ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

জায়েদ আনসারী

১৩ অক্টোবর ২০২১, ১৬:১০

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে মানুষের নাভিশ্বাস, পণ্য কিনতে নারীদের ভোগান্তি!

21194_55.jpg
একে তো করোনাভাইরাস। কল-কারখানা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ধরণের শিল্প বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা কর্মী ছাটাইয়ে কর্মহীন ও আয় সংকোচনে পিষ্ট দেশের মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ। এর মধ্যে নিত্যপণের চড়া দাম! যা মরার ওপর খাড়ার ঘা! দিশেহারা মানুষ। তাই একটু সাশ্রয়ে পণ্য  কেনার জন্য রাস্তায় লাইনে দাঁড়িয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা প্রখর রোদে অপেক্ষা করছে হাজার হাজার নারী পুরুষ। লাজ লজ্জাকে দূরে ঠেলে এমনসব লোকও এসেছে যারা কখনো এভাবে পন্য কিনতে অভ্যস্থ নন।

দেশে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির মধ্যে রয়েছে , সয়াবিন, পেয়াজ, চিনি, সহ এমনকি টয়লেট টিস্যুর দামও অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে গেছে।

রাজধানীর ফার্মগেট, খামারবাড়ি মোড়, বিজয়স্বরণী ওভারব্রিজ মিরপুর-১ সহ নানা জায়গায় নারী-পুরুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল, চিনি ও পেঁয়াজ কিনছেন। অন্য সময় বাজারে মানুষ চিনি প্রতি কেজি ৬০-৬৫ টাকা, বর্তমান মূল্য ৮০-৯০ টাকা। সয়াবিন তেল প্রতি লিটার (খোলাটা) ৭০-৮০ টাকা বোতলজাতটি ১১০-১১৫ টাকা, বর্তমান মূল্য ১৫০-১৫৫ টাকা। পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৩৫-৪০ টাকায় কিনতে পারতো তা এখন বাজারে কিনতে গেলে গুনতে হচ্ছে ৮০ টাকা। মসুর ডাল পূর্বের মূল্য ৭০ টাকা হলেও বর্তমান তা ৯০ টাকা (মোটা) আর চিকনটা পূর্বের মূল্য ১১০ টাকা আর বর্তমান মূল্য তা ১৬০ টাকায় কিনতে হচ্ছে গ্রাহকদের। 

ক্রেতারা একই পণ্য টিসিবি’র ট্রাকের ভ্রাম্যমান বিক্রয় কেন্দ্র থেকে পেঁয়াজ ৩০ টাকা (বড় সাদা পেঁয়াজ) চিনি প্রতিকেজি ৫৫ টাকা, বোতলজাত তেল প্রতি লিটার ১০০ টাকায় বিক্রি করছে। মানুষের চাহিদার পুরোটা পূরণ করতে পারছে না টিসিবি’র বিক্রয়কর্মীরা । ফলে দেখা যাচ্ছে অনেক ক্ষেত্রে পণ্য সংগ্রহ করতে অনেক আগে থেকে বিক্রয়স্থানে এসে মানুষ ভিড় করছেন।

জানতে চাইলে বিজয় স্মরীতে লাইনে দাঁড়ানো কমল নামের একজন ক্রেতা বলেন, সরকার নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে আমরা বাধ্য হয়ে আজ লাজ লজ্জা ভুলে রাস্তায় লাইনে দাঁড়িয়েছি। যেভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষ পণ্য সংগ্রহ করছে, তাতে করোনার সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবুও বাধ্য হয়ে এখানে আসতে হয়েছে।

একজন নারী ক্রেতা এনএনবিডিকে বলেন, আমরা লাইনে দাঁড়িয়ে আজ পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছি। এখানে চরম ভোগান্তিতে আছি। রোদের মধ্যে ছোট বাচ্চাকে নিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে। উপচে পড়া ভিড়ে চরম গরমে বাচ্চা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। 

এর আগে মঙ্গলবার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকায় সেন্টার ফর এক্সিলেন্স ফর ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকের পর দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। মসলাজাতীয় পণ্যের দাম শিগগিরই জনসাধারণের হাতের নাগালে নেমে আসবে। দেশের বাজারের চাহিদা মেটাতে অন্য উৎস থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হবে।’

মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জামাল নামের আরেকজন ক্রেতা বলেন, ‘সরকার আগে থেকে বাজার নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেয় না। বরং মানুষের চরম ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির পর এসব কথা বলে।’

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ফলে দেশের সচেতন নানা মহল প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও বিক্ষোভ মিছিল করছে ও সরকারের সমালোচনা করে বিবৃতি দিচ্ছে।

এখন দেখার বিষয় সরকার এ অবস্থা থেকে কত দ্রুত উত্তরণ করতে পারে। দ্রুতই এর পরিবর্তন হোক প্রত্যাশা জনসাধারণের।