ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

৬ অক্টোবর ২০২১, ০৬:১০

যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম বিদ্বেষ

21016_U.jpg
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম বিদ্বেষ নতুন কিছু নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক জরিপের ফলাফলে বলা হয়েছে, দেশটিতে ৬৮ শতাংশ মুসলিম ধর্মীয় বিদ্বেষের শিকার হচ্ছেন। আবার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিদ্বেষমূলক আচরণের শিকার হচ্ছেন মুসলিম নারীরা। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকের গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে দুই-তৃতীয়াংশ মুসলিম এসব ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক হামলার শিকার হচ্ছেন। এক হাজার ১শ ২৩ জনের ওপর এ জরিপ চালিয়ে ফলাফলে দেখা গেছে, ৭৬.৭ শতাংশ মুসলিম নারী এবং ৫৮.৬ শতাংশ মুসলিম পুরুষ কথিত ইসলামভীতির কারণে দেশটিতে ধর্মীয় বৈষম্য ও ক্ষেত্র বিশেষে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। জরিপে ৯৩.৭ শতাংশ মুসলিম জানিয়েছেন, ঘৃণা ও ধর্মীয় বিদ্বেষের শিকার হয়ে তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন।
দুই দশক আগের ৯/১১ হামলার পর থেকে একটি গোষ্ঠী ইসলামভীতি ছড়িয়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ক্ষেপিয়ে তুলছে। সে ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরে মুসলিমদের ওপর ৫ শতাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিপুলসংখ্যক রিপাবলিকানসহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেক আমেরিকান অভিযোগ  করেন যে, ইসলাম সহিংসতাকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়। এদের সংখ্যা ২০০২ সাল থেকে বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। তবে টুইন টাওয়ার পতনের পর যুক্তরাষ্ট্রে ইসলাম বিদ্বেষ বাড়লেও এ পর্যন্ত মার্কিন মুসলিম সম্প্রদায়ের আকার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। ফলে দেশটিতে মুসলিম জনসংখ্যা এখন প্রায় সাড়ে ৩ মিলিয়নে এসে দাঁড়িয়েছে।
নানা ধরনের অপপ্রচার স্বত্তে¡ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইসলাম একটি দ্রæত বর্ধনশীল ধর্ম হিসাবে আত্মপ্রকাশ করছে। মুসলমানরা এখন দেশটির অন্যতম শিক্ষিত ধর্মীয় গোষ্ঠী। মিশিগানে ১৫ শতাংশেরও বেশি ডাক্তার মুসলমান। যদিও রাজ্যটির মুসলমান জনসংখ্যা ৩ শতাংশেরও কম। মার্কিন মুসলমানদের মধ্যে শুধু উৎকর্ষই ঘটছে না, বিস্ময়করভাবে উগ্রবাদী তকমা আগের মত হালে পানি পাচ্ছে না। ২০০১ সাল থেকে  কথিত মুসলিম উগ্রবাদীদের হামলায় ১০৭ জন নিহত হয়েছে বলে অপপ্রচার চালানো হলেও তাও শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদীদের হামলার তুলনায় খুবই কম।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র থেকে মুসলমানদের বিতাড়িত করার প্রতিশ্রæতি দিয়ে রিপাবলিকানদের ৬০ শতাংশ সমর্থন অর্জন করেছিলেন। তার উদ্ধৃতি দিয়ে মিশিগানের জরুরি পরিচর্যা চিকিৎসক আলী দাবাজা বলেন, ‘ আমরা মার্কিন সমাজের সাথে একীভূত হওয়ার চেষ্টা  করলেও একটি বৈরি পরিস্থিতির মধ্যেই আমাদেরকে চলতে হচ্ছে।’ যুক্তরাষ্ট্রে শ্বেতাঙ্গবাদ এবং এই মানসিক বিকৃতির বিরুদ্ধে উদারতা এবং গতিশীলতার ক্ষেত্রে মুসলমানরা এখন সফল সংখ্যালঘু। দেশটিতে সংবিধানগত সুযোগ-সুবিধা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, নাগরিক সংস্কৃতি মুসলমান অভিবাসী এবং তাদের বংশধরদের শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় বেশি দেশপ্রেমিক হিসাবে পরিচিতি দিয়েছে। যা মার্কিন মুসলিমদেরকে সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
তারপরও ইসলামের প্রতি বিষোদগার ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে মূলত এই কারণে যে, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর শেতাঙ্গ অধ্যুষিত সংস্কৃতিতে অপ্রত্যাশিতভাবে একজন কথিত মুসলিম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট (বারাক ওবামা) নির্বাচিত হয়েছিলেন। মুসলমানদের ক্রমবর্ধমান উৎকর্ষ এবং বিস্তৃতির কারণে মার্কিন শেতাঙ্গবাদীরা তাদের ইউরোপীয় মিত্রদের তুলনায় কট্টর ইসলামী চর্চার থেকে বরং মুসলমান অভিবাসন সম্পর্কে বেশি উদ্বিগ্ন। ট্রাম্প যখন বারাক ওবামাকে ‘মুসলমান’ এবং ‘বিদেশি’ তকমা দিয়ে রাজনীতিতে আসেন, তখন তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, শব্দ দু’টি সমার্থক। এরপর তিনি মুসলিম-বিষোদগারকে তার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার মূল বিষয় করে তোলেন। পরবর্তীতে দেখা যায়, ইসলাম বিদ্বেষ তার ভোটারদের সবচেয়ে লক্ষ্যনীয় বৈশিষ্ট্য এবং এটি শ্বেতাঙ্গবাদীদের অশে^তাঙ্গ বিরোধী ঘৃণাত্বত্তে¡র প্রধান উপজীব্য।
নানা বাধা-প্রতিবন্ধকতা, বিদ্বেষ-অপপ্রচারের মধ্যেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইসলাম ক্রমেই অধিকতর গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে। কারণ, ইসলাম একটি শ^াস্বত ও সর্বাঙ্গীন জীবন ব্যবস্থা। যুগে যুগে যেখানেই বাধা-প্রতিবন্ধকতা এসেছে সেখানেই ইসলাম দ্রæত সম্প্রসারণ লাভ করেছে। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও তা থেকে আলাদা নয়। ফলে আগামী দিনগুলোতে দেশটিতে ইসলাম যে একটি সম্ভবনাময় জীবন দর্শন তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।