ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা

১২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:০৯

মার্কিন  আধিপত্যে ভাটির টান

20475_412921.jpg
দুই দশকের  রক্তাক্ত যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত ৩১ অগাস্ট আফগানিস্তান থেকে নিজেদের সকল সৈন্য ও কূটনীতিকদের কাবুল থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এর একদিন পর জাতির উদ্দেশ্যে এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, ‘যুদ্ধ শেষ করার এই সিদ্ধান্তের জন্য আমেরিকার জনগণ তাকে মনে রাখবে এবং যেভাবে এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটেছে সেটা আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরবে’। যা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে হচ্ছে।
সৈন্য প্রত্যাহারের বিষয়টি বিশ^ পরাশক্তির জন্য মোটেই স্বস্তিদায়ক ছিল না। যদিও আত্মপক্ষ সমর্থন করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘অন্য আরেকটি দেশ পুনর্র্নিমাণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি প্রয়োগের যুগের অবসান ঘটানো হয়েছে’। ১১ সেপ্টেম্বর-পরবর্তী বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে অতীত ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং কোনো যুদ্ধে যাওয়ার আগে পরিষ্কার লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে’। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন উপলব্ধি থেকে প্রমাণ হয় আফগানিস্তান সহ বিভিন্ন দেশে মার্কিনীদের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের সুনির্দিষ্ট কোন লক্ষ্য ছিল না বরং শুধুই নিজেদের শক্তিমত্তার পরিচয় দেয়ার জন্যই তারা বিশে^র দেশে দেশে বাধিয়েছিল যুদ্ধের দামামা।
তিনি প্রতিশ্রæতি দিয়ে বলেছেন, ভবিষ্যতে স্থলযুদ্ধ পরিহার করা হবে। কোনো দেশে বিশাল সৈন্য বাহিনী মোতায়েনের পরিবর্তে জোর দেয়া হবে কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর। বিশেষ করে চীন ও রাশিয়ার কথা উল্লেখ করে জো বাইডেন বলেন, হুমকি মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রকে এখন অর্থনৈতিক ও সাইবার নিরাপত্তার প্রতিযোগিতা গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি মনে করেন, বিশাল সৈন্য বাহিনী পাঠিয়ে; যেমনটা আফগানিস্তানে করা হয়েছে, সে রকম না করে বরং সামরিক প্রযুক্তির সাহায্যে সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করতে হবে। একই সাথে, অন্য কোনো দেশের মাটিতে এখন আর সৈন্যদের পা ফেলার প্রয়োজন নেই। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার ২০তম বার্ষিকীর মাত্র ১১ দিন আগে প্রেসিডেন্ট বাইডেন তার ভাষণে এসব কথা ঘোষণা করেন। ওই হামলার জের ধরেই আমেরিকা আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল। কিন্তু পরিসমাপ্তিটা ছিল খুবই অনাকাক্সিক্ষত।
যুক্তরাষ্ট্রের কথায় কথায় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে দেশটির ভেতরেও আলোচনা-সমালোচনার অন্ত ছিল না। বিষয় নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে নীতি নির্ধারণী পর্যায়েও। বিশেষ করে সুনির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য ছাড়া রাষ্ট্র বা জাতি গঠনের ব্যাপারে দেশটির যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার কথা বলা হচ্ছিল বেশ জোরে-সোরেই। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার শাসনামলে যুদ্ধ-কবলিত বিভিন্ন দেশ থেকে সৈন্যদের ফিরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং এ বিষয়ে আফগানিস্তানের তালেবানের সাথে একটি সমঝোতায় পৌঁছান। সাম্প্রতিক সৈন্য প্রত্যাহারের ঘটনা তারই ধারাবাহিকতা মাত্র।
প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সরল অভিব্যক্তি হলো, ‘এই সিদ্ধান্ত শুধু আফগানিস্তানের বিষয়ে নয়, বরং অন্য কোনো দেশ পুনর্গঠনে সামরিক অভিযান অবসানের ব্যাপারেও।’ এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এই প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্ট ভবিষ্যতে জাতীয় স্বার্থ ছাড়া যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিলেন। তবে বাইডেনের এই ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্র আর কোনো যুদ্ধে জড়িত হবে না-এমনটা ভাবার সুযোগ আছে বলে মনে করছেন না অনেকেই। কারণ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট একই সাথে বলেছেন, মানবাধিকার রক্ষার জন্য তার দেশ অন্তহীন কোনো যুদ্ধে জড়াবে না। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তার জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য সবসময় সচেষ্ট থাকবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’ এতে প্রমাণ হয় দেশটি যুদ্ধনীতি থেকে এখনো পুরোপুরি বেড়িয়ে আসেনি বরং তাদের অবস্থানটা এখনো পুরনো বৃত্তেই রয়ে গেছে।
জো বাইডেনের বক্তব্যের নির্যাসটা হলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ভূমিকা রাখবে না এমন নয়। তবে এটি আর মূখ্য হয়ে উঠবে না। মানবাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার কথাও তিনি বলেছেন। তবে সেটা সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, বরং অন্যদের সাথে নিয়ে এ বিষয়ে কাজ করার কথা বলেছেন।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাইডেনের এই ঘোষণা রাজনৈতিক ও কৌশলগত বক্তব্য ছাড়া কিছু নয়। তারা বলছেন, ‘মনে রাখতে হবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেন আফগানিস্তানের যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রæতি দিয়েছিলেন। তিনি সেটাই পূরণ করেছেন। তবে প্রেসিডেন্ট বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি প্রয়োগ কতোটা বন্ধ করতে পারবেন এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে বলার সুযোগ সৃষ্টি হয়নি।’
মার্কিন নীতিতে সাম্প্রতিক পরিবর্তনে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক কিছু কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশটির সামরিক শিল্প বিরাট ভূমিকা পালন করে জাতীয় অর্থনীতিতে। ৫০ লাখেরও বেশি লোক এই শিল্পের সাথে জড়িত। যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক ভূমিকা না রাখে তাহলে দেশটির অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। যা মার্কিন নীতিনির্ধারকরা কোন ভাবেই চাইবেন না।
আফগানিস্তান ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েক বছরে, বিশেষ করে ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর, আরো কয়েককটি দেশে যুদ্ধ করতে গেছে। আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইরাক, লিবিয়ায় চালানো সামরিক অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একদিকে ছিল ব্যয়বহুল, অন্যদিকে বহু আমেরিকান সৈন্যকেও এসব যুদ্ধে প্রাণ দিতে হয়েছে। যা মার্কিনীদের জন্য মোটেই সুখকর ছিল না।
প্রেসিডেন্ট বাইডেন নিজেও আবেগপূর্ণ ভাষায় বলেছেন, অনেকেই অঙ্গ প্রত্যঙ্গ হারিয়েছেন, কারো মস্তিষ্কে আঘাত লেগেছে, মানসিক প্রভাবও পড়েছে, বিবাহবিচ্ছেদ ঘটেছে, প্রতিদিন গড়ে ১৮ জন সৈন্য আত্মহত্যা করেছেন। শুধুমাত্র আফগান যুদ্ধেই দেশটির খরচ হয়েছে কয়েক হাজার কোটি ডলার। নিহত হয়েছে প্রায় দুই হাজার ৫০০ মার্কিন সৈন্য। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির এক হিসেবে বলা হয়েছে, ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর আফগানিস্তান, ইরাক, পাকিস্তান ও সিরিয়াতে যুদ্ধ-বাবদ যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হয়েছে প্রায় ছয় ট্রিলিয়ান ডলার। যা দেশটির জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
সঙ্গত কারণেই সাধারণ মার্কিনীরা আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহারকে স্বাগত জানিয়েছেন। বিবিসির সংবাদদাতা অ্যান্থনি জুরকার বলছেন, জনমত সমীক্ষায় দেখা গেছে আমেরিকানরা আফগানিস্তান থেকে তাদের সৈন্য প্রত্যাহার সমর্থন করছেন। তবে প্রেসিডেন্ট বাইডেন যেভাবে সেটি সম্পন্ন করেছেন তাতে তারা মোটেই খুশি নন। যদিও আফগানিস্তান থেকে সৈন্যদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে সেটা আড়াল করার জন্য প্রেসিডেন্ট বাইডেন সামরিক শক্তি প্রয়োগের অবসানের ঘোষণা দিয়ে থাকতে পারেন বলে মনে করছেন কুটনৈতিক মহল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতি ছিল অন্য দেশ থেকে সৈন্যদের ফিরিয়ে আনা, অন্য কোনো দেশে সামরিক অবকাঠামো গড়ে না তোলা। এর ফলে যে অর্থের সাশ্রয় ঘটবে সেটা তিনি আমেরিকার ভেতরে খরচ করার প্রতিশ্রæতি দিয়েছিলেন যা রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় শিবিরের সমর্থকদের কাছেই গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল। আগামী বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটারদের কথা বিবেচনা করে প্রেসিডেন্ট বাইডেনকেও এখন একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তিনি তার প্রতিশ্রæতিতে কতখানী অটল থাকেন সেটিই এখন দেখার বিষয়।
অবশ্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতিতে ইতোমধ্যেই পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এককভাবে কাজ করতেন যা এখন আর নেই। এখন সারা বিশ্বে বিভিন্ন রকম শক্তির উত্থান ঘটেছে। চীনের উত্থান হয়েছে। ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। এই বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র তার পররাষ্ট্র নীতি নির্ধারণ করছে। তাদের ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র ৬০-এর দশক থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত যেভাবে আচরণ করে আসছে, সারা বিশ্বে ক্ষমতার ভারসাম্যের নতুন বাস্তবতার কারণে সেখানে পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। এর কোন বিকল্প আপাতত নেই।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘একলা চলো’ নীতির কারণে আমেরিকার নেতৃত্ব নিয়ে ইউরোপ ও নেটো বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিল। প্রেসিডেন্ট বাইডেন এখন সে অবস্থার পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন। মার্কিন মিত্ররা তাদের করণীয় নির্ধারণে ছিল রীতিমত দ্বিধাদ্ব›েদ্ব। এমতাবস্থায় জার্মানি রাশিয়ার সাথে আর ইসরাইল সম্পর্ক গড়ে তুলছিল চীনের সাথে। এরকম একটা বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি থেকে প্রেসিডেন্ট বাইডেন নিজেদের বের করে আনার চেষ্টা করছেন। হয়তো এতে কিছুটা হলেও সাফল্যও এসেছে। তবে শেষ কথা বলার সময় এখনো আসেনি।
জো বাইডেন মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রকে এখন অন্য বিষয়ে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আফগান যুদ্ধ শেষ হওয়ার কারণে আমেরিকা এখন চীন ও রাশিয়ার ব্যাপারে আরো বেশি মনোযোগ দিতে পারবে। তার ভাষায়, আমেরিকার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব আমেরিকাকে রক্ষা করা। ২০০১ সালের হুমকির বিরুদ্ধে নয়, বরং ২০২১ সাল এবং ভবিষ্যতের হুমকি মোকাবেলা করাই তার কাজ। একই সাথে আফগানিস্তানসহ অন্যান্য দেশে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের লড়াই অব্যাহত থাকবে। তবে এজন্য স্থলযুদ্ধে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না।
আসলে, প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যের সাথে বাস্তবতার সম্পর্ক নেই। তিনি আর তিন বছর থাকবেন। এর পর কী হবে কেউই জানেন না। বাকি তিন বছরে তিনি কতটুকু কী করতে পারবেন সেটাও কারো কাছেই পরিষ্কার নয়। তাহলে কী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের আগের ভূমিকা আর থাকবে না? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আগের মতোই থাকবে, তবে কৌশল ও আঙ্গিকগত পরিবর্তন আসবে অব্যশ্যই।
কুটনৈতিক বোদ্ধারা মনে করছেন, সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এখন আর নিজেকে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে রাখতে পারছে না। এর প্রয়োজনীয়তাও হয়তো শেষ হয়েছে। দেশটিকে নেতৃত্ব দিতে হবে নিজেকে আদর্শ হিসেবে উপস্থাপনের মাধ্যমে এবং তার মিত্রদের সাথে নিয়ে। গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব অব্যাহত থাকবে। তবে সেটি এককভাবে বা সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে হবে না। মূলত, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর থেকে জাতি ও রাষ্ট্র গঠনে দেশটি ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া, আফগানিস্তান-যেখানেই যুদ্ধে জড়িয়েছে তার কোনোটিতেই তারা সফল হতে পারেনি। সঙ্গত কারণেই জাতি গঠনের প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত হওয়ার যে ধারা তৈরি হয়েছিল সেখান থেকে তারা সরে আসবে। তাহলে কি সামরিক শক্তির বিচারে যুক্তরাষ্ট্রের সুপার-পাওয়ার ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে?
তবে ভিয়েতনাম যুদ্ধের পরেও এমনটিই মনে করা হয়েছিল। আরো কিছু যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার পরেও এরকম ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ইমেজ ও অবস্থার বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই ইমেজে কোনো পরিবর্তন আসবে কীনা সেটা নির্ভর করছে বিশ্ব ব্যবস্থার বাস্তবতা অনুযায়ী দেশটি তার ভূমিকা নির্ধারণ করতে পারছে কীনা তার ওপর। ফলে আপাত যুক্তরাষ্ট্রের ‘সুপার-পাওয়ার’ ইমেজ পরিবর্তনের তেমন কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
সারা বিশ্বে আমেরিকার সম্মান, নেতৃত্ব, ব্যবসা বাণিজ্য, অভিভাবকত্ব, তাদের ওপর নির্ভর করা ইউরোপ, দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা, পূর্ব এশিয়ার বহু দেশ তো তাকিয়েই থাকে আমেরিকার দিকে। আর তা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির কারণেই। এই শক্তি প্রদর্শন না করলে আন্তর্জাতিক বিশ্বে আমেরিকার সেই নেতৃত্বও থাকবে না এটাও খুবই স্বাভাবিক।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে গত ৭০ বছরে বিশ্বে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার রক্ষক হিসেবে আমেরিকার একটি একক ইমেজ তৈরি হয়েছে। এই ইমেজ রক্ষা করতে হলে দেশটিকে অবশ্যই সামরিক শক্তির মহড়া প্রদর্শন করতে হবে। অন্যথায় বিশে^ মার্কিন আধিপত্য টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দেশটিকে আগামী দিনের নীতিনির্ধারণ করতে হবে।
বস্তুত, আধিপত্য কখনো চিরস্থায়ী হয় না বরং জাতির উত্থান-পতনই চিরাচরিত নিয়ম। সে ধারাবাহিকতায় মার্কিন আধিপত্যে যে ভাটির টান পড়েছে তা নিশ্চিত করেই বলা যায়। তাই দেশটির বিদেশনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন সময়ের দাবি। যুদ্ধবাজী মনোভাবও তাদের জন্য এখন ইতিবাচক নয়।