ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:
ব্রেকিং নিউজ

২০ অক্টোবর ২০২১, ০৮:১০

করোনা সৃষ্ট দারিদ্রতা

21399_12010.jpg
করোনা মহামারীর নেতিবাচক প্রভাব বিশ^ অর্থনীতিকেই বিপর্যস্ত করে তুলেছে। ফলে বিশ্বের ১০ কোটির বেশি মানুষ নতুন করে হতদরিদ্রের কাতারে নেমে এসেছে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বার্ষিক সভায় উন্নয়ন কমিটির ঘোষণায় এই তথ্য জানানো হয়েছে। যা বিশ^ অর্থনীতিতে বেশ উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

ঘোষণায় বলা হয়েছে, নতুন হতদরিদ্র হওয়ার ক্ষেত্রে মধ্যম আয়ের দেশগুলো বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। করোনার কারণে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে এসে হতদরিদ্র হওয়া প্রায় ৮০ শতাংশই মধ্যম আয়ের দেশের নাগরিক। সেই হিসাবে বাংলাদেশসহ মধ্যম আয়ের দেশগুলোর আট কোটি লোক অতিদরিদ্র হয়ে পড়েছেন। আর হতদরিদ্র হওয়ার তালিকায় বাংলাদেশ অন্যতম দেশ।

সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের ছয় দিনব্যাপী যৌথ বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উন্নয়ন কমিটির ঘোষণাপত্রও প্রকাশ করা হয়। এতে বিশ্ব প্রেক্ষাপট বিবেচনায় উন্নয়ন কার্যক্রম বিশ্লেষণ করা হয়। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই বিশ্লেষণে বৈশি^ক দারিদ্রতার হতাশাব্যঞ্জক চিত্রই ফুটে উঠেছে।

আমাদের দেশও রয়েছে এ ক্ষেত্রে উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে। মূলত করোনার প্রভাবেই আমাদের দেশের কর্মসংস্থানের ওপর বেশ নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এমতাবস্থায় বিপুলসংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে এসেছে। করোনার কারণে অর্থনীতিতে শ্লথগতির কারণে খেটে খাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি ভুগেছেন। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের হিসাবে, দারিদ্র্যের হার ৩৫ থেকে ৪৩ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছে। সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক গবেষণা বলছে, করোনার কারণে দেড় কোটির বেশি মানুষ নতুন করে গরিব হয়েছেন। আর এ ধারা এখনও অব্যাহতই রয়েছে। কারণ, সংকট উত্তরণে সরকারের দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ফলে চলমান সমস্যা সমস্যায় থেকে যাচ্ছে।

সম্প্রতি করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সরকারি বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ায় আবার অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থান কিছুটা বেড়েছে। ফলে আবারও দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠতে শুরু করেছে মানুষ। তবে এখনো আগের অবস্থায় ফিরে যায়নি বা সহসায় যাওয়ার সম্ভবনাও নেই। কারণ, সার্বিক পরিস্থিতি মোটেই আশাব্যঞ্জক নয়।

করোনা সৃষ্ট পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সারা বিশ্বের সামনে দু’টি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক। আন্তর্জাতিক সংস্থা দু’টি বলছে, অতিমারির কারণে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের (এসডিজি) দু’টি লক্ষ্য অর্জনের গতি বিপরীতমুখী হচ্ছে। লক্ষ্য দু’টি হলো দারিদ্র্য বিমোচন ও সুষমভাবে সমৃদ্ধি। বাংলাদেশে একদিকে দারিদ্র্য বিমোচনের গতি কমেছে, অন্যদিকে কোটি টাকার ব্যাংক হিসাব বেড়েছে। এর অর্থ হচ্ছে, বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে, সুষম সমৃদ্ধি হচ্ছে না। ফলে জাতীয় উন্নয়নের সূচকও নি¤œমুখী।

বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া চলছে, সেটাকে ‘অসম’ বলে উল্লেখ করেছে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক। কারণ, করোনা অতিমারির ফলে এই পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় অনিশ্চয়তা রয়েছে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এখনো করোনার প্রাদুর্ভাব বেশি। এমনকি এসব দেশে নতুন নতুন করোনার ধরনও সনাক্ত হচ্ছে। টিকা দেওয়ার গতিও বেশ কম। সার্বিকভাবে এসব দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার করোনার আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারেনি বরং ক্রমশ আরও পিছিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি এখন বেশ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। আর সহসায় এই পরিস্থিতি কাটিয়ে সম্ভব হবে বলে মনে হচ্ছে না। গত ১২ অক্টোবর প্রকাশিত আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় অর্থনীতির দেশগুলো আগামী বছর নাগাদ প্রাক মহামারি পর্যায়ে ফিরে যাবে। আর উন্নয়নশীল দেশগুলো ২০২৪ সালের আগে করোনার আগের অবস্থায় যেতে পারবে না। আর  আমাদের দেশও রয়েছে সেই পশ্চাদপদ তালিকায়।

এমতাবস্থায় জাতীয় অর্থনীতিতে করোনার নেতিবাচক প্রভাব দ্রæত কাটিয়ে ওঠার জন্য যুৎসই ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের আবশ্যকতা দেখা দিয়েছে। এজন্য সবার আগে দেশের সকল নাগরিকের জন্য টিকা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। কারণ, টিকাই হচ্ছে এখন প্রাক মহামারী পর্যায়ে ফিরে যাওয়ার পূর্ব শর্ত।