ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

৮ অক্টোবর ২০২১, ১৫:১০

ফরাসী-মার্কিন টানাপড়েন

21070_U.jpg
খুব একটা স্বস্তিতে নেই ফরাসী প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)কে নিয়ে ফরাসী পত্রিকা শার্লি এবোদায় কার্টুন প্রকাশের পর পুরো বিশে^ই প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। কথিত মত প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলে সেই কার্টুনিস্টের পক্ষ নিয়ে জ¦ালানো আগুনে ঘি ঢেলে দেন খোদ প্রেসিডেন্ট মাখোঁ। যা শুধু আন্তর্জাতিক মহলেই নয় বরং নিজ দেশেও ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়। এমনকি মুসলিম বিশ^ এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদী ওঠে এবং ফরাসী পণ্য বর্জনের ডাক দেয়। ফলে বৈশি^ক বাণিজ্যে ফ্রান্স বড় ধরনের বিপত্তিতে পড়ে। যা এখনো স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনার পর থেকেই দুর্ভাগ্য ফরাসী প্রেসিডেন্টের পিছু ছাড়েনি। তিনি প্রকাশ্য দিবালোকে চপেটাঘাতের শিকার হয়েছেন। সম্প্রতি তাকে লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়ার ঘটনাও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবরের শিরোনাম হয়েছে। যা একজন প্রেসিডেন্টের জন্য রীতিমত বিব্রতকর। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে ‘অকাস’ নিরাপত্তা চুক্তি ফরাসী প্রেসিডেন্টের জন্য মোটেই স্বস্তিদায়ক হয়নি বরং বিষয়টি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের বড় ধরনের অবনতি ঘটেছে। যা ফ্রান্সের জন্য খুবই বিব্রতকর। আর বাস্তবতা উপলব্ধি করেই ফরাসী প্রেসিডেন্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক মেরামতে প্রয়াসী হয়েছে।
আর সে প্রয়াসের অংশ হিসাবেই সম্প্রতি ফরাসি প্রেসেডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে অক্টোবরের শেষের দিকে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে রোমে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে বসবেন। এ বৈঠকেই বাইডেনের সঙ্গে দূরত্ব ঘোচাতে চান ফরাসী প্রেসিডেন্ট। মাখোঁর আশা, দীর্ঘদিনের এ দুই মিত্রদেশ আবার পরস্পরের প্রতি আস্থা বজায় রেখে একসঙ্গে কাজ করতে পারবে। কিন্তু সম্ভাব্য এই বৈঠকের ফলাফল নিয়ে খুব একটা আশাবাদী হতে পারছেন না কুটনৈতিক মহল।
জানা গেছে, সম্প্রতি চীনকে মোকাবিলা করতে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে ‘অকাস’ নিরাপত্তা চুক্তির কথা প্রকাশ করা হয়। এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন পারমাণবিক শক্তিসমৃদ্ধ সাবমেরিন তৈরিতে প্রযুক্তি সহায়তা দেওয়ার কথা অস্ট্রেলিয়াকে। এ চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুরু হয় ফ্রান্সের টানাপোড়েন। কারণ, অস্ট্রেলিয়া ১২টি সাবমেরিন পেতে ফ্রান্সের সঙ্গে চুক্তি করেছিল ২০১৬ সালে। সেই চুক্তি বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া। এতে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফ্রান্স। এই পরিস্থিতিতে ৩০-৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জি-২০ সম্মেলন। গত মাসে ফোনালাপের পর এবার এ সম্মেলনে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন বাইডেন ও মাখোঁ। জি-২০ সম্মেলনের ফাঁকে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁদের।
গত ৫ অক্টোবর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের এক সম্মেলনে যোগ দিতে ¯েøাভেনিয়ায় যান মাখোঁ। এদিন ¯েøাভেনিয়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। বাইডেনের সঙ্গে আসন্ন বৈঠকের ব্যাপারে মাখোঁ বলেন, ‘জি-২০ সম্মেলনের সময় আমরা বৈঠক করব। আমি মনে করি, কীভাবে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে পারি, সেটি বোঝার সঠিক সময় এটি।’ মাখোঁ আরও বলেন, ‘মিত্রদের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো আমাদের মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা মূল্যায়নের সুযোগ রয়েছে।’
জানা গেছে, গত ৫ অক্টোবর প্যারিসে মাখোঁ এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি বিøঙ্কেনের মধ্যে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে বৈঠক হয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার নিয়ে ফ্রান্সের উদ্যোগের বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফরাসি প্রেসিডেন্টকে বলেছেন, ওয়াশিংটন ইউরোপের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার উদ্যোগগুলোকে সমর্থন দেয়। তবে সেটা যেন ন্যাটো জোটের ক্ষতিসাধন না করে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, ফরাসী-সম্পর্ক এখন প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর কোন ভাবেই ফ্রান্সকে পাত্তাই দিতে চাইছে না। এমতাবস্থায় প্রেসিডেন্ট মাখোঁ নিজে উদ্যোগের বিশে^র শক্তিধর এই দেশটির সাথে সম্পর্ক পূনঃস্থাপনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তার এই উদ্যোগ সাফল্য নিয়ে এখনই মন্তব্য করার সুযোগ নেই। তবে ফরাসী-মার্কিন টানাপড়েন যে সহসায় কেটে যাচ্ছে না তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।