ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

এনএনবিডি ডেস্ক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭:০৯

আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতার জন্য জাতীয় সমন্বয় প্রয়োজন: কাতার

20550_608582_112.jpg
সংগৃহীত
কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-সানি আফগানিস্তানে 'জাতীয় সমন্বয়ের' আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ ইভ লা দ্রিয়ার সাথে কাতারের রাজধানী দোহায় এক বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানান তিনি।

কাতারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা আফগানিস্তানের জাতীয় সমন্বয় অর্জনের সব প্রচেষ্টায় সমর্থন দিয়ে যাবেন।

তিনি বলেন, 'আমরা বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতার একমাত্র সুরক্ষা কবজ জাতীয় সমন্বয়।'

একই সাথে আল-সানি বলেন, তালেবানকে স্বীকৃতির প্রশ্ন এখন অনাবশ্যক বিষয়। এখন বরং তাদের সাথে সংযোগের বিষয়ে জোর দেয়া উচিত।

আফগানিস্তানে তালেবান নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণা দিলেও এখনো কাতারসহ জাতিসঙ্ঘের কোনো দেশ এখনো তাদের স্বীকৃতি দেয়নি।

অপরদিকে সংবাদ সম্মেলনে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নারী শিক্ষা ও অধিকারের ওপর নির্ভর করছে তালেবানকে স্বীকৃতির প্রশ্ন।

তিনি বলেন, তালেবান শুধু ঘোষণাই দিয়েছে কিন্তু এখনো তার বাস্তবায়ন করা হয়নি।

লা দ্রিয়ার বলেন, 'আমরা তাদের ওপর সব ধরনের চাপ দিয়ে যাবো তাতে তারা তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করে।'

এর আগে আফগানিস্তানে তালেবানের সরকার গঠনের পর রোববার বিদেশীর সরকারের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রথম কোনো প্রতিনিধি হিসেবে কাবুলে যান কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-সানি।

সফরে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও তালেবান নেতা মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দসহ মন্ত্রী পর্যায়ের এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন। পরে তিনি সাবেক আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই ও আফগান হাই কাউন্সিল ফর ন্যাশনাল রিকন্সাইলেশনের প্রধান আবদুল্লাহ আবদুল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করেন।

২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নাইন-ইলেভেনের সন্ত্রাসী হামলার জেরে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ হামলার জন্য আফগানিস্তানে আশ্রয়ে থাকা আলকায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে দায়ী করেন। ওই সময় আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের কাছে ওসামা বিন লাদেনকে মার্কিন প্রশাসনের হাতে তুলে দেয়ার দাবি জানান বুশ।

তালেবান সরকার ওসামা বিন লাদেনকে তুলে দেয়ার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার সাথে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে মার্কিনিদের কাছে প্রমাণ চায়। প্রমাণ ছাড়া তারা ওসামা বিন লাদেনকে মার্কিন প্রশাসনের কাছে তুলে দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

বুশ প্রশাসন ও তালেবানের মধ্যে বিরোধের জেরে ২০০১ সালের অক্টোবরে আফগানিস্তানে আগ্রাসন শুরু করে মার্কিন বাহিনী। অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রসজ্জ্বিত মার্কিন সৈন্যদের হামলায় তালেবান সরকার পিছু হটতে বাধ্য হয়।

তবে একটানা দুই দশক যুদ্ধ চলতে থাকে দেশটিতে।

এরইমধ্যে আফগান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ন্যাটো জোটের সদস্য দেশগুলোও যুক্ত হয়। মার্কিনিদের সমর্থনে নতুন প্রশাসন ও সরকার ব্যবস্থা গড়ে উঠে দেশটিতে।

২০১১ সালের ২ মে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে মার্কিন সৈন্যদের এক ঝটিকা অভিযানে নিহত হন ওসামা বিন লাদেন। ২০১৩ সালে অজ্ঞাতবাসে তালেবানের প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা মোহাম্মদ ওমরের মৃত্যু হয়।

তা স্বত্ত্বেও তালেবান যোদ্ধারা আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক বাহিনীর দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখে।

দীর্ঘ দুই দশক আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বের বহুজাতিক বাহিনীর দখলের পর ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাতারের দোহায় এক দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র। এর বিপরীতে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অংশ নিতে তালেবান সম্মত হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ঘোষণা অনুসারে ৩১ আগস্ট আফগানিস্তান থেকে বহুজাতিক বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের ডেডলাইন থাকলেও ৩০ আগস্ট সম্পূর্ণ সৈন্য প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়।

মার্কিনিদের সাথে চুক্তি অনুসারে ক্ষমতাসীন থাকা মার্কিন সমর্থনপুষ্ট আফগান সরকারের সমঝোতার জন্য তালেবান চেষ্টা করলেও দুই পক্ষের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়নি। তালেবানের অভিযোগ, আশরাফ গনির নেতৃত্বাধীন আফগান সরকার দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাদের আহ্বানে সাড়া দেয়নি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে মে মাসে বহুজাতিক বাহিনীর প্রত্যাহারের মধ্যেই পুরো দেশের নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালানো শুরু করে তালেবান।

৬ আগস্ট প্রথম প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে দক্ষিণাঞ্চলীয় নিমরোজ প্রদেশের রাজধানী যারানজ দখল করে তারা। যারানজ নিয়ন্ত্রণে নেয়ার ১০ দিনের মাথায় কেন্দ্রীয় রাজধানী কাবুলে পৌঁছে যায় তালেবান যোদ্ধারা। তালেবানের অগ্রসরে আশরাফ গনির কাবুল ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার জেরে আফগান প্রশাসন ভেঙে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ আগস্ট কাবুলে প্রবেশ করে তালেবান যোদ্ধারা।

তবে কাবুলের উত্তরের দুর্গম পাঞ্জশির প্রদেশ শুধু তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়ে গিয়েছিলো। আফগানিস্তানে রুশ আগ্রাসন প্রতিরোধ যুদ্ধের কিংবদন্তি যোদ্ধা আহমদ শাহ মাসুদের ছেলে আহমদ মাসুদের নেতৃত্বে তালেবানবিরোধী বিদ্রোহী যোদ্ধারা এই উপত্যকায় অবস্থান নিয়েছিলো।

৬ সেপ্টেম্বর পাঞ্জশির নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পুরো আফগানিস্তানের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে তালেবান। এর পর ৭ সেপ্টেম্বর নতুন আফগান সরকার প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয় দলটি।

সূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড