ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:০৯

ইভ্যালির চেয়ারম্যান-এমডির বিরুদ্ধে গুলশান থানায় অভিযোগ

20586_image1625837854.jpg
ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনের (প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান) বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করতে রাজধানীর গুলশান থানায় যান বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী।

বুধবার রাত সাড়ে ১০টার পর তারা থানায় হাজির হয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। তবে, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ না করে তাদের ধানমন্ডি থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেয় গুলশান থানা পুলিশ।

ভুক্তভোগীরা বলেন, থানায় একটি অভিযোগ জমা দিয়েছি। তবে থানা এখনও তা অফিসিয়ালি নেয়নি। থানা থেকে বলা হয়েছে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের বিষয়ে জানানো হবে।

জানতে চাইলে গুলশান থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান বলেন, ইভ্যালির চেয়ারম্যান ও এমডির বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে ভুক্তভোগী কয়েকজন রাতে আমাদের থানায় আসেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির অফিস ধানমন্ডি থানা এলাকায় হওয়ায় ভুক্তভোগী নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি মামলাটি কোথায় করবেন। যেহেতু অফিসটি ধানমন্ডিতে নিয়ম অনুযায়ী সেখানেই মামলাটি হওয়ার কথা। তবে ভুক্তভোগীদের বাসা গুলশান এলাকায় হওয়ায় তারা আমাদের কাছে এ বিষয়ে পরামর্শ করতে এসেছিলেন। তাদের কাছ থেকে অভিযোগের একটি কপি আমরা রেখে দিয়েছি এবং আমরা বলেছি, আগামীকাল সকালে থানায় আসতে; তখন সিনিয়র অফিসাররা থাকবেন, এ বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে একজন তিন লাখ ১০ হাজার টাকা, একজন নয় লাখ টাকা ও আরেকজন সাত লাখ ৯৮ হাজার টাকার পণ্য অর্ডার করেও নির্ধারিত সময়ে পণ্য পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগী আরিফ বাকের বলেন, ‘আমি গত ২৯ মে থেকে জুন মাস পর্যন্ত মোটরসাইকেলসহ বেশ কয়েকটি পণ্য অর্ডার করেছিলাম। এগুলো ৭ থেকে ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে দেওয়ার কথা থাকলেও তারা দেয়নি। কাস্টমার কেয়ারে ফোন দিয়ে সমাধান পাইনি। অফিসে গিয়ে তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বললে খারাপ ব্যবহার করেছে। সিইও রাসেলের সঙ্গেও দেখা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের সঙ্গে ইভ্যালি চরম দুর্ব্যবহার করেছে। আমার মতো অনেকের একই অবস্থা। তাই আমি থানায় ৮০০ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলা করতে এসেছি।’

অভিযোগপত্রে আরিফ বাকের উল্লেখ করেন, ‘ইভ্যালিকে প্রতিটি পণ্যের মূল্য বিকাশ, নগদ ও সিটি ব্যাংকের কার্ডের মাধ্যমে পরিশোধ করি। আমার মতো আবুল কাশেম ও আবদুল্লাহ ওমর হক নামের ভুক্তভোগীও অনেক টাকার পণ্য কেনেন। নির্ধারিত সময়ে পণ্য না পেয়ে আমরা ধানমন্ডি ১৪ নম্বর রোডে অবস্থিত ইভ্যালির অফিসে যাই। ইভ্যালির সিইও মো. রাসেলের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে আমাদের বাধা দেওয়া হয়।’

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জসহ ১০ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত কমিটি।

এর আগে, গত ২৫ আগস্ট ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও চেয়ারম্যানের সব ব্যাংক অ্যাকাউন্টের হিসাব চেয়েছিল বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। চিঠিতে ইভ্যালি প্রতিষ্ঠান, চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও এমডি মোহাম্মদ রাসেলের ব্যাংক হিসাবের তথ্য পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছিল।

গত বছরের আগস্টে বিএফআইইউ নাসরিন ও রাসেলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেয়।