মধ্যে তিনি কখনো আমার কোনো কাজে ‘উফ’ শব্দটি পর্যন্ত করেননি। আমি করেছি এমন কোনো কাজের ব্যাপারে তিনি কখনো জিজ্ঞেস করেননি যে, কেন করেছি? আর না করার ব্যাপারেও তিনি কখনো জিজ্ঞেস করেননি যে, কেন করোনি? চরিত্র-মাধুর্যে তিনি ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ। আমি এমন কোনো রেশমি কাপড় বা কোনো বিশুদ্ধ রেশম বা অন্য কোনো নরম জিনিস স্পর্শ করিনি, যা রাসুল (সঃ) এর হাতের তালুর চেয়ে নরম। আমি এমন কোনো মিশক বা আতরের সুবাস পাইনি, যা রাসুল (সঃ) এর ঘামের ঘ্রাণ থেকে অধিক সুগন্ধিময়। (মুসনাদ আহমাদ-১৩০৫৭)

রাসুল (সঃ) বিশ্বভুবনের তুলনাহীন আদর্শের অধিকারী। তার আদর্শ অনুসরনে উজ্জীবিত হওয়ার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
আল্লাহর রাসুলের মধ্যে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ রয়েছে। (সুরা আহজাব- ২১)

আজ আমরা যদি এই মহান নেতার জীবনাদর্শ অনুসরণ করে চলি তাহলে আমারা হতে পারে জান্নাতি, আর বিশ্বময় প্রবাহিত হবে শান্তির সুবাতাস।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে রাসুল (সঃ) এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে চলার তাওফিক দান করুন।

লেখক: মুহা. রুহুল আমিন।